ঢাকা ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাষের মাছে কাদা-কাদা গন্ধ কেন?

নিজস্ব সংবাদ :

বহুল প্রচলিত প্রবাদ—‘মাছে-ভাতে বাঙালি’। বাঙালির খাদ্যাভ্যাস ও জাতিসত্তার সঙ্গে মাছের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তাই বাঙালির পাতে নানা পদে মাছের উপস্থিতি থাকেই।

চাহিদা মেটাতে গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে মাছ চাষের পরিসর ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এর ফলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি রপ্তানিও বাড়ছে। তবে চাষের মাছ নিয়ে ভোক্তাদের একটি সাধারণ অভিযোগ এখনো রয়ে গেছে—মাছে কাদা-কাদা বা স্যাঁতসেঁতে ধরনের গন্ধ।

বাজার থেকে তাজা মাছ কিনে আনার পর ধুয়ে-কেটে রান্না করার সময়ও অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের গন্ধ পাওয়া যায়। লেবু, লবণ, হলুদ কিংবা আদা-রসুন দিয়ে মাছ পরিষ্কার করার পরও কখনো কখনো সেই গন্ধ পুরোপুরি দূর হয় না। ফলে মাছের স্বাদ ও খাওয়ার তৃপ্তি নিয়ে অসন্তুষ্ট হন অনেক ভোক্তা।

মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান

মাছ উৎপাদন ও চাষে বাংলাদেশ এরই মধ্যে বিশ্বে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রকাশিত ‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৬’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাছসহ জলজ প্রাণী উৎপাদন বা চাষে বাংলাদেশ বিশ্বের পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।

অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে মাছ আহরণের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয়।

গত কয়েক দশকে দেশের মৎস্য খাতে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) মৎস্য খাতের অবদান আড়াই শতাংশের বেশি।

তবু প্রশ্ন থেকে যায়

মাছের উৎপাদন বাড়লেও ভোক্তার প্লেটে গিয়ে মাছের গুণগত মান, স্বাদ ও গন্ধ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে চাষের মাছের ক্ষেত্রে কাদা বা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ অনেকের কাছেই বিরক্তিকর হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছের গন্ধের বিষয়টি শুধু রান্নার পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে না। মাছ কোন পরিবেশে চাষ হয়েছে, পানির মান কেমন ছিল এবং মাছের খাদ্য ও সংরক্ষণব্যবস্থা কেমন ছিল—এসব বিষয়ও মাছের স্বাদ ও গন্ধের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই মাছ উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি চাষের পরিবেশ, পানির গুণগত মান, খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং মাছ সংরক্ষণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। এতে একদিকে যেমন উৎপাদিত মাছের মান বাড়বে, অন্যদিকে ভোক্তার পাতে মাছের স্বাদ ও তৃপ্তিও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।      বিবিসি

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০২:১১:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
৪৫৬৩ বার পড়া হয়েছে

চাষের মাছে কাদা-কাদা গন্ধ কেন?

আপডেট সময় ০২:১১:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

বহুল প্রচলিত প্রবাদ—‘মাছে-ভাতে বাঙালি’। বাঙালির খাদ্যাভ্যাস ও জাতিসত্তার সঙ্গে মাছের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তাই বাঙালির পাতে নানা পদে মাছের উপস্থিতি থাকেই।

চাহিদা মেটাতে গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে মাছ চাষের পরিসর ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এর ফলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি রপ্তানিও বাড়ছে। তবে চাষের মাছ নিয়ে ভোক্তাদের একটি সাধারণ অভিযোগ এখনো রয়ে গেছে—মাছে কাদা-কাদা বা স্যাঁতসেঁতে ধরনের গন্ধ।

বাজার থেকে তাজা মাছ কিনে আনার পর ধুয়ে-কেটে রান্না করার সময়ও অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের গন্ধ পাওয়া যায়। লেবু, লবণ, হলুদ কিংবা আদা-রসুন দিয়ে মাছ পরিষ্কার করার পরও কখনো কখনো সেই গন্ধ পুরোপুরি দূর হয় না। ফলে মাছের স্বাদ ও খাওয়ার তৃপ্তি নিয়ে অসন্তুষ্ট হন অনেক ভোক্তা।

মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান

মাছ উৎপাদন ও চাষে বাংলাদেশ এরই মধ্যে বিশ্বে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রকাশিত ‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৬’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাছসহ জলজ প্রাণী উৎপাদন বা চাষে বাংলাদেশ বিশ্বের পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।

অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে মাছ আহরণের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয়।

গত কয়েক দশকে দেশের মৎস্য খাতে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) মৎস্য খাতের অবদান আড়াই শতাংশের বেশি।

তবু প্রশ্ন থেকে যায়

মাছের উৎপাদন বাড়লেও ভোক্তার প্লেটে গিয়ে মাছের গুণগত মান, স্বাদ ও গন্ধ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে চাষের মাছের ক্ষেত্রে কাদা বা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ অনেকের কাছেই বিরক্তিকর হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছের গন্ধের বিষয়টি শুধু রান্নার পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে না। মাছ কোন পরিবেশে চাষ হয়েছে, পানির মান কেমন ছিল এবং মাছের খাদ্য ও সংরক্ষণব্যবস্থা কেমন ছিল—এসব বিষয়ও মাছের স্বাদ ও গন্ধের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই মাছ উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি চাষের পরিবেশ, পানির গুণগত মান, খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং মাছ সংরক্ষণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। এতে একদিকে যেমন উৎপাদিত মাছের মান বাড়বে, অন্যদিকে ভোক্তার পাতে মাছের স্বাদ ও তৃপ্তিও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।      বিবিসি