ঢাকা ০৮:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে মিরপুর-আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ, ৩০ কারখানায় ছুটি Logo হেমন্তে আবহাওয়া পরিবর্তনে বাড়ছে অসুস্থতার ঝুঁকি, সুস্থ থাকতে মানতে হবে যেসব সতর্কতা Logo ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমল স্বর্ণের দাম Logo ৯ মাস পর অভিনয়ে ফিরলেন তানিয়া বৃষ্টি Logo এইচএসসির ফলাফলে দেশসেরা আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ Logo তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় দীপের চার দিনের রিমান্ড Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: শফিকুর রহমান Logo প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ফলপ্রসূ, এক লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা Logo এলপিজির কমিশন ও চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব, ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম হতে পারে ১,৯৭৬ টাকা Logo দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম, ভরি ২ লাখ ২৩ হাজার টাকা

এইচএসসির ফলাফলে দেশসেরা আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১ হাজার ৫৫২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস ১ হাজার ৫৫১, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৬১ জন

সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ। এ বছর কলেজটির ১ হাজার ৫৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ৫৫১ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৬১ জন। একজন শিক্ষার্থী অসুস্থতার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

শনিবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর কলেজটির শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

কলেজের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সাল থেকে টানা তিন বছর ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ। ২০১৫ সাল থেকে শিক্ষা বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে সেরাদের তালিকা প্রকাশ বন্ধ করলেও ফলাফলে নিজেদের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ বছর বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক—তিনটি বিভাগেই ভালো ফল করেছে কলেজটি। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১ হাজার ৫৮ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৯৪ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৮০ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৯ জন। মানবিক বিভাগে ৩১১ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৮ জন।

সাফল্যের বিষয়ে শিক্ষার্থীরা জানায়, শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিরলস পরিশ্রম এবং সার্বক্ষণিক তদারকির কারণে তারা ভালো ফল করতে পেরেছে। ধারাবাহিক সাফল্যের অংশ হিসেবে এবারও ভালো ফল অর্জন করতে পেরে তারা আনন্দিত।

কলেজের অধ্যক্ষ হেরেম উল্লাহ আহসান বলেন, ‘আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। আমাদের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লার সরাসরি নির্দেশনায় নিয়মিত ক্লাস, বিশেষ ক্লাস, হোম ভিজিট, টিউটোরিয়াল, মাসিক পরীক্ষা ও গাইড শিক্ষকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমরাও কঠোর পরিশ্রম করেছি। একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা চলাকালে অসুস্থ হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় একজন অকৃতকার্য হয়েছে। যার কারণে শতভাগ পাস থেকে বঞ্চিত হয়েছি।’

কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও গভর্নিং বডির সভাপতি আবদুল কাদির মোল্লা বলেন, ‘প্রথমেই আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। এটি নরসিংদীবাসীর অর্জন। সাফল্যের ধারাবাহিকতায় সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা।’

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ। ২০০৮ সালে প্রথম পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ছিল ৯৯ শতাংশ। ২০০৯ সালে শতভাগ পাসসহ ঢাকা বোর্ডে পঞ্চম এবং সারা দেশে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করে কলেজটি। ২০১০ সালে ঢাকা বোর্ডে চতুর্থ এবং ২০১১ সালে সপ্তম স্থান অর্জন করে।

এরপর ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে ঢাকা বোর্ড তথা সারা দেশে শতভাগ পাসসহ দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তী সময়ে শিক্ষা বোর্ড থেকে সেরাদের তালিকা প্রকাশ বন্ধ হলেও ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে কলেজটি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৬:৫৯:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
৪৫১২ বার পড়া হয়েছে

এইচএসসির ফলাফলে দেশসেরা আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ

আপডেট সময় ০৬:৫৯:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

১ হাজার ৫৫২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস ১ হাজার ৫৫১, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৬১ জন

সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ। এ বছর কলেজটির ১ হাজার ৫৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ৫৫১ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৬১ জন। একজন শিক্ষার্থী অসুস্থতার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

শনিবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর কলেজটির শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

কলেজের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সাল থেকে টানা তিন বছর ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ। ২০১৫ সাল থেকে শিক্ষা বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে সেরাদের তালিকা প্রকাশ বন্ধ করলেও ফলাফলে নিজেদের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ বছর বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক—তিনটি বিভাগেই ভালো ফল করেছে কলেজটি। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১ হাজার ৫৮ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৯৪ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৮০ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৯ জন। মানবিক বিভাগে ৩১১ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৮ জন।

সাফল্যের বিষয়ে শিক্ষার্থীরা জানায়, শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিরলস পরিশ্রম এবং সার্বক্ষণিক তদারকির কারণে তারা ভালো ফল করতে পেরেছে। ধারাবাহিক সাফল্যের অংশ হিসেবে এবারও ভালো ফল অর্জন করতে পেরে তারা আনন্দিত।

কলেজের অধ্যক্ষ হেরেম উল্লাহ আহসান বলেন, ‘আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। আমাদের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লার সরাসরি নির্দেশনায় নিয়মিত ক্লাস, বিশেষ ক্লাস, হোম ভিজিট, টিউটোরিয়াল, মাসিক পরীক্ষা ও গাইড শিক্ষকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমরাও কঠোর পরিশ্রম করেছি। একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা চলাকালে অসুস্থ হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় একজন অকৃতকার্য হয়েছে। যার কারণে শতভাগ পাস থেকে বঞ্চিত হয়েছি।’

কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও গভর্নিং বডির সভাপতি আবদুল কাদির মোল্লা বলেন, ‘প্রথমেই আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। এটি নরসিংদীবাসীর অর্জন। সাফল্যের ধারাবাহিকতায় সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা।’

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ। ২০০৮ সালে প্রথম পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ছিল ৯৯ শতাংশ। ২০০৯ সালে শতভাগ পাসসহ ঢাকা বোর্ডে পঞ্চম এবং সারা দেশে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করে কলেজটি। ২০১০ সালে ঢাকা বোর্ডে চতুর্থ এবং ২০১১ সালে সপ্তম স্থান অর্জন করে।

এরপর ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে ঢাকা বোর্ড তথা সারা দেশে শতভাগ পাসসহ দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তী সময়ে শিক্ষা বোর্ড থেকে সেরাদের তালিকা প্রকাশ বন্ধ হলেও ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে কলেজটি।