ঢাকা ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে Logo মক্কা-মদিনা ছাড়া সৌদির সব বিমানবন্দরে হামলার হুমকি হুতিদের Logo শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের ত্যাগ রয়েছে: মাহ্‌দী আমিন Logo পাংশায় ধর্ষণ ও সন্তান অস্বীকারের মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন Logo রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি মোছার চেষ্টা: আয়াস-সাকিবের ৩ দিন, দুজনের ২ দিনের রিমান্ড Logo আচারের বয়ামে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার ডায়মন্ড, স্বর্ণ ও প্লাটিনাম জব্দ Logo মাত্র ৭ হাজার টাকায় ঘরে বসেই করা যাবে এআই ইসিজি Logo আবরার ফাহাদ হত্যা: ‘গুপ্ত শিবির জড়িত ছিল’, দাবি আবু হানিফের Logo দিল্লিতে আটক আইনজীবীদের মুক্তির নির্দেশ প্রধান বিচারপতির Logo দিল্লিতে আটকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সিজেপি নেতার দাদির মৃত্যু

শিশু শিক্ষার্থীকে দিয়ে শিক্ষিকার শরীর ম্যাসাজ, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের চারঘড়ি চাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিশু শিক্ষার্থীকে দিয়ে সহকারী শিক্ষিকার শরীর ম্যাসাজ করানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভিডিওটি সামনে আসার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ বিষয়টি আমলে নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে একটি বিছানায় শুয়ে সহকারী শিক্ষিকা কাজলী আক্তার এক শিশু শিক্ষার্থীকে দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করাচ্ছেন। এ সময় কক্ষে উপস্থিত ছিলেন আরও দুই সহকারী শিক্ষিকা। তাদের মধ্যে ওয়াহিদা জান্নাত মুনমুন মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন এবং মনি আক্তার আলাপচারিতায় ব্যস্ত ছিলেন।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শিক্ষকদের। সেখানে একজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, “যেখানে বিদ্যালয় শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার স্থান, সেখানে একজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে এ ধরনের ব্যক্তিগত কাজ করানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

ডিমলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্র নাথ রায় বলেন, “ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দোষী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, তিনি ভিডিওটি দেখেছেন। তবে এটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়, ১০ থেকে ১৫ দিন আগের ঘটনা। বিষয়টি জানার পরই প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের মাধ্যমে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের শোকজ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:০৮:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
৪৬১০ বার পড়া হয়েছে

শিশু শিক্ষার্থীকে দিয়ে শিক্ষিকার শরীর ম্যাসাজ, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তদন্ত কমিটি

আপডেট সময় ১০:০৮:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের চারঘড়ি চাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিশু শিক্ষার্থীকে দিয়ে সহকারী শিক্ষিকার শরীর ম্যাসাজ করানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভিডিওটি সামনে আসার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ বিষয়টি আমলে নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে একটি বিছানায় শুয়ে সহকারী শিক্ষিকা কাজলী আক্তার এক শিশু শিক্ষার্থীকে দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করাচ্ছেন। এ সময় কক্ষে উপস্থিত ছিলেন আরও দুই সহকারী শিক্ষিকা। তাদের মধ্যে ওয়াহিদা জান্নাত মুনমুন মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন এবং মনি আক্তার আলাপচারিতায় ব্যস্ত ছিলেন।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শিক্ষকদের। সেখানে একজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, “যেখানে বিদ্যালয় শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার স্থান, সেখানে একজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে এ ধরনের ব্যক্তিগত কাজ করানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

ডিমলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্র নাথ রায় বলেন, “ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দোষী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, তিনি ভিডিওটি দেখেছেন। তবে এটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়, ১০ থেকে ১৫ দিন আগের ঘটনা। বিষয়টি জানার পরই প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের মাধ্যমে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের শোকজ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।