ঢাকা ০৭:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo জামিন পেলেন এমপি ‘আমির হামজা‘ Logo প্রথমবারের মত চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ Logo ‘অক্ষত‘ মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র উদ্ধার করে নকল তৈরিতে মরিয়া ইরান Logo বিরোধীদলের ‘অস্থিরতা’ নিয়ে মন্তব্যে সংসদে উত্তাপ Logo শেরেবাংলা ছিলেন সর্বভারতীয় রাজনীতির অবিসংবাদিত নেতা: প্রধানমন্ত্রী Logo একনেক সভায় ১৫ প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ Logo সাভারে সাবরেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগে পুনরায় তদন্ত Logo প্রশাসনে বড় রদবদলঃ গুরুত্বপূর্ণ ১৫ দপ্তরে নতুন প্রধান নিয়োগ Logo দেশজুড়ে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাত: নিহত ১৩, আহত কয়েকজন Logo গুপ্ত ইস্যুতে মুখ খুললেন সর্ব মিত্র চাকমা

শতবর্ষী মাদ্রাসায় গণিতে ৫৪ শিক্ষার্থীর সবাই ফেল, কাঠগড়ায় প্রাইভেট পড়ানো শিক্ষক!

মো: আরিফ হোসেন ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর)

শিক্ষার্থীরা সারা বছর বিদ্যলয়ে ক্লাস করে আবার ভালো ফলাফলের জন্য অন্যত্র পড়ে। সারা বছর নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষকের কাছে ক্লাসে পড়া আবার একই শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ে যখন সবাই ফেল করে। তখন কার্যত শিক্ষকের পাঠদানের সক্ষমতা ও শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহনের পরিবেশ তাদের ধারন ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন আসে একই বিষয়ের ৫৪ জন শিক্ষার্থীর সবাই ফেল কি কারনে? ২০২৫ সালের বার্ষিক পরীক্ষায় ৫৪জন শিক্ষার্থীর সবাই গণিতে ফেল। এমন চ্যাঞ্চল্যকর গঠনার সাক্ষী হয়েছে ১৯০৪সালে প্রতিষ্টিত চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার শতবর্ষী প্রতিষ্টান লতিফগঞ্জ ফাজিল মাদ্রাসা। মাদ্রাসার ইতিহাসে এই প্রথম একই বিষয়ে এত শিক্ষার্থী ফেল। নবম ক্লাসের সব শিক্ষর্থী ফেলের সংবাদে শিক্ষার্থী,অভিভাবক ও শিক্ষকদের মাঝে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
অন্যদিকে একই ক্লাসের ফেল করা ৫৪জন মোট শিক্ষার্থীর সবাই প্রাইভেট করেছেন মাদ্রাসার গণিত শিক্ষক মাসুম খানের কাছে।

একাধিকবার নিবন্ধিত শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষকদের শিক্ষা প্রতিষ্টানের বাহিরে কোচিং সেন্টারে টাকার বিনিময়ে পড়াতে নিষেধ করে শান্তির বিধানের কথা বলা হয়েছে। অবৈধ কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান থাকলেও কে মানে কার কথা। শিক্ষক মাসুম খাঁন ফেল করা ৫৪জন শিক্ষার্থীর সবাইকে তার কোচিং সেন্টারে প্রতিমাসে ৮শত পাকার বিনিময়ে পড়াতেন। সারা বছর শ্রেণীকক্ষে ও গণিত শিক্ষক মাসুম খানের কোচিং সেন্টারে পড়ে সবাই ফেল করার কারনে আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দবিন্দুতে পরিনত হয়েছে শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্টানটি।
বার্ষিক পরীক্ষায় গণিতের প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে পরীক্ষার্থীরা যখন প্রশ্ন কমন পড়েনি বলে, তখন ওই শ্রেণীর গণিতের শিক্ষক মাসুম খাঁন প্রশ্নপত্র পরিবর্তন করে পরীক্ষা নেন। প্রশ্নপত্র পরিবর্তন করে পরীক্ষা নেওয়ার পরও সবাই ফেল। বিষয়টি নজরে আসার পর অভিযুক্ত শিক্ষকের বক্তব্য নিতে মাদ্রাসায় গেলে তাকে পাওয়া যায়নি, মোবাইল ফোনে শিক্ষক মাসুম খাঁন বলেন।

আমি গণিতের শিক্ষক হিসেবে কেমন তা নির্ভর করে আমার শিক্ষার্থীদের রেজাল্টের উপরে, আর কোন শিক্ষক চায়না তার শিক্ষার্থীরা ফেল করুক। এটাতো রিমোট এলাকা এখানে অধিকাংশ শিক্ষার্থী দুর্বল। আমরা যেভাবে পড়িয়েছি সেভাবে প্রশ্নে আসেনি। প্রাইভেটে মাসে ৮শত টাকা করে নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। প্রাইভেট পড়ানো বেআইনি কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান ফলাফল ভালোর জন্য প্রাইভেট পড়ানো হয়। পরীক্ষায় চাপানো প্রশ্ন পরিবর্তন করা যায় কিনা জানতে চাইলে মাসুম খাঁন বলেন যায়, আমি প্রধানেন অনুমতি নিয়ে করেছি।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আমির হোসেন দৈনিক কালবেলাকে দেওয়া ভিডিও বক্তব্যে বলেন, আমি তাকে ব্যাক্তিগতভাবে জিজ্ঞাসা করেছি, তিনি বললেন প্রশ্নের নাকি কি এ্যালোমেলো হয়েছে তাই এমন হয়েছে। আমি বলেছি আপনি এর পরিপূর্ণ জবাব দিতে হবে। আমি টি এন ও মহোদয়কে জানাব,সভাপতিকেও জানাবো। সারা বছর তারা আপনার কাছে প্রাইভেট পড়ল,ক্লাস করল, আপনি কি করলেন। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ( ফরিদগঞ্জ উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বরত) মোহাম্মদ রুহুল্লাহ বলেন, অভিযোগগুলো যদি সত্যি হয়,নির্ঘাধ অন্যায় করেছে। এবং এটা তার চাকরি বিধির পরিপন্থী। এবং প্রমানিত হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:৩৩:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
৪৫৯০ বার পড়া হয়েছে

ধানের শীষে ভোট দিন

শতবর্ষী মাদ্রাসায় গণিতে ৫৪ শিক্ষার্থীর সবাই ফেল, কাঠগড়ায় প্রাইভেট পড়ানো শিক্ষক!

আপডেট সময় ০১:৩৩:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

শিক্ষার্থীরা সারা বছর বিদ্যলয়ে ক্লাস করে আবার ভালো ফলাফলের জন্য অন্যত্র পড়ে। সারা বছর নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষকের কাছে ক্লাসে পড়া আবার একই শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ে যখন সবাই ফেল করে। তখন কার্যত শিক্ষকের পাঠদানের সক্ষমতা ও শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহনের পরিবেশ তাদের ধারন ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন আসে একই বিষয়ের ৫৪ জন শিক্ষার্থীর সবাই ফেল কি কারনে? ২০২৫ সালের বার্ষিক পরীক্ষায় ৫৪জন শিক্ষার্থীর সবাই গণিতে ফেল। এমন চ্যাঞ্চল্যকর গঠনার সাক্ষী হয়েছে ১৯০৪সালে প্রতিষ্টিত চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার শতবর্ষী প্রতিষ্টান লতিফগঞ্জ ফাজিল মাদ্রাসা। মাদ্রাসার ইতিহাসে এই প্রথম একই বিষয়ে এত শিক্ষার্থী ফেল। নবম ক্লাসের সব শিক্ষর্থী ফেলের সংবাদে শিক্ষার্থী,অভিভাবক ও শিক্ষকদের মাঝে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
অন্যদিকে একই ক্লাসের ফেল করা ৫৪জন মোট শিক্ষার্থীর সবাই প্রাইভেট করেছেন মাদ্রাসার গণিত শিক্ষক মাসুম খানের কাছে।

একাধিকবার নিবন্ধিত শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষকদের শিক্ষা প্রতিষ্টানের বাহিরে কোচিং সেন্টারে টাকার বিনিময়ে পড়াতে নিষেধ করে শান্তির বিধানের কথা বলা হয়েছে। অবৈধ কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান থাকলেও কে মানে কার কথা। শিক্ষক মাসুম খাঁন ফেল করা ৫৪জন শিক্ষার্থীর সবাইকে তার কোচিং সেন্টারে প্রতিমাসে ৮শত পাকার বিনিময়ে পড়াতেন। সারা বছর শ্রেণীকক্ষে ও গণিত শিক্ষক মাসুম খানের কোচিং সেন্টারে পড়ে সবাই ফেল করার কারনে আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দবিন্দুতে পরিনত হয়েছে শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্টানটি।
বার্ষিক পরীক্ষায় গণিতের প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে পরীক্ষার্থীরা যখন প্রশ্ন কমন পড়েনি বলে, তখন ওই শ্রেণীর গণিতের শিক্ষক মাসুম খাঁন প্রশ্নপত্র পরিবর্তন করে পরীক্ষা নেন। প্রশ্নপত্র পরিবর্তন করে পরীক্ষা নেওয়ার পরও সবাই ফেল। বিষয়টি নজরে আসার পর অভিযুক্ত শিক্ষকের বক্তব্য নিতে মাদ্রাসায় গেলে তাকে পাওয়া যায়নি, মোবাইল ফোনে শিক্ষক মাসুম খাঁন বলেন।

আমি গণিতের শিক্ষক হিসেবে কেমন তা নির্ভর করে আমার শিক্ষার্থীদের রেজাল্টের উপরে, আর কোন শিক্ষক চায়না তার শিক্ষার্থীরা ফেল করুক। এটাতো রিমোট এলাকা এখানে অধিকাংশ শিক্ষার্থী দুর্বল। আমরা যেভাবে পড়িয়েছি সেভাবে প্রশ্নে আসেনি। প্রাইভেটে মাসে ৮শত টাকা করে নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। প্রাইভেট পড়ানো বেআইনি কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান ফলাফল ভালোর জন্য প্রাইভেট পড়ানো হয়। পরীক্ষায় চাপানো প্রশ্ন পরিবর্তন করা যায় কিনা জানতে চাইলে মাসুম খাঁন বলেন যায়, আমি প্রধানেন অনুমতি নিয়ে করেছি।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আমির হোসেন দৈনিক কালবেলাকে দেওয়া ভিডিও বক্তব্যে বলেন, আমি তাকে ব্যাক্তিগতভাবে জিজ্ঞাসা করেছি, তিনি বললেন প্রশ্নের নাকি কি এ্যালোমেলো হয়েছে তাই এমন হয়েছে। আমি বলেছি আপনি এর পরিপূর্ণ জবাব দিতে হবে। আমি টি এন ও মহোদয়কে জানাব,সভাপতিকেও জানাবো। সারা বছর তারা আপনার কাছে প্রাইভেট পড়ল,ক্লাস করল, আপনি কি করলেন। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ( ফরিদগঞ্জ উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বরত) মোহাম্মদ রুহুল্লাহ বলেন, অভিযোগগুলো যদি সত্যি হয়,নির্ঘাধ অন্যায় করেছে। এবং এটা তার চাকরি বিধির পরিপন্থী। এবং প্রমানিত হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।।