ঢাকা ১০:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সাজেকে দুই আঞ্চলিক দলের সশস্ত্র সংঘর্ষ, আতঙ্কে পর্যটক ও স্থানীয়রা Logo খুলনায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের বহরে ককটেল নিক্ষেপ, আতঙ্কে ছুটোছুটি Logo ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে মিরপুর-আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ, ৩০ কারখানায় ছুটি Logo হেমন্তে আবহাওয়া পরিবর্তনে বাড়ছে অসুস্থতার ঝুঁকি, সুস্থ থাকতে মানতে হবে যেসব সতর্কতা Logo ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমল স্বর্ণের দাম Logo ৯ মাস পর অভিনয়ে ফিরলেন তানিয়া বৃষ্টি Logo এইচএসসির ফলাফলে দেশসেরা আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ Logo তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় দীপের চার দিনের রিমান্ড Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: শফিকুর রহমান Logo প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ফলপ্রসূ, এক লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা

খেলাপি ঋণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকের আমানতকারীরা সুদসহ পুরো টাকা ফেরত পাবেন: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি

খেলাপি ঋণে বিপর্যস্ত ব্যাংকগুলোর আমানতকারীরা সুদসহ তাদের সম্পূর্ণ আমানতের অর্থ ফেরত পাবেন বলে জাতীয় সংসদে আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ব্যাংক দেউলিয়া হলে আমানতকারীদের সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা ফেরতের যে ‘হেয়ার কাট’ বিধান নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এসব ব্যাংকের ক্ষেত্রে তা কার্যকর হবে না। তবে পুরো অর্থ ফেরত পেতে আমানতকারীদের কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে।

বুধবার জাতীয় সংসদের বৈঠকে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংরক্ষিত আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানুর নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

রেহেনা আক্তার রানু বলেন, মানুষের সারাজীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় ব্যাংকে আটকে আছে। টাকা তুলতে না পেরে কেউ চিকিৎসা করাতে পারছেন না, কেউ পারিবারিক প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তিনি ব্যাংক লুটের সঙ্গে জড়িত মালিকদের কঠোর শাস্তি এবং তাদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের দাবি জানান। পাশাপাশি ‘হেয়ার কাট’ বিধান প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানান তিনি।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের আর্থিক খাতে একটি হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। খাতকে স্থিতিশীল করতে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়েছে। এছাড়া আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬ অনুযায়ী সুরক্ষিত আমানতের সীমা এক লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা করা হয়েছে। অবসায়নাধীন ব্যাংকগুলোর আমানতকারীরা পর্যায়ক্রমে তাদের অর্থ ফেরত পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, পাঁচটি ব্যাংকের ঋণ অনিয়মে জড়িতদের শনাক্ত করতে বিশেষ ফরেনসিক অডিট চলছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের সম্পদ পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ, আয় ও সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এসব সম্পদ বিক্রি ও নিলামের মাধ্যমে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

অর্থমন্ত্রী জানান, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া খেলাপি ঋণের অর্থ ফেরাতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০টি ব্যাংক ঋণ পুনরুদ্ধারের জন্য নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া ‘নো উইন, নো ফি’ ভিত্তিতে নয়টি আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। প্রথম ধাপে সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম, বেক্সিমকো, শিকদার, নাসা ও ওরিয়েন্ট গ্রুপের বিরুদ্ধে দেওয়ানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

‘হেয়ার কাট’ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এসব ব্যাংকের ক্ষেত্রে এ বিধান কার্যকর হবে না। তিনি বলেন, “আমানতকারীরা তাদের টাকা সুদসহ ফেরত পাবেন, ইনশাআল্লাহ। তবে কিছুটা সময় লাগবে। ব্যাংকগুলো বর্তমানে বড় ধরনের লোকসানে রয়েছে। তারপরও সরকার আমানত ও সুদ—উভয়ই ফেরত দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

তিনি আরও বলেন, সরকার জানে অনেক আমানতকারী চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা পারিবারিক প্রয়োজন মেটাতে চরম দুর্ভোগে আছেন। তবুও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের মাধ্যমে তাদের সব অর্থ সুদসহ ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:৪৬:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
৪৬১৯ বার পড়া হয়েছে

খেলাপি ঋণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকের আমানতকারীরা সুদসহ পুরো টাকা ফেরত পাবেন: অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৮:৪৬:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

খেলাপি ঋণে বিপর্যস্ত ব্যাংকগুলোর আমানতকারীরা সুদসহ তাদের সম্পূর্ণ আমানতের অর্থ ফেরত পাবেন বলে জাতীয় সংসদে আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ব্যাংক দেউলিয়া হলে আমানতকারীদের সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা ফেরতের যে ‘হেয়ার কাট’ বিধান নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এসব ব্যাংকের ক্ষেত্রে তা কার্যকর হবে না। তবে পুরো অর্থ ফেরত পেতে আমানতকারীদের কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে।

বুধবার জাতীয় সংসদের বৈঠকে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংরক্ষিত আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানুর নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

রেহেনা আক্তার রানু বলেন, মানুষের সারাজীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় ব্যাংকে আটকে আছে। টাকা তুলতে না পেরে কেউ চিকিৎসা করাতে পারছেন না, কেউ পারিবারিক প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তিনি ব্যাংক লুটের সঙ্গে জড়িত মালিকদের কঠোর শাস্তি এবং তাদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের দাবি জানান। পাশাপাশি ‘হেয়ার কাট’ বিধান প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানান তিনি।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের আর্থিক খাতে একটি হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। খাতকে স্থিতিশীল করতে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়েছে। এছাড়া আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬ অনুযায়ী সুরক্ষিত আমানতের সীমা এক লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা করা হয়েছে। অবসায়নাধীন ব্যাংকগুলোর আমানতকারীরা পর্যায়ক্রমে তাদের অর্থ ফেরত পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, পাঁচটি ব্যাংকের ঋণ অনিয়মে জড়িতদের শনাক্ত করতে বিশেষ ফরেনসিক অডিট চলছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের সম্পদ পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ, আয় ও সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এসব সম্পদ বিক্রি ও নিলামের মাধ্যমে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

অর্থমন্ত্রী জানান, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া খেলাপি ঋণের অর্থ ফেরাতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০টি ব্যাংক ঋণ পুনরুদ্ধারের জন্য নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া ‘নো উইন, নো ফি’ ভিত্তিতে নয়টি আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। প্রথম ধাপে সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম, বেক্সিমকো, শিকদার, নাসা ও ওরিয়েন্ট গ্রুপের বিরুদ্ধে দেওয়ানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

‘হেয়ার কাট’ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এসব ব্যাংকের ক্ষেত্রে এ বিধান কার্যকর হবে না। তিনি বলেন, “আমানতকারীরা তাদের টাকা সুদসহ ফেরত পাবেন, ইনশাআল্লাহ। তবে কিছুটা সময় লাগবে। ব্যাংকগুলো বর্তমানে বড় ধরনের লোকসানে রয়েছে। তারপরও সরকার আমানত ও সুদ—উভয়ই ফেরত দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

তিনি আরও বলেন, সরকার জানে অনেক আমানতকারী চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা পারিবারিক প্রয়োজন মেটাতে চরম দুর্ভোগে আছেন। তবুও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের মাধ্যমে তাদের সব অর্থ সুদসহ ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে