ঢাকা ০৫:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চার সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে ঢাকায় ভারতের ‘র’ প্রধান পরাগ জৈন Logo সব মামলায় জামিন পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক, মুক্তিতে বাধা নেই Logo উত্তরার বিমানবন্দর সড়কে পেট্রোল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ছিনতাই, মামলা দায়ের Logo মন্ত্রিসভায় মানবাধিকার কমিশন ও ব্যাংক রেজল্যুশন আইন এবং ভিসা নীতিমালার খসড়া অনুমোদন Logo জাতীয়করণ হওয়া ৬৯০ শিক্ষককে সপ্তম গ্রেড দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের Logo চাষের মাছে কাদা-কাদা গন্ধ কেন? Logo মোবাইল না দেখলে খেতে চায় না শিশু? যেভাবে বদলাবেন অভ্যাস Logo এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, গড় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ Logo মাড়ি থেকে রক্ত পড়া কি হৃদ্‌রোগের ঝুঁকির ইঙ্গিত? Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ব্যাংকিং খাত শক্তিশালী করতে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

নিজস্ব প্রতিনিধি

দেশের ব্যাংকিং খাতের ভিত্তি মজবুত করা, আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করতে ৪৫ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক।

বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘আর্থিক খাত সহায়তা প্রকল্প-২’-এর আওতায় ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষায় আমানত বীমা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনা উন্নত করা হবে।

প্রকল্পটির মাধ্যমে ব্যাংক পুনর্গঠন ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সংস্কারের ভিত্তি তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে আমানত সুরক্ষা তহবিলের মূলধন বৃদ্ধি, আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, জরুরি তারল্য সহায়তা কাঠামো গঠন, ব্যাংক পুনর্গঠন কৌশল প্রণয়ন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কারে সহায়তা দেওয়া হবে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে দেশে খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার গড় ৭ দশমিক ৯ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধনের অনুপাত ছিল ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, বাংলাদেশের এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে একটি স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক খাত অপরিহার্য। তবে দেশের আর্থিক খাতের মোট সম্পদের প্রায় ৯০ শতাংশ ধারণকারী ব্যাংকিং খাত বর্তমানে উল্লেখযোগ্য চাপের মধ্যে রয়েছে।

তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা, আস্থা পুনরুদ্ধার এবং ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, প্রযুক্তি ও সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা হবে। এর ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা, তথ্য ও বিশ্লেষণসংক্রান্ত ঘাটতি দূরীকরণ, ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ এবং তথ্যভিত্তিক তদারকি কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ আর্থিক খাত বিশেষজ্ঞ তোশিয়াকি ওনো বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই প্রকল্প ব্যাংকিং খাতে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:১৩:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
৪৫৪৩ বার পড়া হয়েছে

ব্যাংকিং খাত শক্তিশালী করতে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

আপডেট সময় ০৯:১৩:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

দেশের ব্যাংকিং খাতের ভিত্তি মজবুত করা, আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করতে ৪৫ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক।

বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘আর্থিক খাত সহায়তা প্রকল্প-২’-এর আওতায় ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষায় আমানত বীমা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনা উন্নত করা হবে।

প্রকল্পটির মাধ্যমে ব্যাংক পুনর্গঠন ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সংস্কারের ভিত্তি তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে আমানত সুরক্ষা তহবিলের মূলধন বৃদ্ধি, আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, জরুরি তারল্য সহায়তা কাঠামো গঠন, ব্যাংক পুনর্গঠন কৌশল প্রণয়ন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কারে সহায়তা দেওয়া হবে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে দেশে খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার গড় ৭ দশমিক ৯ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধনের অনুপাত ছিল ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, বাংলাদেশের এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে একটি স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক খাত অপরিহার্য। তবে দেশের আর্থিক খাতের মোট সম্পদের প্রায় ৯০ শতাংশ ধারণকারী ব্যাংকিং খাত বর্তমানে উল্লেখযোগ্য চাপের মধ্যে রয়েছে।

তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা, আস্থা পুনরুদ্ধার এবং ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, প্রযুক্তি ও সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা হবে। এর ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা, তথ্য ও বিশ্লেষণসংক্রান্ত ঘাটতি দূরীকরণ, ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ এবং তথ্যভিত্তিক তদারকি কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ আর্থিক খাত বিশেষজ্ঞ তোশিয়াকি ওনো বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই প্রকল্প ব্যাংকিং খাতে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।