খিলপাড়া মজুমদার বাড়ি: দুই শতাব্দীর ঐতিহ্য, শিক্ষা ও জনকল্যাণের ইতিহাস
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর কালচোঁ উত্তর ইউনিয়নের খিলপাড়া একটি ঐতিহ্যবাহী জনপদ। এ জনপদের ইতিহাস, সামাজিক বিকাশ ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে রয়েছে খিলপাড়া মজুমদার বাড়ি। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এ পরিবারের বিভিন্ন প্রজন্ম শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, জনসেবা এবং স্থানীয় অবকাঠামো বিকাশে নানা অবদান রেখে আসছে। ফেনীর ফুলগাজী–পরশুরাম অঞ্চল থেকে খিলপাড়ায় আগমন, জমিদারি প্রতিষ্ঠা, ব্রিটিশ আমলে আইনসভায় প্রতিনিধিত্ব, শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান এবং জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি দান—সব মিলিয়ে পরিবারটির ইতিহাস স্থানীয় ঐতিহ্যের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। বর্তমানে পরিবারটির অষ্টম প্রজন্মের সদস্যরাও এ জনপদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে জানা যায়।
ব্রিটিশ আমলে আইনসভার সদস্য জুনাব আলী মজুমদার
খিলপাড়া মজুমদার পরিবারের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বদের মধ্যে অন্যতম মো. জুনাব আলী মজুমদার। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ব্রিটিশ আমলে আইনসভার সদস্য—Member of Legislative Assembly (MLA)—হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি ‘সাহেব’ নামে পরিচিত ছিলেন। জনসম্পৃক্ততা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁর এ পরিচিতি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রচলিত রয়েছে।
তাঁর স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে খিলপাড়া গ্রামের দক্ষিণ প্রান্তের সাহেব বাজার। স্থানীয় বাণিজ্য ও জনজীবনের পরিচিত এ বাজারটি আজও এলাকার মানুষের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
একজন মানুষের সামাজিক পরিচয় ও অবদান কীভাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে টিকে থাকতে পারে, সাহেব বাজারের নাম তারই একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে জুনাব আলী মজুমদারের আইনসভার সদস্যপদ, দায়িত্বকাল ও কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য ঐতিহাসিক দলিলের মাধ্যমে যাচাই ও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
শিক্ষার আলো ছড়িয়েছিলেন মমতাজউদ্দিন মজুমদার
পরিবারটির আরেকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব মো. মমতাজউদ্দিন মজুমদার, বিএ, বিএড (গণিত)। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি তৎকালীন চট্টগ্রাম মুসলিম ইন্টারমিডিয়েট হাই স্কুলে গণিতের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং পরবর্তী সময়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে হাজী মুহাম্মদ মহসিন সরকারি কলেজ নামে পরিচিত। গণিতের শিক্ষক হিসেবে তিনি চট্টগ্রামে সুনাম অর্জন করেছিলেন বলে পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৯২১ সালের দিকে কলকাতা ও আলিগড়ের উচ্চশিক্ষা পরিমণ্ডলের সঙ্গে যুক্ত থেকে গণিতে বিএ ও বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। তবে তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ডিগ্রি অর্জনের সাল এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সুনির্দিষ্ট তথ্য সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। স্থানীয়ভাবে তাঁকে হাজীগঞ্জ অঞ্চলের প্রথমদিককার স্নাতকদের একজন বলে মনে করা হয়।
যে সময়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ ছিল সীমিত, সে সময়ে প্রত্যন্ত জনপদ থেকে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে শিক্ষকতা ও জ্ঞানচর্চায় যুক্ত হওয়া ছিল তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। তাঁর মতো শিক্ষিত ব্যক্তিত্বের কর্মজীবন স্থানীয় সমাজে শিক্ষার প্রসার ও আধুনিক চিন্তাধারার বিকাশের ইতিহাস তুলে ধরে।
অবসর গ্রহণের পর ষাটের দশকে তিনি গ্রামে ফিরে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি মাদ্রাসায় রূপান্তরিত হয়। এ উদ্যোগ খিলপাড়ায় শিক্ষার প্রসারে তাঁর আগ্রহ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচায়ক হিসেবে বিবেচিত হয়।
অবকাঠামো উন্নয়ন, ক্রীড়া ও জনসেবায় ড. প্রকৌশলী মো. জিয়াউল ইসলাম মজুমদার
খিলপাড়া মজুমদার পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব ড. প্রকৌশলী মো. জিয়াউল ইসলাম মজুমদার। তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, প্রকৌশল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে তাঁর কর্মজীবন বিস্তৃত হয়েছে।
তিনি শিক্ষাবিদ মমতাজউদ্দিন মজুমদারের নাতি। তাঁর বাবা মরহুম শফিকুল ইসলাম মজুমদার একজন ব্যাংক কর্মকর্তা ছিলেন। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সৎ, সদালাপী ও ভালো মানুষ হিসেবে এলাকায় তাঁর পরিচিতি ছিল।
প্রকৌশল পেশার পাশাপাশি ড. প্রকৌশলী জিয়াউল ইসলাম মজুমদারের আগ্রহ রয়েছে সামাজিক উন্নয়ন, তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা এবং স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে। ছোটবেলা থেকেই তিনি দাবা, ক্রিকেট, ফুটবল ও ব্যাডমিন্টনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। খেলাধুলার প্রতি তাঁর আগ্রহ পরবর্তী সময়েও অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশির দশকে প্রতিষ্ঠিত একতা স্পোর্টিং ক্লাবটি একসময় বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে তিনি ক্লাবটি পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেন এবং বর্তমানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর এ উদ্যোগের লক্ষ্য স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা।
এ ছাড়া তিনি এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজাপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা যায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা পরিবারটির জনসেবামূলক ধারাবাহিকতার একটি সমসাময়িক দিক।
প্রকৌশলীদের সর্ববৃহৎ পেশাজীবী সংগঠন ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (IEB)-এর কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। প্রকৌশলীদের পেশাগত মর্যাদা, অধিকার, দক্ষতা উন্নয়ন ও কল্যাণের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তিনি প্রকৌশল ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কাজ করে যাচ্ছেন।

জনকল্যাণে প্রায় এক একর জমি দানের দৃষ্টান্ত
খিলপাড়া মজুমদার পরিবারের ইতিহাসের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য পারিবারিক জমি দান। পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান বাজারমূল্যে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যমানের আনুমানিক এক একর জমি বিভিন্ন সরকারি ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য দান করা হয়েছে।
এসব জমিতে স্থানীয় জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে বলে জানা যায়। এর মধ্যে রয়েছে—
- ৩ নম্বর কালচোঁ উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন;
- ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র;
- ইউনিয়ন কৃষি অফিস ও সংরক্ষণাগার/গুদাম;
- ইউনিয়ন পর্যায়ের ভেটেরিনারি হাসপাতাল;
- সাবেক কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট হল বা সিডি হল।
একটি পরিবারের মূল্যবান সম্পদ জনসাধারণের কল্যাণে ব্যবহারের জন্য উৎসর্গ করার এ উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশাসনিক সেবা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষিবিষয়ক পরামর্শ এবং প্রাণিসম্পদ-সংক্রান্ত সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে বর্ণিত এ ভূমি দানের ইতিহাসের পাশাপাশি জমির পরিমাণ, বর্তমান বাজারমূল্য, দানপত্র এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র সংরক্ষণ করা গেলে এ অবদানের ঐতিহাসিক ও প্রামাণ্য ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে।
মসজিদ, মাদ্রাসা ও ঈদগাহ প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা
সরকারি ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণের পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও পরিবারটির অবদান রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। মসজিদ, মাদ্রাসা ও ঈদগাহ প্রতিষ্ঠার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে জমি দান করা হয়েছে বলে পারিবারিক তথ্য থেকে জানা যায়।
এসব প্রতিষ্ঠান স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় জীবন, শিক্ষা ও সামাজিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে পরিবারটির ভূমি দানের কার্যক্রম শুধু সরকারি সেবাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এলাকার ধর্মীয়, শিক্ষাগত ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও এর প্রভাব পড়েছে।
খিলপাড়া মজুমদার বাড়ি: একটি পরিবারের ইতিহাস, একটি জনপদের বিকাশ
খিলপাড়া মজুমদার বাড়ির ইতিহাসকে শুধু একটি পরিবারের বংশপরম্পরার বিবরণ হিসেবে দেখলে এর পূর্ণ তাৎপর্য উপলব্ধি করা কঠিন। পরিবারটির সঙ্গে এ অঞ্চলের সামাজিক, শিক্ষাগত ও অবকাঠামোগত বিকাশের দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত ইতিহাস থেকে জানা যায়।
একদিকে জুনাব আলী মজুমদারের আইনসভায় প্রতিনিধিত্বের কথা, অন্যদিকে মমতাজউদ্দিন মজুমদারের শিক্ষকতা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ—পরিবারটির ইতিহাসে শিক্ষা ও সামাজিক নেতৃত্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা তুলে ধরে। বর্তমান প্রজন্মের ড. প্রকৌশলী মো. জিয়াউল ইসলাম মজুমদারের প্রকৌশল পেশা, ক্রীড়া সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততাও এ ধারার সমসাময়িক প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এর পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি দানের তথ্য পরিবারটির সামাজিক দায়বদ্ধতার ইতিহাসকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এসব অবদান দলিলভিত্তিকভাবে সংরক্ষিত হলে তা শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং খিলপাড়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সামাজিক ইতিহাস রচনাতেও সহায়ক হবে।
ভৌগোলিক অবস্থানেও রয়েছে ঐতিহাসিক গুরুত্ব
খিলপাড়া মজুমদার বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর কালচোঁ উত্তর ইউনিয়নের খিলপাড়া গ্রামে অবস্থিত। স্থানীয় বর্ণনা অনুযায়ী, বালাখাল বাস ও রেলস্টেশন থেকে কুমিল্লা–চাঁদপুর সড়কের উত্তর দিকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে, বালাখাল–নারায়ণপুর গ্রামীণ সড়কের পাশে এর অবস্থান।
খিলপাড়া গ্রামের দক্ষিণ ও উত্তর প্রান্তে রয়েছে দুটি পরিচিত বাজার—সাহেব বাজার ও রাজাপুর বাজার। এ দুই বাজারের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত মজুমদার বাড়ি বা মজুমদার এস্টেট।
এ অবস্থান পরিবারটির আবাসস্থলকে স্থানীয় যোগাযোগ, বাজারব্যবস্থা ও জনবসতির বিকাশের ইতিহাসের সঙ্গেও যুক্ত করেছে বলে মনে করা হয়।
আট প্রজন্মের উত্তরাধিকার
ফেনীর ফুলগাজী–পরশুরাম অঞ্চল থেকে খিলপাড়ায় আগমন এবং পরবর্তী সময়ে স্থানীয়ভাবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে মজুমদার পরিবারের যে পথচলা শুরু হয়েছিল, তা কয়েক প্রজন্ম অতিক্রম করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়।
ব্রিটিশ শাসনামল, পাকিস্তান পর্ব এবং স্বাধীন বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে পরিবারটির বিভিন্ন প্রজন্ম নিজেদের কর্মক্ষেত্র গড়ে তুলেছেন। তাঁদের কেউ শিক্ষা, কেউ সরকারি-বেসরকারি চাকরি, কেউ পেশাজীবন, আবার কেউ সামাজিক নেতৃত্ব ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
পরিবারটির আট প্রজন্মের ইতিহাস যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে হাজীগঞ্জ অঞ্চলের সামাজিক পরিবর্তন, শিক্ষার বিস্তার, স্থানীয় নেতৃত্ব এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের ধারাবাহিকতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।
ঐতিহ্য সংরক্ষণ এখন সময়ের দাবি
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক ঐতিহাসিক তথ্য, পারিবারিক দলিল, পুরোনো ছবি ও স্মৃতিচিহ্ন হারিয়ে যায়। ফলে ঐতিহ্যবাহী পরিবারের অবদান সংরক্ষণের জন্য এখনই পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
খিলপাড়া মজুমদার পরিবারের ইতিহাস সংরক্ষণে কয়েকটি উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে—পরিবারের পূর্ণাঙ্গ বংশতালিকা প্রস্তুত, পূর্বপুরুষদের জীবন ও কর্মের তথ্য সংগ্রহ, জমিদারি-সংক্রান্ত দলিল সংরক্ষণ, ভূমি দানের নথিপত্র সংগ্রহ এবং প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসেবামূলক স্থাপনাগুলোর ইতিহাস লিপিবদ্ধ করা।
বিশেষ করে জুনাব আলী মজুমদারের আইনসভার সদস্যপদ ও কর্মকাণ্ড এবং মমতাজউদ্দিন মজুমদারের শিক্ষাজীবন ও শিক্ষকতার তথ্য প্রামাণ্য নথির ভিত্তিতে সংরক্ষণ করা গেলে বৃহত্তর চাঁদপুর অঞ্চলের ইতিহাসও সমৃদ্ধ হবে।
খিলপাড়া মজুমদার বাড়ির ইতিহাস তাই কেবল অতীতের জমিদারি ঐতিহ্যের গল্প নয়; এটি শিক্ষা, পেশাগত অগ্রগতি, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং জনকল্যাণের সঙ্গে যুক্ত একটি দীর্ঘ পারিবারিক পথচলার বিবরণ। এ ইতিহাসের যথাযথ সংরক্ষণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তাদের শিকড় সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে এবং স্থানীয় ঐতিহ্য রক্ষায় নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করবে।
























