তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে সাংবাদিকের ওপর হামলা
অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহকালে হামলার অভিযোগ, রোববারের মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি
ঢাকার তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে অনিয়ম, ঘুষ-দুর্নীতি ও নিয়োগপত্রহীন ব্যক্তিদের অবৈধভাবে কাজ করার অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক মো. রফিকুল ইসলাম গাজী (জি এম রফিক)। গত ৯ সেপ্টেম্বর পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), খুলনা বিভাগীয় সাংবাদিক ফোরামসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম সংগঠন। হামলায় জড়িতদের আগামী রোববারের মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, তেজগাঁও ও মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এবং প্রধান রেকর্ড রুমে সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে অর্ধশতাধিক দালালের একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় নিয়োগপত্র ছাড়াই ৩০ থেকে ৪০ জন ব্যক্তি সরকারি বালাম বই ও ভলিউম তল্লাশির কাজে যুক্ত রয়েছেন। এতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হওয়ার পাশাপাশি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ও গোপনীয় দলিলের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ ছাড়া খিলগাঁও সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন আবদুল্লাহ ও মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রার আবদুল কাদিরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন এবং ‘টার্গেট’ নির্ধারণ করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে আইন মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধান করতে তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে যান সাংবাদিক জি এম রফিক। সেখানে তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় দেওয়া অভিযোগে ব্লেট আওলাদ, পটু রাসেল, ইয়াবা রাসেল, মাতাল কামাল, ট্যাবলেট হামিদ ও ব্লেট রাজিবসহ কয়েকজন উমেদারের জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন। ১০ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।
অন্যদিকে খুলনা বিভাগীয় সাংবাদিক ফোরামও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
সাংবাদিক নেতারা জানিয়েছেন, আগামী রোববারের মধ্যে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো বলছে, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি।

























