দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি বাড়াতে পারে ক্যানসারের ঝুঁকি, বলছে গবেষণা
নিজস্ব সংবাদ :
সুস্থ শরীর ও মানসিক প্রশান্তির জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে তা শুধু ক্লান্তি বা মনোযোগের সমস্যাই তৈরি করে না, বরং কম বয়সীদের মধ্যে কিছু ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। গবেষকদের মতে, নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
সম্প্রতি American Society of Clinical Oncology-এর জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি অনিদ্রা, অনিয়মিত ঘুম বা নিম্নমানের ঘুম শরীরের স্বাভাবিক কোষ মেরামত প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে।
গবেষণায় বলা হয়, ঘুমের সময় শরীরে টিস্যু পুনর্গঠন, হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। কিন্তু নিয়মিত ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে এসব প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
গবেষকদের মতে, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের প্রবণতা বাড়তে পারে। এ ধরনের প্রদাহ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং কয়েক ধরনের ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে আগের বিভিন্ন গবেষণায়ও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘুমের অভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে অস্বাভাবিক কোষগুলোকে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত ও ধ্বংস করার সক্ষমতা কমে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার, ব্যস্ত কর্মজীবন, মানসিক চাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ সময় কাটানো এবং অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে বর্তমানে ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে অনিদ্রার সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নারীদের ক্ষেত্রে ঘুমের ঘাটতির প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে। ঋতুস্রাব, গর্ভাবস্থা, পেরিমেনোপজ ও মেনোপজের সময় হরমোনগত পরিবর্তনের কারণে তাদের ঘুমের মান প্রভাবিত হয়। এছাড়া নারীদের মধ্যে অনিদ্রা ও অন্যান্য ঘুমজনিত সমস্যার হারও পুরুষদের তুলনায় বেশি।
তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, অনিদ্রা সরাসরি ক্যানসারের কারণ—এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। বরং ঘুমের ঘাটতি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ানোর একটি সম্ভাব্য সহায়ক কারণ হতে পারে। এ গবেষণা মূলত ঘুম ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের মধ্যকার গভীর সম্পর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রতিদিন পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি। দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যায় ভুগলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।