মানুষের মতোই বন্ধুত্ব গড়ে শিম্পাঞ্জি, বয়স বাড়লে ছোট হয় সামাজিক বৃত্ত
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক
মানুষের মতোই শিম্পাঞ্জিরাও ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব গড়ে তোলে এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের সামাজিক বৃত্ত ছোট হয়ে আসে— এমন তথ্য উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়। গবেষকরা বলছেন, সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলা ও তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে মানুষের সঙ্গে শিম্পাঞ্জির বিস্ময়কর মিল রয়েছে।
নেদারল্যান্ডসের ইউটরেক্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্পেনের কার্লোস তৃতীয় মাদ্রিদ বিশ্ববিদ্যালয়-এর গবেষকদের পরিচালিত এ গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি বৈজ্ঞানিক সাময়িকী iScience-এ প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, শিম্পাঞ্জিরা মানুষের মতোই নির্দিষ্ট কয়েকজন সঙ্গীকে বেছে নিয়ে তাদের সঙ্গে বেশি সময় কাটায় এবং ঘনিষ্ঠ সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। গোষ্ঠীর অন্য সদস্যদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ তুলনামূলক কম থাকে। গবেষকদের মতে, এটি মানুষের বন্ধুবৃত্ত গঠনের প্রবণতার সঙ্গে বেশ মিল রাখে।
গবেষণার অংশ হিসেবে শিম্পাঞ্জির পাশাপাশি বোনোবোদের সামাজিক আচরণও বিশ্লেষণ করা হয়। বিজ্ঞানীরা তাদের পারস্পরিক যোগাযোগ, পরিচ্ছন্নতা রক্ষা এবং সামাজিক মেলামেশার ধরন দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করেন। বিশেষ করে ‘সামাজিক গ্রুমিং’ বা একে অপরের পরিচর্যার মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করা হয়।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, বড় গোষ্ঠীতে বসবাসকারী শিম্পাঞ্জিরা বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি বাছাইপ্রবণ। তারা অল্প কয়েকজনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে। অন্যদিকে বোনোবোরা গোষ্ঠীর অধিকাংশ সদস্যের সঙ্গে প্রায় সমানভাবে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করে, ফলে তাদের সামাজিক কাঠামো তুলনামূলক বেশি সমতাভিত্তিক।
বিজ্ঞানীরা আরও লক্ষ্য করেছেন, মানুষের মতো শিম্পাঞ্জিদের ক্ষেত্রেও বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুর সংখ্যা কমে আসে এবং তারা সামাজিক মেলামেশা সীমিত করে ফেলে। তবে বোনোবোদের মধ্যে এই প্রবণতা তুলনামূলক কম দেখা যায়।
গবেষণার নেতৃত্বদানকারী গবেষক এডউইন ভান লিউয়েন বলেন, সামাজিক বন্ধন ও সম্পর্ক গড়ে তোলার মৌলিক নিয়ম বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে অনেকটাই একরকম। এ ধরনের মিল জটিল সামাজিক ব্যবস্থার বিকাশে বিবর্তনের ধারাবাহিকতাকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
গবেষকদের মতে, শিম্পাঞ্জি ও বোনোবোদের সামাজিক আচরণ বিশ্লেষণ মানুষের সামাজিক সম্পর্কের বিবর্তন ও বিকাশ সম্পর্কে নতুন ধারণা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিকতা শুধু মানুষের বৈশিষ্ট্য নয়; বরং এর শিকড় বহু পুরোনো বিবর্তনীয় ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।