ঢাকা ১১:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শুধু বেঞ্চ বাড়িয়ে মামলাজট কমানো সম্ভব নয়: অ্যাটর্নি জেনারেল Logo সাংবাদিকদের পেটানোর হুমকি, আব্বাসীকে আইনি নোটিশ Logo ইরান যুদ্ধকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বললেন ওবামা, ট্রাম্পের পাল্টা আক্রমণ Logo নারায়ণগঞ্জে কুবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পুলিশি হেফাজতে Logo ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ ২২৪৯ রোগী হাসপাতালে, মৃত্যু ৭ Logo জীবনযাত্রার ব্যয় ও আবাসন সংকটে উত্তাল ইউরোপ, সংঘর্ষ-গ্রেপ্তার Logo ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাত্রা শুরু, বাড়ল ভ্রমণের সময় Logo পুরাতন রমনা থানার সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ Logo সাইবার অপরাধ দমনে গঠন করা হলো স্বতন্ত্র পুলিশ ইউনিট Logo শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়ে মাইকিং, নওগাঁয় আ.লীগের দুই সহযোগী সংগঠনের নেতা গ্রেপ্তার

মানবসম্পদ উন্নয়নে টিভেটকে কর্মসংস্থানের সেতুবন্ধন বললেন শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের প্রধান সম্পদ জনগণ এবং মানবসম্পদই জাতীয় অগ্রগতির প্রধান ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ (টিভেট) প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থান, একাডেমিক জ্ঞানের সঙ্গে বাস্তব প্রয়োগ এবং তরুণদের সম্ভাবনার সঙ্গে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক সুযোগের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) চীনের তিয়ানজিনে ২০২৬ সালের বিশ্ব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়ন সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে জাতীয় বক্তব্য উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জাতীয় রূপকল্প তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিয়ানজিন মেইজিয়াং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘টিভেট: কো-ইম্ব্রেসিং চেঞ্জ, কো-ফর্সিং স্ট্যান্ডার্ডস, কো-ক্রিয়েটিং ফিউচার’।

বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটালাইজেশন, উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি ও সবুজ প্রযুক্তির প্রভাবে বৈশ্বিক শ্রমবাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ভবিষ্যতের অর্থনীতির চাহিদা পূরণে শুধু একাডেমিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়; শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে ব্যবহারিক, প্রযুক্তিগত ও ডিজিটাল দক্ষতার সমন্বয় জরুরি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের টিভেট সংস্কার কর্মসূচি শুধু নতুন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে পাঠ্যক্রমের সামঞ্জস্য, শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা হালনাগাদ, শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিল্প-সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা অর্জন এবং জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোর মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।

এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

২০২৬ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ওই সফরে দুই দেশ শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। চীনের সফল অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের টিভেট খাতের আধুনিকায়ন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ জোরদার, শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিল্প-সংযুক্ত ব্যবহারিক শিক্ষার প্রসারে কাজ করবে বাংলাদেশ।

সম্মেলনের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্যের আলোকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। তবে তাঁর ওই তিনটি আহ্বানের বিস্তারিত বক্তব্য সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ করা হয়নি।

উচ্চপর্যায়ের এ সম্মেলনে ৪০টিরও বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী এবং ১০০টিরও বেশি দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল অংশ নিয়েছে। এতে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি, শিল্পখাতের শীর্ষ নেতা, বিশ্ববিদ্যালয়প্রধান এবং বিভিন্ন অঞ্চলের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিশেষজ্ঞরাও উপস্থিত রয়েছেন।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের শিক্ষামন্ত্রী হুয়াই জিনপেং, দেশটির স্টেট কাউন্সিলের ভাইস প্রিমিয়ার দিং শুয়েশিয়াং, তিয়ানজিনের মেয়র ঝাং গং, মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদি এবং ইউনেস্কোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনের ফাঁকে চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী রেন ইউছুয়েনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। বৈঠকে বাংলাদেশের বিদ্যমান কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন, যৌথ কারিগরি শিক্ষা কর্মসূচি চালু, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা সরকারি বৃত্তি সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ-চীন যৌথ কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে উভয় পক্ষ এসব অগ্রাধিকারমূলক সহযোগিতা উদ্যোগ বাস্তবায়নে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণে সম্মত হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:৪২:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
৪৫২৭ বার পড়া হয়েছে

মানবসম্পদ উন্নয়নে টিভেটকে কর্মসংস্থানের সেতুবন্ধন বললেন শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:৪২:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের প্রধান সম্পদ জনগণ এবং মানবসম্পদই জাতীয় অগ্রগতির প্রধান ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ (টিভেট) প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থান, একাডেমিক জ্ঞানের সঙ্গে বাস্তব প্রয়োগ এবং তরুণদের সম্ভাবনার সঙ্গে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক সুযোগের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) চীনের তিয়ানজিনে ২০২৬ সালের বিশ্ব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়ন সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে জাতীয় বক্তব্য উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জাতীয় রূপকল্প তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিয়ানজিন মেইজিয়াং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘টিভেট: কো-ইম্ব্রেসিং চেঞ্জ, কো-ফর্সিং স্ট্যান্ডার্ডস, কো-ক্রিয়েটিং ফিউচার’।

বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটালাইজেশন, উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি ও সবুজ প্রযুক্তির প্রভাবে বৈশ্বিক শ্রমবাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ভবিষ্যতের অর্থনীতির চাহিদা পূরণে শুধু একাডেমিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়; শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে ব্যবহারিক, প্রযুক্তিগত ও ডিজিটাল দক্ষতার সমন্বয় জরুরি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের টিভেট সংস্কার কর্মসূচি শুধু নতুন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে পাঠ্যক্রমের সামঞ্জস্য, শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা হালনাগাদ, শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিল্প-সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা অর্জন এবং জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোর মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।

এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

২০২৬ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ওই সফরে দুই দেশ শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। চীনের সফল অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের টিভেট খাতের আধুনিকায়ন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ জোরদার, শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিল্প-সংযুক্ত ব্যবহারিক শিক্ষার প্রসারে কাজ করবে বাংলাদেশ।

সম্মেলনের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্যের আলোকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। তবে তাঁর ওই তিনটি আহ্বানের বিস্তারিত বক্তব্য সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ করা হয়নি।

উচ্চপর্যায়ের এ সম্মেলনে ৪০টিরও বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী এবং ১০০টিরও বেশি দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল অংশ নিয়েছে। এতে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি, শিল্পখাতের শীর্ষ নেতা, বিশ্ববিদ্যালয়প্রধান এবং বিভিন্ন অঞ্চলের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিশেষজ্ঞরাও উপস্থিত রয়েছেন।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের শিক্ষামন্ত্রী হুয়াই জিনপেং, দেশটির স্টেট কাউন্সিলের ভাইস প্রিমিয়ার দিং শুয়েশিয়াং, তিয়ানজিনের মেয়র ঝাং গং, মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদি এবং ইউনেস্কোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনের ফাঁকে চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী রেন ইউছুয়েনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। বৈঠকে বাংলাদেশের বিদ্যমান কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন, যৌথ কারিগরি শিক্ষা কর্মসূচি চালু, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা সরকারি বৃত্তি সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ-চীন যৌথ কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে উভয় পক্ষ এসব অগ্রাধিকারমূলক সহযোগিতা উদ্যোগ বাস্তবায়নে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণে সম্মত হয়।