ঢাকা ১২:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo আগস্টে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার ২৫২ জন Logo বাড়ছে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্তের সংখ্যা, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন Logo আজ শুভ জন্মাষ্টমী, দেশজুড়ে নানা আয়োজনে শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি উদযাপন Logo জ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে ৩৫ হাজার কোটি টাকা Logo দুই দিনের ব্যবধানে সবজির দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে Logo নেপালে বন্যার ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার দুই শ্রমিক Logo পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী Logo গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ Logo দূষণের দায়ে ভারত-চিন-আমেরিকার কাছে ক্ষতিপূরণ চাইতে পারে নেপাল Logo কয়লা পরিবহন সংকটে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়েছে আদানির গড্ডা কেন্দ্র

জ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে ৩৫ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক বাজারে তেল, গ্যাস ও কয়লার দাম বর্তমান পর্যায়ে থাকলে চলতি বছর বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৮০ কোটি মার্কিন ডলার বা ৩৫ হাজার কোটি টাকা বাড়তে পারে। এতে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার পাশাপাশি টাকার ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে। আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে এ ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা জিরো কার্বন অ্যানালিটিকসের (জেডসিএ) গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি ব্যয় ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়তে পারে। বাড়তি এই ব্যয় দেশের বাণিজ্য ঘাটতির প্রায় ১০ শতাংশের সমান।

জেডসিএর হিসাবে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির বর্তমান দাম অব্যাহত থাকলে আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা ৫ দশমিক ৭ মাস থেকে কমে ৫ দশমিক ২ মাসে নেমে আসতে পারে। অন্যদিকে জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত যে অর্থ ব্যয় হতে পারে, তা দিয়ে প্রায় ৮ গিগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা সম্ভব। এই সক্ষমতা দেশের বর্তমান প্রায় ৩২ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ২৫ শতাংশ।

এলএনজি আমদানি কমলেও ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের এলএনজি আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছে। তবে জুলাই ও আগস্টে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সরবরাহ বিঘ্নের কারণে আমদানি কমেছে সবচেয়ে বেশি—প্রায় ৮৩ শতাংশ।

জেডসিএর তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে বাংলাদেশ প্রায় ৬ লাখ ৩০ হাজার টন এলএনজি আমদানি করলেও আগস্টে তা নেমে আসে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টনে। তবে আমদানি কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেশি থাকায় মোট আমদানি ব্যয় কমছে না; বরং বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৬৪ শতাংশ গ্যাসনির্ভর। ফলে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও সরাসরি প্রভাব পড়ে। গত ১১ আগস্ট দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঘাটতি ৩ হাজার ৫৯২ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল, যা ওই সময়ের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ।

গ্যাস সংকটে শিল্প ও কৃষি খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জেডসিএর তথ্য অনুযায়ী, দেশের সাতটি বড় সার কারখানার ছয়টি গ্যাসের অপর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে বন্ধ রয়েছে অথবা সীমিত সক্ষমতায় উৎপাদন করছে। সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের কয়েকটি কারখানায় উৎপাদন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

চুক্তি থাকলেও সরবরাহের নিশ্চয়তা নেই

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের বড় দুর্বলতা আমদানিনির্ভরতা বলে মনে করছে জেডসিএ। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৩ সালে দেশের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ৪৬ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৬৫ শতাংশের সঙ্গে আমদানিনির্ভর জ্বালানি যুক্ত ছিল।

২০২৫ সালে বাংলাদেশের এলএনজি সরবরাহের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে এসেছে। ফলে ওই পথে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় চলতি বছর জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

সংকট সামাল দিতে স্পট মার্কেটসহ বিভিন্ন উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহ করছে বাংলাদেশ। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের জন্য দুটি স্পট কার্গো অনুমোদনের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও ওমানের সরবরাহকারীদের কাছ থেকে আরও আটটি কার্গো সংগ্রহ করা হয়েছে। ভারত থেকে অতিরিক্ত ডিজেলও চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৬ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১১৭টি এলএনজি কার্গো কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। তবে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকলেই সরবরাহের ঝুঁকি দূর হয় না বলে মনে করছে জেডসিএ। বর্তমান সংকটের মধ্যে বাংলাদেশের তিনটি বড় এলএনজি সরবরাহকারী চুক্তির আওতায় সরবরাহের ক্ষেত্রে ফোর্স মেজর ঘোষণা করেছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের পরামর্শ

চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকির হোসেন খান বলেন, এলএনজি বাংলাদেশের জ্বালানি স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে না। বৈশ্বিক সংকটের সময় সরবরাহ চুক্তি থাকলেও নির্ধারিত সময়ে গ্যাস দেশে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা থাকে না। অথচ এ ধরনের জ্বালানির ব্যয় বাড়তেই থাকে।

তিনি বলেন, এলএনজিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থায় ঝুঁকি বেশি। তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে, বিশেষ করে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ বাড়ানো দরকার।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) বাংলাদেশের প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ানো বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের দুর্বলতার টেকসই সমাধান নয়।

তার হিসাবে, পরিকল্পিত নতুন এলএনজি টার্মিনালগুলো চালু হলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের এলএনজি আমদানি ৭০০ বিলিয়ন ঘনফুট ছাড়িয়ে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারদরের ওপর নির্ভর করে এতে বছরে ৮৫০ কোটি থেকে ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।

শফিকুল আলম বলেন, এর ফলে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়বে এবং শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমবে। কিন্তু দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়বে না।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:৩১:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪৫০৭ বার পড়া হয়েছে

জ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে ৩৫ হাজার কোটি টাকা

আপডেট সময় ১২:৩১:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাজারে তেল, গ্যাস ও কয়লার দাম বর্তমান পর্যায়ে থাকলে চলতি বছর বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৮০ কোটি মার্কিন ডলার বা ৩৫ হাজার কোটি টাকা বাড়তে পারে। এতে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার পাশাপাশি টাকার ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে। আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে এ ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা জিরো কার্বন অ্যানালিটিকসের (জেডসিএ) গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি ব্যয় ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়তে পারে। বাড়তি এই ব্যয় দেশের বাণিজ্য ঘাটতির প্রায় ১০ শতাংশের সমান।

জেডসিএর হিসাবে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির বর্তমান দাম অব্যাহত থাকলে আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা ৫ দশমিক ৭ মাস থেকে কমে ৫ দশমিক ২ মাসে নেমে আসতে পারে। অন্যদিকে জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত যে অর্থ ব্যয় হতে পারে, তা দিয়ে প্রায় ৮ গিগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা সম্ভব। এই সক্ষমতা দেশের বর্তমান প্রায় ৩২ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ২৫ শতাংশ।

এলএনজি আমদানি কমলেও ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের এলএনজি আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছে। তবে জুলাই ও আগস্টে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সরবরাহ বিঘ্নের কারণে আমদানি কমেছে সবচেয়ে বেশি—প্রায় ৮৩ শতাংশ।

জেডসিএর তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে বাংলাদেশ প্রায় ৬ লাখ ৩০ হাজার টন এলএনজি আমদানি করলেও আগস্টে তা নেমে আসে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টনে। তবে আমদানি কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেশি থাকায় মোট আমদানি ব্যয় কমছে না; বরং বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৬৪ শতাংশ গ্যাসনির্ভর। ফলে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও সরাসরি প্রভাব পড়ে। গত ১১ আগস্ট দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঘাটতি ৩ হাজার ৫৯২ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল, যা ওই সময়ের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ।

গ্যাস সংকটে শিল্প ও কৃষি খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জেডসিএর তথ্য অনুযায়ী, দেশের সাতটি বড় সার কারখানার ছয়টি গ্যাসের অপর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে বন্ধ রয়েছে অথবা সীমিত সক্ষমতায় উৎপাদন করছে। সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের কয়েকটি কারখানায় উৎপাদন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

চুক্তি থাকলেও সরবরাহের নিশ্চয়তা নেই

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের বড় দুর্বলতা আমদানিনির্ভরতা বলে মনে করছে জেডসিএ। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৩ সালে দেশের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ৪৬ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৬৫ শতাংশের সঙ্গে আমদানিনির্ভর জ্বালানি যুক্ত ছিল।

২০২৫ সালে বাংলাদেশের এলএনজি সরবরাহের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে এসেছে। ফলে ওই পথে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় চলতি বছর জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

সংকট সামাল দিতে স্পট মার্কেটসহ বিভিন্ন উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহ করছে বাংলাদেশ। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের জন্য দুটি স্পট কার্গো অনুমোদনের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও ওমানের সরবরাহকারীদের কাছ থেকে আরও আটটি কার্গো সংগ্রহ করা হয়েছে। ভারত থেকে অতিরিক্ত ডিজেলও চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৬ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১১৭টি এলএনজি কার্গো কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। তবে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকলেই সরবরাহের ঝুঁকি দূর হয় না বলে মনে করছে জেডসিএ। বর্তমান সংকটের মধ্যে বাংলাদেশের তিনটি বড় এলএনজি সরবরাহকারী চুক্তির আওতায় সরবরাহের ক্ষেত্রে ফোর্স মেজর ঘোষণা করেছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের পরামর্শ

চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকির হোসেন খান বলেন, এলএনজি বাংলাদেশের জ্বালানি স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে না। বৈশ্বিক সংকটের সময় সরবরাহ চুক্তি থাকলেও নির্ধারিত সময়ে গ্যাস দেশে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা থাকে না। অথচ এ ধরনের জ্বালানির ব্যয় বাড়তেই থাকে।

তিনি বলেন, এলএনজিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থায় ঝুঁকি বেশি। তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে, বিশেষ করে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ বাড়ানো দরকার।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) বাংলাদেশের প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ানো বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের দুর্বলতার টেকসই সমাধান নয়।

তার হিসাবে, পরিকল্পিত নতুন এলএনজি টার্মিনালগুলো চালু হলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের এলএনজি আমদানি ৭০০ বিলিয়ন ঘনফুট ছাড়িয়ে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারদরের ওপর নির্ভর করে এতে বছরে ৮৫০ কোটি থেকে ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।

শফিকুল আলম বলেন, এর ফলে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়বে এবং শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমবে। কিন্তু দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়বে না।