দক্ষিণ নেপালে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় নিহত ৩, কারফিউ জারি
দক্ষিণ নেপালের সুনসারী জেলায় ধর্মীয় শোভাযাত্রায় ডিজে সাউন্ড বক্স বাজানো এবং ধর্মীয় পতাকা টাঙানোকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই ডজনেরও বেশি মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সুনসারীসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (এপিএফ) মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, গত ২৬ জুলাই রাতে ভারতের বিহার সীমান্তসংলগ্ন সুনসারী জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার কাপতানগঞ্জ এলাকায় ‘বলবম’ তীর্থযাত্রীদের একটি শোভাযাত্রা যাওয়ার সময় গান বাজানো নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে তা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও দুই পক্ষের সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। পরবর্তীতে সহিংসতা সিরাহা জেলায় ছড়িয়ে পড়লে সেখানে আরও একজনের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন গণেশ যাদব, ওম প্রকাশ মেহতা এবং জয় প্রকাশ মেহতা।
প্রাথমিক সংঘর্ষের পর সহিংসতা সুনসারী থেকে সপ্তরী, সিরাহা, ধানুশা ও পারসা জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজিত জনতা যানবাহন, দোকানপাট ও শপিংমলে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়। সিরাহা জেলায় একটি শপিংমলে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
এদিকে ২৯ ও ৩০ জুলাই জনকপুরধামে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কুশপুতুল দাহ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ এবং কারফিউ জারি করে।
সহিংসতা শুরুর চার দিন পর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুংয়ের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দল ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সহিংসতা দ্রুত একাধিক জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে।
জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা, গুজবে কান না দেওয়া এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা জোরদারে সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ ও স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে টহল দিচ্ছে। পাশাপাশি ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারিও চালানো হচ্ছে।

















