ঢাকা ০১:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সাজেকে দুই আঞ্চলিক দলের সশস্ত্র সংঘর্ষ, আতঙ্কে পর্যটক ও স্থানীয়রা Logo খুলনায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের বহরে ককটেল নিক্ষেপ, আতঙ্কে ছুটোছুটি Logo ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে মিরপুর-আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ, ৩০ কারখানায় ছুটি Logo হেমন্তে আবহাওয়া পরিবর্তনে বাড়ছে অসুস্থতার ঝুঁকি, সুস্থ থাকতে মানতে হবে যেসব সতর্কতা Logo ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমল স্বর্ণের দাম Logo ৯ মাস পর অভিনয়ে ফিরলেন তানিয়া বৃষ্টি Logo এইচএসসির ফলাফলে দেশসেরা আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ Logo তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় দীপের চার দিনের রিমান্ড Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: শফিকুর রহমান Logo প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ফলপ্রসূ, এক লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা

খুব শিগগিরই লোডশেডিং অনেকটাই কমবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে চলমান লোডশেডিং খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে বেশ খানিকটা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সৃষ্ট লোডশেডিংয়ের চাপ এবার শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে এবং বর্তমানে যে পরিমাণ লোডশেডিং রয়েছে, তা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে সরকার আশা করছে।

তিনি বলেন, ঢাকায় বসবাসকারীরা সাম্প্রতিক সময়ে যে মাত্রার লোডশেডিং দেখছেন, অতীতে তা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। আগে ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গ্রামাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকায় তুলনামূলক বেশি লোডশেডিং দেওয়া হতো। তবে বর্তমান সরকার সংকটের বোঝা সবাইকে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বড় শহরগুলোতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বেশি হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে সাধারণত একটি নীতিগত অগ্রাধিকার থাকে। তবে শুধু শহরে প্রভাবশালী বা ক্ষমতাবান মানুষ বসবাস করেন বলে সেখানে বেশি বিদ্যুৎ দেওয়ার নীতি সরকার গ্রহণ করেনি।

তিনি বলেন, সংকটের সময়ে সবাইকে এর কষ্ট ভাগ করে নিতে হবে। এ কারণেই বর্তমানে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে।

অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ’ সরবরাহের যে দাবি করা হয়েছিল, সে সময় প্রকৃতপক্ষে কী পরিমাণ লোডশেডিং হয়েছে, তার তথ্যও প্রকাশ করা হবে বলে জানান জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহে এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিকদের দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। ওই সময় কত মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল এবং কতটা লোডশেডিং হয়েছে, সে তথ্য তুলে ধরা হবে। তার দাবি, সে সময় লোডশেডিংয়ের বড় অংশ গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম, সঞ্চালন গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং দ্রুত বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মানুষের অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়ার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তুলনামূলকভাবে এ চাহিদা কম ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা এড়াতে ঢাকা শহরের ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় প্রয়োজনীয় মাত্রায় লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে।

সাশ্রয় করা বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তার মতে, এর ফলে ঢাকার বাইরে শিল্প-কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহক শ্রেণিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ের চাপও কমছে। এতে সামগ্রিকভাবে লোডশেডিংয়ের বোঝা তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে বণ্টন করা সম্ভব হচ্ছে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশ বর্তমানে একটি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এর কষ্ট সবাইকে কমবেশি বহন করতে হবে। তবে এ পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় স্থায়ী হবে বলে সরকার মনে করে না এবং সংকট সমাধানে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা। একই সঙ্গে ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার চলাচল ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নীতিমালা তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৬:২০:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪৫৬১ বার পড়া হয়েছে

খুব শিগগিরই লোডশেডিং অনেকটাই কমবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৬:২০:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে চলমান লোডশেডিং খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে বেশ খানিকটা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সৃষ্ট লোডশেডিংয়ের চাপ এবার শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে এবং বর্তমানে যে পরিমাণ লোডশেডিং রয়েছে, তা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে সরকার আশা করছে।

তিনি বলেন, ঢাকায় বসবাসকারীরা সাম্প্রতিক সময়ে যে মাত্রার লোডশেডিং দেখছেন, অতীতে তা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। আগে ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গ্রামাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকায় তুলনামূলক বেশি লোডশেডিং দেওয়া হতো। তবে বর্তমান সরকার সংকটের বোঝা সবাইকে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বড় শহরগুলোতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বেশি হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে সাধারণত একটি নীতিগত অগ্রাধিকার থাকে। তবে শুধু শহরে প্রভাবশালী বা ক্ষমতাবান মানুষ বসবাস করেন বলে সেখানে বেশি বিদ্যুৎ দেওয়ার নীতি সরকার গ্রহণ করেনি।

তিনি বলেন, সংকটের সময়ে সবাইকে এর কষ্ট ভাগ করে নিতে হবে। এ কারণেই বর্তমানে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে।

অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ’ সরবরাহের যে দাবি করা হয়েছিল, সে সময় প্রকৃতপক্ষে কী পরিমাণ লোডশেডিং হয়েছে, তার তথ্যও প্রকাশ করা হবে বলে জানান জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহে এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিকদের দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। ওই সময় কত মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল এবং কতটা লোডশেডিং হয়েছে, সে তথ্য তুলে ধরা হবে। তার দাবি, সে সময় লোডশেডিংয়ের বড় অংশ গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম, সঞ্চালন গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং দ্রুত বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মানুষের অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়ার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তুলনামূলকভাবে এ চাহিদা কম ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা এড়াতে ঢাকা শহরের ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় প্রয়োজনীয় মাত্রায় লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে।

সাশ্রয় করা বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তার মতে, এর ফলে ঢাকার বাইরে শিল্প-কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহক শ্রেণিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ের চাপও কমছে। এতে সামগ্রিকভাবে লোডশেডিংয়ের বোঝা তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে বণ্টন করা সম্ভব হচ্ছে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশ বর্তমানে একটি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এর কষ্ট সবাইকে কমবেশি বহন করতে হবে। তবে এ পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় স্থায়ী হবে বলে সরকার মনে করে না এবং সংকট সমাধানে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা। একই সঙ্গে ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার চলাচল ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নীতিমালা তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে বলেও জানান তিনি।