হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে যে ৫ অভ্যাসের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
নিজস্ব সংবাদ :
বিশ্বজুড়ে প্রতিদিনই হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকে বহু মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে শরীরে আগাম কিছু সতর্ক সংকেত দেখা দিলেও তা উপেক্ষা করার কারণে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়। তাই হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের হার্ট ফাউন্ডেশনের বোর্ড-সার্টিফায়েড হার্ট সার্জন ডা. জেরেমি লন্ডন হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন।
ধূমপান সম্পূর্ণ বর্জন
হৃদযন্ত্রের সুস্থতার জন্য ধূমপান পুরোপুরি ত্যাগ করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। তার মতে, সিগারেট, ভ্যাপিংসহ যেকোনো ধরনের তামাকজাত পণ্য হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা
অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরল হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ। তাই নিয়মিত কোলেস্টেরল পরীক্ষা করার পাশাপাশি অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি (ApoB) এবং লিপোপ্রোটিন (এ) বা Lp(a)-এর মাত্রাও পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন তিনি। এসব উপাদানের মাত্রা বেশি হলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা
উচ্চ রক্তচাপ হৃদযন্ত্র ও রক্তনালির জন্য বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করে। ডা. জেরেমির মতে, নিয়মিত রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ করলে ঝুঁকি আগেভাগেই শনাক্ত করা সম্ভব। প্রয়োজনে বাড়িতে রক্তচাপ মাপার যন্ত্র রাখারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। তার মতে, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সসহ নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্ব
ডা. জেরেমি লন্ডনের মতে, এসব অভ্যাস নিয়মিত অনুসরণ করলে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তিনি বলেন, নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা এবং জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার মাধ্যমেই দীর্ঘদিন হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখা সম্ভব।
বিঃদ্রঃ এ তথ্য সাধারণ স্বাস্থ্যসচেতনতার উদ্দেশ্যে। কারও বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, বাম হাত বা চোয়ালে ব্যথার মতো হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে বা জরুরি চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করা উচিত।