ঢাকা ০২:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চাঞ্চল্যকর রিফাত হত্যা মামলার চার আসামি র‌্যাব-৭ এর জালে Logo ওষুধের দাম কমাতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েও বাঁচলেন না ক্যান্সার রোগী, চার বছরেও শেষ হয়নি মামলা Logo ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: আমিরাতে আকাশ প্রতিরক্ষা সক্রিয়, কাতার-বাহরাইনে সর্বোচ্চ সতর্কতা Logo বাংলাদেশি পাসপোর্টে বিদেশে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা, হুমকিতে জাতীয় নিরাপত্তা ও শ্রমবাজার Logo রাজধানীতে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও অফিসগামী মানুষ Logo মহাখালীতে ছুরিকাঘাতে রেলকর্মীর মৃত্যু, নারী হেফাজতে Logo হরমুজ প্রণালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা আইআরজিসির Logo সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই Logo শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা Logo প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে কিশোরীকে হত্যা, গ্রেপ্তার মা; বাবার খোঁজে পুলিশ

শিশু শিক্ষার্থীকে দিয়ে শিক্ষিকার শরীর ম্যাসাজ, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের চারঘড়ি চাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিশু শিক্ষার্থীকে দিয়ে সহকারী শিক্ষিকার শরীর ম্যাসাজ করানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভিডিওটি সামনে আসার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ বিষয়টি আমলে নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে একটি বিছানায় শুয়ে সহকারী শিক্ষিকা কাজলী আক্তার এক শিশু শিক্ষার্থীকে দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করাচ্ছেন। এ সময় কক্ষে উপস্থিত ছিলেন আরও দুই সহকারী শিক্ষিকা। তাদের মধ্যে ওয়াহিদা জান্নাত মুনমুন মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন এবং মনি আক্তার আলাপচারিতায় ব্যস্ত ছিলেন।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শিক্ষকদের। সেখানে একজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, “যেখানে বিদ্যালয় শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার স্থান, সেখানে একজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে এ ধরনের ব্যক্তিগত কাজ করানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

ডিমলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্র নাথ রায় বলেন, “ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দোষী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, তিনি ভিডিওটি দেখেছেন। তবে এটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়, ১০ থেকে ১৫ দিন আগের ঘটনা। বিষয়টি জানার পরই প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের মাধ্যমে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের শোকজ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:০৮:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
৪৫১৭ বার পড়া হয়েছে

শিশু শিক্ষার্থীকে দিয়ে শিক্ষিকার শরীর ম্যাসাজ, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তদন্ত কমিটি

আপডেট সময় ১০:০৮:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের চারঘড়ি চাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিশু শিক্ষার্থীকে দিয়ে সহকারী শিক্ষিকার শরীর ম্যাসাজ করানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভিডিওটি সামনে আসার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ বিষয়টি আমলে নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে একটি বিছানায় শুয়ে সহকারী শিক্ষিকা কাজলী আক্তার এক শিশু শিক্ষার্থীকে দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করাচ্ছেন। এ সময় কক্ষে উপস্থিত ছিলেন আরও দুই সহকারী শিক্ষিকা। তাদের মধ্যে ওয়াহিদা জান্নাত মুনমুন মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন এবং মনি আক্তার আলাপচারিতায় ব্যস্ত ছিলেন।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শিক্ষকদের। সেখানে একজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, “যেখানে বিদ্যালয় শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার স্থান, সেখানে একজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে এ ধরনের ব্যক্তিগত কাজ করানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

ডিমলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্র নাথ রায় বলেন, “ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দোষী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, তিনি ভিডিওটি দেখেছেন। তবে এটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়, ১০ থেকে ১৫ দিন আগের ঘটনা। বিষয়টি জানার পরই প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের মাধ্যমে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের শোকজ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।