ওষুধের দাম কমাতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েও বাঁচলেন না ক্যান্সার রোগী, চার বছরেও শেষ হয়নি মামলা
ভারতের কেরালার এক স্তন ক্যান্সার আক্রান্ত নারী জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম কমানোর দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু আদালতের রায় পাওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। আবেদনকারীর মৃত্যুর চার বছর পার হলেও মামলাটির নিষ্পত্তি না হওয়ায় ভারতের বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
২০২২ সালের জুনে কেরালা হাইকোর্টে দায়ের করা রিট আবেদনে ওই নারী দাবি করেছিলেন, তার চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় রাইবোসিক্লিব ও অ্যাবেমাসিক্লিব ওষুধ দুটি ভারতে উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হোক, যাতে রোগীরা কম দামে সেগুলো কিনতে পারেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাইবোসিক্লিবের মাসিক খরচ প্রায় ৭৮ হাজার ৪৬৮ রুপি এবং অ্যাবেমাসিক্লিবের খরচ ৪৭ হাজার ৭৫২ থেকে ৯৫ হাজার ৫০৪ রুপি পর্যন্ত। ফলে দুই ওষুধ মিলিয়ে প্রতি মাসে চিকিৎসা ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় দেড় লাখ রুপি, যা বহন করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না।
তবে রিট দায়েরের মাত্র তিন মাস পর, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরেই ওই নারীর মৃত্যু হয়। এরপরও জনস্বার্থে মামলাটি চালিয়ে যাওয়া হয়।
এ পর্যন্ত মামলাটির ৫৭টি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৫ সালে এটি ‘রায়ের জন্য প্রস্তুত’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলেও এখনো রায় ঘোষণা হয়নি। একাধিকবার রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও প্রতিবারই তা পিছিয়ে যায়। সর্বশেষ নির্ধারিত তারিখ ছিল ২ জুলাই। আগামী ১৫ জুলাই নতুন করে রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছে।
মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ অন অ্যাক্সেস টু মেডিসিনস অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট’-এর সহ-আহ্বায়ক জ্যোৎস্না সিং ও কে. এম. গোপাকুমার কেরালা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সৌমেন সেনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। একই আবেদন তারা ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছেও পাঠিয়েছেন।
আবেদনে তারা বলেন, “যিনি এই আইনি লড়াই শুরু করেছিলেন, তিনি আজ আর বেঁচে নেই। জীবনরক্ষাকারী ওষুধের ক্ষেত্রে বিচার বিলম্ব কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, এই ঘটনাই তার প্রমাণ।”
মামলার শুনানিতে আদালত সরকারের বক্তব্য, বিশেষজ্ঞ মতামত এবং ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান শুনেছে। সরকার পুরোনো একটি ওষুধকে যথেষ্ট বলে দাবি করলেও আবেদনকারীর আইনজীবী চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করে দেখান, ওই ওষুধটি সংশ্লিষ্ট ধরনের স্তন ক্যান্সারের জন্য কার্যকর নয়।
অধিকারকর্মীরা মনে করেন, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি শুধু প্রয়াত ওই নারীর প্রতি শ্রদ্ধাই হবে না, বরং জীবনরক্ষাকারী ওষুধের উচ্চমূল্যের কারণে চিকিৎসাবঞ্চিত হাজারো ক্যান্সার রোগীর জন্যও আশার বার্তা হয়ে উঠবে।
ভারতে স্তন ক্যান্সার বর্তমানে অন্যতম প্রাণঘাতী রোগ। ২০২২ সালে দেশটিতে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং তাদের মধ্যে ৯৮ হাজার ৩৩৭ জনের মৃত্যু হয়। সরকারি হিসাবে, ২০২৬ সালের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজারে পৌঁছাতে পারে।
























