ঢাকা ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে Logo মক্কা-মদিনা ছাড়া সৌদির সব বিমানবন্দরে হামলার হুমকি হুতিদের Logo শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের ত্যাগ রয়েছে: মাহ্‌দী আমিন Logo পাংশায় ধর্ষণ ও সন্তান অস্বীকারের মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন Logo রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি মোছার চেষ্টা: আয়াস-সাকিবের ৩ দিন, দুজনের ২ দিনের রিমান্ড Logo আচারের বয়ামে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার ডায়মন্ড, স্বর্ণ ও প্লাটিনাম জব্দ Logo মাত্র ৭ হাজার টাকায় ঘরে বসেই করা যাবে এআই ইসিজি Logo আবরার ফাহাদ হত্যা: ‘গুপ্ত শিবির জড়িত ছিল’, দাবি আবু হানিফের Logo দিল্লিতে আটক আইনজীবীদের মুক্তির নির্দেশ প্রধান বিচারপতির Logo দিল্লিতে আটকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সিজেপি নেতার দাদির মৃত্যু

প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে কিশোরীকে হত্যা, গ্রেপ্তার মা; বাবার খোঁজে পুলিশ

খুলনা, নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনায় ১৬ বছর বয়সী কিশোরী আরফানা হোসেন নির্জনাকে প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে। হত্যার পর মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে নগরীর প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সড়কে ফেলে রেখে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়। তবে ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কেএমপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সিমা (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর অভিযুক্ত বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশ জানায়, গত ৮ জুলাই রাত ৯টার দিকে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতরে অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই, সিআইডিসহ বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ, বেতার বার্তা প্রচার এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হয়। নিহত কিশোরী সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা আরফানা হোসেন নির্জনা।

তদন্তের একপর্যায়ে নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও পরে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে বাবা লাঠি দিয়ে নির্জনার মাথায় আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। পরে বাবা-মা মিলে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে নগরীর প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সড়কে ফেলে রেখে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

কেএমপি জানায়, নিহতের বাবা-মা অভিযুক্ত হওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। পলাতক বাবাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:৫৩:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
৪৬১২ বার পড়া হয়েছে

প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে কিশোরীকে হত্যা, গ্রেপ্তার মা; বাবার খোঁজে পুলিশ

আপডেট সময় ১২:৫৩:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

খুলনায় ১৬ বছর বয়সী কিশোরী আরফানা হোসেন নির্জনাকে প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে। হত্যার পর মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে নগরীর প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সড়কে ফেলে রেখে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়। তবে ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কেএমপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সিমা (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর অভিযুক্ত বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশ জানায়, গত ৮ জুলাই রাত ৯টার দিকে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতরে অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই, সিআইডিসহ বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ, বেতার বার্তা প্রচার এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হয়। নিহত কিশোরী সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা আরফানা হোসেন নির্জনা।

তদন্তের একপর্যায়ে নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও পরে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে বাবা লাঠি দিয়ে নির্জনার মাথায় আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। পরে বাবা-মা মিলে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে নগরীর প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সড়কে ফেলে রেখে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

কেএমপি জানায়, নিহতের বাবা-মা অভিযুক্ত হওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। পলাতক বাবাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।