ঢাকা ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

মরিয়মের আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলা: মামা ওবায়দুরের চার দিনের রিমান্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন শুনানি শেষে এ রিমান্ডের আদেশ দেন।

এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারের পর ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানির সময় ওবায়দুরকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী ও হারুন-অর-রশীদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তারা বলেন, মরিয়মকে নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি ও কিছু ভিডিও প্রকাশের পর তাদের সম্পর্ক ও বিয়ের বিষয়টি সামনে আসে। বিয়ের কাবিননামা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। এসব বিষয়ে ওবায়দুর সাক্ষী। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা উদ্‌ঘাটনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

অন্যদিকে ওবায়দুরের আইনজীবী গোলাম সাবের চৌধুরী রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। তিনি দাবি করেন, গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের সম্পর্কের বিষয়ে ওবায়দুর আপত্তি জানিয়েছিলেন। নজরুল ইসলাম তাকে টাকা ও চাকরির প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলেও আদালতে দাবি করেন আইনজীবী। তার ভাষ্য, বিয়েতে সাক্ষী থাকা আর আত্মহত্যার প্ররোচনায় জড়িত থাকা এক বিষয় নয়। পরে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার পর আদালত গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়। মাকছুদাকে এক দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

বুধবার নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলাম আদালতে আপসনামা দাখিল করেন। আদালত নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করলেও মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:১৬:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
৪৫১৪ বার পড়া হয়েছে

মরিয়মের আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলা: মামা ওবায়দুরের চার দিনের রিমান্ড

আপডেট সময় ০৮:১৬:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন শুনানি শেষে এ রিমান্ডের আদেশ দেন।

এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারের পর ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানির সময় ওবায়দুরকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী ও হারুন-অর-রশীদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তারা বলেন, মরিয়মকে নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি ও কিছু ভিডিও প্রকাশের পর তাদের সম্পর্ক ও বিয়ের বিষয়টি সামনে আসে। বিয়ের কাবিননামা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। এসব বিষয়ে ওবায়দুর সাক্ষী। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা উদ্‌ঘাটনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

অন্যদিকে ওবায়দুরের আইনজীবী গোলাম সাবের চৌধুরী রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। তিনি দাবি করেন, গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের সম্পর্কের বিষয়ে ওবায়দুর আপত্তি জানিয়েছিলেন। নজরুল ইসলাম তাকে টাকা ও চাকরির প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলেও আদালতে দাবি করেন আইনজীবী। তার ভাষ্য, বিয়েতে সাক্ষী থাকা আর আত্মহত্যার প্ররোচনায় জড়িত থাকা এক বিষয় নয়। পরে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার পর আদালত গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়। মাকছুদাকে এক দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

বুধবার নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলাম আদালতে আপসনামা দাখিল করেন। আদালত নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করলেও মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেন।