ঢাকা ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চাষের মাছে কাদা-কাদা গন্ধ কেন? Logo মোবাইল না দেখলে খেতে চায় না শিশু? যেভাবে বদলাবেন অভ্যাস Logo এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, গড় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ Logo মাড়ি থেকে রক্ত পড়া কি হৃদ্‌রোগের ঝুঁকির ইঙ্গিত? Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo রিয়াদে সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিহত ১৬ বাংলাদেশি Logo ৫ আগস্টের পর দীর্ঘদিন বাংলাদেশেই ছিলাম: সাদ্দাম হোসেন Logo ‘হাসিনা কার্ড’ খেললে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কীভাবে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ সমিতির ১০১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা, ১১ আগস্ট মানববন্ধন Logo এমপিদের বেতন ৫ লাখ ও মন্ত্রীদের ১০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব নুরের নিজস্ব প্রতিবেদক

মাড়ি থেকে রক্ত পড়া কি হৃদ্‌রোগের ঝুঁকির ইঙ্গিত?

নিজস্ব প্রতিবেদক

দাঁত ব্রাশ বা ফ্লস করার সময় মাড়ি থেকে রক্ত পড়াকে অনেকেই সাধারণ সমস্যা মনে করে এড়িয়ে যান। কেউ এটিকে মাড়ির দুর্বলতা, আবার কেউ ভিটামিনের ঘাটতি হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে নিয়মিত মাড়ি থেকে রক্ত পড়া মাড়ির প্রদাহ বা পেরিয়ডন্টাল ডিজিজের লক্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন মাড়ির রোগের চিকিৎসা না করা হলে দাঁত ও মাড়ির ক্ষতির পাশাপাশি শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হতে পারে। এর সঙ্গে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকির সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়েও গবেষণা রয়েছে। তবে মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার সঙ্গে সরাসরি হার্ট অ্যাটাকের সম্পর্ক রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

মুখের ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে হৃদ্‌যন্ত্রের সম্পর্ক

দীর্ঘদিন মাড়িতে প্রদাহ থাকলে মাড়ির টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ অবস্থায় মুখগহ্বরে থাকা কিছু ব্যাকটেরিয়া রক্তপ্রবাহে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। গবেষণায় এসব ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে রক্তনালির দেয়ালে থাকা অ্যাথেরোস্ক্লেরোটিক প্লাকের সম্ভাব্য সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাড়ির দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ শরীরে প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে। আর দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ হৃদ্‌রোগের বিভিন্ন ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে মাড়ির রোগ সরাসরি হৃদ্‌রোগের কারণ—এমন প্রমাণ এখনো নিশ্চিত নয়।

মাড়ির রোগ ও হৃদ্‌রোগের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চলছে। ২০১২ সালে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনও এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা প্রকাশ করে। পরবর্তী গবেষণাগুলোতেও দীর্ঘস্থায়ী মাড়ির রোগের সঙ্গে হৃদ্‌যন্ত্রের ছন্দের সমস্যা ও হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকির সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখতে যা করবেন

নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করুন:
দিনে অন্তত দুইবার দাঁত ব্রাশ করলে দাঁত ও মাড়ির সংযোগস্থলে প্লাক ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জমা কমানো যায়।

নিয়মিত ফ্লস করুন:
দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাবারের কণা ও ব্যাকটেরিয়া শুধু ব্রাশের মাধ্যমে পুরোপুরি পরিষ্কার করা কঠিন। নিয়মিত ফ্লস করলে এসব ময়লা দূর করার পাশাপাশি মাড়ির প্রদাহের ঝুঁকিও কমানো যায়।

ডেন্টাল চেকআপ করুন:
মাড়ি থেকে বারবার রক্ত পড়া, মাড়ি ফুলে যাওয়া, ব্যথা হওয়া বা দাঁত নড়বড়ে হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিয়মিত চেকআপের মাধ্যমে মাড়ির রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করে চিকিৎসা করা সম্ভব।

মাড়ি থেকে রক্ত পড়া সবসময় হৃদ্‌রোগের লক্ষণ নয়। তবে এটি মাড়ির রোগের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে। তাই এ সমস্যা বারবার হলে অবহেলা না করে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করাই নিরাপদ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:৫২:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
৪৫০২ বার পড়া হয়েছে

মাড়ি থেকে রক্ত পড়া কি হৃদ্‌রোগের ঝুঁকির ইঙ্গিত?

আপডেট সময় ০১:৫২:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

দাঁত ব্রাশ বা ফ্লস করার সময় মাড়ি থেকে রক্ত পড়াকে অনেকেই সাধারণ সমস্যা মনে করে এড়িয়ে যান। কেউ এটিকে মাড়ির দুর্বলতা, আবার কেউ ভিটামিনের ঘাটতি হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে নিয়মিত মাড়ি থেকে রক্ত পড়া মাড়ির প্রদাহ বা পেরিয়ডন্টাল ডিজিজের লক্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন মাড়ির রোগের চিকিৎসা না করা হলে দাঁত ও মাড়ির ক্ষতির পাশাপাশি শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হতে পারে। এর সঙ্গে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকির সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়েও গবেষণা রয়েছে। তবে মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার সঙ্গে সরাসরি হার্ট অ্যাটাকের সম্পর্ক রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

মুখের ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে হৃদ্‌যন্ত্রের সম্পর্ক

দীর্ঘদিন মাড়িতে প্রদাহ থাকলে মাড়ির টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ অবস্থায় মুখগহ্বরে থাকা কিছু ব্যাকটেরিয়া রক্তপ্রবাহে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। গবেষণায় এসব ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে রক্তনালির দেয়ালে থাকা অ্যাথেরোস্ক্লেরোটিক প্লাকের সম্ভাব্য সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাড়ির দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ শরীরে প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে। আর দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ হৃদ্‌রোগের বিভিন্ন ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে মাড়ির রোগ সরাসরি হৃদ্‌রোগের কারণ—এমন প্রমাণ এখনো নিশ্চিত নয়।

মাড়ির রোগ ও হৃদ্‌রোগের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চলছে। ২০১২ সালে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনও এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা প্রকাশ করে। পরবর্তী গবেষণাগুলোতেও দীর্ঘস্থায়ী মাড়ির রোগের সঙ্গে হৃদ্‌যন্ত্রের ছন্দের সমস্যা ও হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকির সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখতে যা করবেন

নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করুন:
দিনে অন্তত দুইবার দাঁত ব্রাশ করলে দাঁত ও মাড়ির সংযোগস্থলে প্লাক ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জমা কমানো যায়।

নিয়মিত ফ্লস করুন:
দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাবারের কণা ও ব্যাকটেরিয়া শুধু ব্রাশের মাধ্যমে পুরোপুরি পরিষ্কার করা কঠিন। নিয়মিত ফ্লস করলে এসব ময়লা দূর করার পাশাপাশি মাড়ির প্রদাহের ঝুঁকিও কমানো যায়।

ডেন্টাল চেকআপ করুন:
মাড়ি থেকে বারবার রক্ত পড়া, মাড়ি ফুলে যাওয়া, ব্যথা হওয়া বা দাঁত নড়বড়ে হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিয়মিত চেকআপের মাধ্যমে মাড়ির রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করে চিকিৎসা করা সম্ভব।

মাড়ি থেকে রক্ত পড়া সবসময় হৃদ্‌রোগের লক্ষণ নয়। তবে এটি মাড়ির রোগের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে। তাই এ সমস্যা বারবার হলে অবহেলা না করে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করাই নিরাপদ।