ঢাকা ০৯:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo এমপিদের বেতন ৫ লাখ ও মন্ত্রীদের ১০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব নুরের নিজস্ব প্রতিবেদক Logo সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার নিয়ে পুলিশের উদ্বেগ, গুজব না ছড়ানোর আহ্বান Logo পল্লবীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে বিএনপি কর্মী আহত, অবস্থা আশঙ্কাজনক Logo জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে রেডিট নাকি চ্যাটজিপিটি—কোনটি বেশি নির্ভরযোগ্য? Logo সাকিবের জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ নেই, দেশে ফিরলে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী Logo চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রস্তুত প্রশাসন ও বিএনপি Logo তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার: পানিসম্পদমন্ত্রী Logo ডিসেম্বরে দেশে ফিরলে শেখ হাসিনাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে: আইনমন্ত্রী Logo নেত্রকোনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন গ্রেপ্তার Logo মাছ, মুরগি ও ডিমের দামে নতুন অস্থিরতা, চাপে মধ্যবিত্ত

এমপিদের বেতন ৫ লাখ ও মন্ত্রীদের ১০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব নুরের নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব সংবাদ :

দুর্নীতি কমানো এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনে আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যদের মাসিক বেতন ৫ লাখ টাকা এবং মন্ত্রীদের বেতন ১০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রস্তাব দেন।

নুরুল হক নুর বলেন, বর্তমানে একজন সংসদ সদস্য মূল বেতন হিসেবে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন ভাতাসহ মোট প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা পান। মন্ত্রীদের বেতনও প্রায় একই পর্যায়ের। তবে নির্বাচনী এলাকায় চিকিৎসা, শিক্ষা, খেলাধুলা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা দিতে গিয়ে জনপ্রতিনিধিদের উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হয়। বাস্তবতার তুলনায় বর্তমান বেতন-ভাতা কাঠামো যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, যেসব জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত সম্পদ নেই, তাদের জন্য বর্তমান বেতনে দায়িত্ব পালন করা কঠিন। এতে অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জন বা দুর্নীতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই দুর্নীতি প্রতিরোধে সম্মানজনক ও বাস্তবসম্মত বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

জনপ্রতিনিধিদের যাতায়াত সুবিধার বিষয়েও বক্তব্য দেন নুর। তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে সংসদ সদস্যদের প্রায়ই নির্বাচনী এলাকায় যেতে হয়। কিন্তু অনেক এলাকার সড়কব্যবস্থা এখনও দুর্বল। ছোট গাড়িতে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হলেও ব্যক্তিগতভাবে নিরাপদ গাড়ি কেনার সামর্থ্য অনেক এমপির নেই।

এ কারণে দায়িত্ব পালনকালীন প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে সরকারের পক্ষ থেকে একটি গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। মেয়াদ শেষে গাড়িটি সরকারি পরিবহন পুলে ফেরত দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। সচিবসহ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের মতো এমপিদেরও এ ধরনের সুবিধা দেওয়া উচিত বলে মত দেন তিনি।

সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার উদাহরণ তুলে ধরে নুর বলেন, দেশ দুটিতে সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতিযোগিতামূলক বেতন নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সংসদ সদস্যদের করমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ ও প্লট বরাদ্দের মতো কিছু সুবিধা ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। তবে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে প্রত্যেক এমপির জন্য একটি সরকারি গাড়ি বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে, যা পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে সরকারি পরিবহন পুলে জমা দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন নুরুল হক নুর। পাশাপাশি তিনি বলেন, সরকারি দপ্তরে সেবার মান উন্নত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও সমন্বিত উদ্যোগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রবাসীদের জন্য সরকারের নতুন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, হয়রানি কমাতে শিগগিরই ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করা হবে। এ কার্ডধারীরা বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণে বিশেষ অগ্রাধিকার পাবেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:২৬:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
৪৫০২ বার পড়া হয়েছে

এমপিদের বেতন ৫ লাখ ও মন্ত্রীদের ১০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব নুরের নিজস্ব প্রতিবেদক

আপডেট সময় ০৯:২৬:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

দুর্নীতি কমানো এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনে আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যদের মাসিক বেতন ৫ লাখ টাকা এবং মন্ত্রীদের বেতন ১০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রস্তাব দেন।

নুরুল হক নুর বলেন, বর্তমানে একজন সংসদ সদস্য মূল বেতন হিসেবে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন ভাতাসহ মোট প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা পান। মন্ত্রীদের বেতনও প্রায় একই পর্যায়ের। তবে নির্বাচনী এলাকায় চিকিৎসা, শিক্ষা, খেলাধুলা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা দিতে গিয়ে জনপ্রতিনিধিদের উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হয়। বাস্তবতার তুলনায় বর্তমান বেতন-ভাতা কাঠামো যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, যেসব জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত সম্পদ নেই, তাদের জন্য বর্তমান বেতনে দায়িত্ব পালন করা কঠিন। এতে অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জন বা দুর্নীতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই দুর্নীতি প্রতিরোধে সম্মানজনক ও বাস্তবসম্মত বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

জনপ্রতিনিধিদের যাতায়াত সুবিধার বিষয়েও বক্তব্য দেন নুর। তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে সংসদ সদস্যদের প্রায়ই নির্বাচনী এলাকায় যেতে হয়। কিন্তু অনেক এলাকার সড়কব্যবস্থা এখনও দুর্বল। ছোট গাড়িতে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হলেও ব্যক্তিগতভাবে নিরাপদ গাড়ি কেনার সামর্থ্য অনেক এমপির নেই।

এ কারণে দায়িত্ব পালনকালীন প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে সরকারের পক্ষ থেকে একটি গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। মেয়াদ শেষে গাড়িটি সরকারি পরিবহন পুলে ফেরত দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। সচিবসহ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের মতো এমপিদেরও এ ধরনের সুবিধা দেওয়া উচিত বলে মত দেন তিনি।

সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার উদাহরণ তুলে ধরে নুর বলেন, দেশ দুটিতে সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতিযোগিতামূলক বেতন নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সংসদ সদস্যদের করমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ ও প্লট বরাদ্দের মতো কিছু সুবিধা ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। তবে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে প্রত্যেক এমপির জন্য একটি সরকারি গাড়ি বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে, যা পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে সরকারি পরিবহন পুলে জমা দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন নুরুল হক নুর। পাশাপাশি তিনি বলেন, সরকারি দপ্তরে সেবার মান উন্নত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও সমন্বিত উদ্যোগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রবাসীদের জন্য সরকারের নতুন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, হয়রানি কমাতে শিগগিরই ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করা হবে। এ কার্ডধারীরা বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণে বিশেষ অগ্রাধিকার পাবেন।