ঢাকা ১১:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo এমপিদের বেতন ৫ লাখ ও মন্ত্রীদের ১০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব নুরের নিজস্ব প্রতিবেদক Logo সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার নিয়ে পুলিশের উদ্বেগ, গুজব না ছড়ানোর আহ্বান Logo পল্লবীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে বিএনপি কর্মী আহত, অবস্থা আশঙ্কাজনক Logo জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে রেডিট নাকি চ্যাটজিপিটি—কোনটি বেশি নির্ভরযোগ্য? Logo সাকিবের জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ নেই, দেশে ফিরলে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী Logo চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রস্তুত প্রশাসন ও বিএনপি Logo তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার: পানিসম্পদমন্ত্রী Logo ডিসেম্বরে দেশে ফিরলে শেখ হাসিনাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে: আইনমন্ত্রী Logo নেত্রকোনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন গ্রেপ্তার Logo মাছ, মুরগি ও ডিমের দামে নতুন অস্থিরতা, চাপে মধ্যবিত্ত

মাছ, মুরগি ও ডিমের দামে নতুন অস্থিরতা, চাপে মধ্যবিত্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় এবার সাধারণ মানুষের প্রোটিনের প্রধান উৎস মাছ, মুরগি ও ডিমের দামও বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের ক্রেতারা। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজার করতে এসে অনেকেই বাড়তি দামের কারণে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ডিমের দাম ডজনপ্রতি বেড়ে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ টাকায়। এছাড়া সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের মুরগি বিক্রেতা জানান, বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। তবে সোনালি মুরগির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।

মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে চাষের জীবিত পাঙাশ ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রূপচাঁদা, নদীর বেলে ও বড় আকারের শোল মাছের দাম কেজিপ্রতি এক হাজার টাকারও বেশি।

মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের মাছ বিক্রেতা জাহিদুল ইসলাম বলেন, পুকুরে চাষের মাছের ক্রয়মূল্য বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম বাড়ছে। এতে ব্যবসায়ীদেরও বেশি পুঁজি বিনিয়োগ করতে হচ্ছে।

সবজির বাজারে কিছু পণ্যের দাম সামান্য কমার ইঙ্গিত থাকলেও অধিকাংশ সবজি এখনও উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। ঝিঙা, বেগুন ও টমেটোর দাম কেজিতে ১০০ টাকার ওপরে রয়েছে। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকা কেজি দরে।

বাজারে বরবটি ৮০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ধুন্দুল ৬০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, টমেটো ১৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা এবং পেঁপে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গোল বেগুন ১০০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, কচু ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা এবং কাঁচা কলা হালিপ্রতি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মাহবুব আলম বলেন, আগে সপ্তাহে দুই থেকে তিন ডজন ডিম কিনলেও এখন এক ডজন কিনতেও হিসাব করতে হচ্ছে। বাজারে সব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসারের বাজেট সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

গৃহিণী নাদিয়া স্বপ্না বলেন, মাছ-মাংসের দাম বেশি হওয়ায় আগে ডিম বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেত। কিন্তু এখন ডিমের দামও বেড়ে যাওয়ায় সেটিও নিয়মিত কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। সন্তানদের পুষ্টির কথা ভেবে বাধ্য হয়েই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:৪২:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
৪৫০৬ বার পড়া হয়েছে

মাছ, মুরগি ও ডিমের দামে নতুন অস্থিরতা, চাপে মধ্যবিত্ত

আপডেট সময় ০৭:৪২:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় এবার সাধারণ মানুষের প্রোটিনের প্রধান উৎস মাছ, মুরগি ও ডিমের দামও বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের ক্রেতারা। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজার করতে এসে অনেকেই বাড়তি দামের কারণে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ডিমের দাম ডজনপ্রতি বেড়ে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ টাকায়। এছাড়া সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের মুরগি বিক্রেতা জানান, বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। তবে সোনালি মুরগির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।

মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে চাষের জীবিত পাঙাশ ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রূপচাঁদা, নদীর বেলে ও বড় আকারের শোল মাছের দাম কেজিপ্রতি এক হাজার টাকারও বেশি।

মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের মাছ বিক্রেতা জাহিদুল ইসলাম বলেন, পুকুরে চাষের মাছের ক্রয়মূল্য বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম বাড়ছে। এতে ব্যবসায়ীদেরও বেশি পুঁজি বিনিয়োগ করতে হচ্ছে।

সবজির বাজারে কিছু পণ্যের দাম সামান্য কমার ইঙ্গিত থাকলেও অধিকাংশ সবজি এখনও উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। ঝিঙা, বেগুন ও টমেটোর দাম কেজিতে ১০০ টাকার ওপরে রয়েছে। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকা কেজি দরে।

বাজারে বরবটি ৮০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ধুন্দুল ৬০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, টমেটো ১৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা এবং পেঁপে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গোল বেগুন ১০০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, কচু ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা এবং কাঁচা কলা হালিপ্রতি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মাহবুব আলম বলেন, আগে সপ্তাহে দুই থেকে তিন ডজন ডিম কিনলেও এখন এক ডজন কিনতেও হিসাব করতে হচ্ছে। বাজারে সব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসারের বাজেট সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

গৃহিণী নাদিয়া স্বপ্না বলেন, মাছ-মাংসের দাম বেশি হওয়ায় আগে ডিম বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেত। কিন্তু এখন ডিমের দামও বেড়ে যাওয়ায় সেটিও নিয়মিত কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। সন্তানদের পুষ্টির কথা ভেবে বাধ্য হয়েই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।