ঢাকা ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo আগামী অর্থবছরের মধ্যে ৮ বিভাগে ক্যানসার হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ সেবা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী Logo প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত Logo অটোরিকশা বন্ধ নয়, ডিজিটাল নিবন্ধন ও ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবক নিহত, আহত ১ Logo এসবি কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যা: প্রধান আসামি জহুরুলের ৫ দিনের রিমান্ড Logo বাল্যবিবাহ কোনো সমস্যার সমাধান নয়, বরং বড় সংকটের জন্ম দেয়: মাহ্দী আমিন Logo কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন পাসের পরিণতি শুভ হবে না: গোলাম পরওয়ার Logo পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় অভিযান, ৯০ হাজার ইয়াবা ও ৩৬ লাখ টাকাসহ আটক ৩ Logo এলজিইডির উন্নয়ন কার্যক্রম ও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন নিয়ে কর্মশালা Logo সালমান শাহর মৃত্যুবার্ষিকীতে দীপ্ত টিভিতে সাত দিনের বিশেষ আয়োজন

বাল্যবিবাহ কোনো সমস্যার সমাধান নয়, বরং বড় সংকটের জন্ম দেয়: মাহ্দী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাল্যবিবাহ কোনো সমস্যার সমাধান নয়, বরং এটি সামাজিক সংকট সৃষ্টি করে এবং নারীর বিকাশে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

সোমবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশে বাল্য ও জোরপূর্বক বিবাহ প্রতিরোধ এবং মেয়েশিশুদের অধিকার রক্ষায় সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের লক্ষ্যে অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ‘চাইল্ড, নট ব্রাইড’ শীর্ষক ক্যাম্পেইন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, অনেক পরিবার মনে করে অল্প বয়সে মেয়েকে বিয়ে দিলে হয়তো সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাল্যবিবাহ বরং আরও বড় সংকটের জন্ম দেয়।

তিনি বলেন, দারিদ্র্য কোনোভাবেই কোনো শিশুর শৈশব ও শিক্ষাজীবন কেড়ে নেওয়ার অজুহাত হতে পারে না। পরিবারের কন্যাসন্তানকে সুরক্ষা ও মর্যাদার সঙ্গে যথাযথভাবে বড় করে তুলতে পারলে একসময় সেই সন্তানই পরিবারের সবচেয়ে বড় ভরসা ও আস্থার জায়গা হয়ে উঠতে পারে।

মাহ্দী আমিন বলেন, পরিবর্তিত বাংলাদেশে নারীরা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক এসএসসি পরীক্ষার ফলেও তার প্রতিফলন দেখা গেছে। মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও উন্নয়ন সংস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে।

সরকার এমন একটি সাম্য ও নিরাপত্তার সমাজ গড়তে চায়, যেখানে মেয়েরা সুশিক্ষা ও সমঅধিকার পেয়ে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে এবং কন্যাশিশুকে বোঝা নয়, সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নারী শিক্ষার প্রসারে অতীতে বিএনপি সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলেই মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু হয়েছিল। বর্তমান নির্বাচিত সরকার তা স্নাতকোত্তর পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার ঘোষণা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্বতন্ত্র নারী মন্ত্রণালয় গঠন এবং তৈরি পোশাক খাতের মাধ্যমে লাখ লাখ নারীর কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরিতেও বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনজন মানুষ—মা, স্ত্রী ও কন্যা—তিনজনই নারী বলে গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন।

বাল্যবিবাহ রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, অনেকেই না বুঝে বাল্যবিবাহকে ‘শুভ কাজ’ মনে করে একটি মেয়ের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দেন। এ ব্যাধি দূর করতে গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

তিনি জানান, মায়েদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়াতে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে, যার মাধ্যমে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক স্তরে মিড-ডে মিল, স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া এসএসসি পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাহ্দী আমিন বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী। তাই বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে হলে মা, বোন ও কন্যাদের অধিকারকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিতে হবে।

রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক বৈষম্য ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে কন্যাসন্তানরা বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি একটি মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন, যেখানে নারীরা পূর্ণ সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবেন।

বাল্যবিবাহের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দরিদ্র পরিবারের অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক চাপ এবং বিদ্যালয় থেকে মেয়েদের ঝরে পড়া বাল্যবিবাহের অন্যতম প্রধান কারণ। অঞ্চলভিত্তিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর নীতিমালা ও সামাজিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

বয়স বাড়িয়ে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে দেওয়ার প্রবণতারও কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। মাহ্দী আমিন বলেন, যে বয়সে একটি কন্যাশিশুর হাতে খাতা-কলম থাকার কথা, সেই বয়সে তাকে বিয়ের পিঁড়িতে বসানো সম্পূর্ণ বেআইনি ও অগ্রহণযোগ্য।

তিনি বলেন, শৈশব প্রতিটি শিশুর জন্মগত অধিকার। কোনো অর্থনৈতিক সংকট বা সামাজিক চাপ যেন কোনো মেয়ের স্বপ্ন ও শৈশবকে বাল্যবিবাহের অন্ধকূপে ঠেলে না দেয়, সে জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্রানসেন, বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. আল মামুন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ডেপুটি ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) নীলিমা ইয়াসমিনসহ সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক, সাংবাদিক ও ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটররা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে তৈরি গান, ভিডিও এবং পাবলিক সার্ভিস অ্যানাউন্সমেন্ট প্রদর্শন করা হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:০৮:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪৫১২ বার পড়া হয়েছে

বাল্যবিবাহ কোনো সমস্যার সমাধান নয়, বরং বড় সংকটের জন্ম দেয়: মাহ্দী আমিন

আপডেট সময় ১০:০৮:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাল্যবিবাহ কোনো সমস্যার সমাধান নয়, বরং এটি সামাজিক সংকট সৃষ্টি করে এবং নারীর বিকাশে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

সোমবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশে বাল্য ও জোরপূর্বক বিবাহ প্রতিরোধ এবং মেয়েশিশুদের অধিকার রক্ষায় সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের লক্ষ্যে অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ‘চাইল্ড, নট ব্রাইড’ শীর্ষক ক্যাম্পেইন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, অনেক পরিবার মনে করে অল্প বয়সে মেয়েকে বিয়ে দিলে হয়তো সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাল্যবিবাহ বরং আরও বড় সংকটের জন্ম দেয়।

তিনি বলেন, দারিদ্র্য কোনোভাবেই কোনো শিশুর শৈশব ও শিক্ষাজীবন কেড়ে নেওয়ার অজুহাত হতে পারে না। পরিবারের কন্যাসন্তানকে সুরক্ষা ও মর্যাদার সঙ্গে যথাযথভাবে বড় করে তুলতে পারলে একসময় সেই সন্তানই পরিবারের সবচেয়ে বড় ভরসা ও আস্থার জায়গা হয়ে উঠতে পারে।

মাহ্দী আমিন বলেন, পরিবর্তিত বাংলাদেশে নারীরা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক এসএসসি পরীক্ষার ফলেও তার প্রতিফলন দেখা গেছে। মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও উন্নয়ন সংস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে।

সরকার এমন একটি সাম্য ও নিরাপত্তার সমাজ গড়তে চায়, যেখানে মেয়েরা সুশিক্ষা ও সমঅধিকার পেয়ে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে এবং কন্যাশিশুকে বোঝা নয়, সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নারী শিক্ষার প্রসারে অতীতে বিএনপি সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলেই মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু হয়েছিল। বর্তমান নির্বাচিত সরকার তা স্নাতকোত্তর পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার ঘোষণা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্বতন্ত্র নারী মন্ত্রণালয় গঠন এবং তৈরি পোশাক খাতের মাধ্যমে লাখ লাখ নারীর কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরিতেও বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনজন মানুষ—মা, স্ত্রী ও কন্যা—তিনজনই নারী বলে গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন।

বাল্যবিবাহ রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, অনেকেই না বুঝে বাল্যবিবাহকে ‘শুভ কাজ’ মনে করে একটি মেয়ের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দেন। এ ব্যাধি দূর করতে গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

তিনি জানান, মায়েদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়াতে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে, যার মাধ্যমে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক স্তরে মিড-ডে মিল, স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া এসএসসি পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাহ্দী আমিন বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী। তাই বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে হলে মা, বোন ও কন্যাদের অধিকারকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিতে হবে।

রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক বৈষম্য ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে কন্যাসন্তানরা বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি একটি মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন, যেখানে নারীরা পূর্ণ সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবেন।

বাল্যবিবাহের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দরিদ্র পরিবারের অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক চাপ এবং বিদ্যালয় থেকে মেয়েদের ঝরে পড়া বাল্যবিবাহের অন্যতম প্রধান কারণ। অঞ্চলভিত্তিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর নীতিমালা ও সামাজিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

বয়স বাড়িয়ে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে দেওয়ার প্রবণতারও কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। মাহ্দী আমিন বলেন, যে বয়সে একটি কন্যাশিশুর হাতে খাতা-কলম থাকার কথা, সেই বয়সে তাকে বিয়ের পিঁড়িতে বসানো সম্পূর্ণ বেআইনি ও অগ্রহণযোগ্য।

তিনি বলেন, শৈশব প্রতিটি শিশুর জন্মগত অধিকার। কোনো অর্থনৈতিক সংকট বা সামাজিক চাপ যেন কোনো মেয়ের স্বপ্ন ও শৈশবকে বাল্যবিবাহের অন্ধকূপে ঠেলে না দেয়, সে জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্রানসেন, বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. আল মামুন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ডেপুটি ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) নীলিমা ইয়াসমিনসহ সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক, সাংবাদিক ও ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটররা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে তৈরি গান, ভিডিও এবং পাবলিক সার্ভিস অ্যানাউন্সমেন্ট প্রদর্শন করা হয়।