চাঞ্চল্যকর রিফাত হত্যা মামলার চার আসামি র্যাব-৭ এর জালে
চট্টগ্রামের পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামিসহ তদন্তে প্রাপ্ত আরও একজনকে আটক
চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী থানার বহুল আলোচিত ইলেকট্রিক মিস্ত্রি মোঃ রিফাত (২৮) হত্যা মামলার চার আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম। আটককৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
র্যাব-৭ সূত্রে জানা যায়, নিহত রিফাত চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী থানার আব্দুপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ছিলেন। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে গত ২৩ জুন ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি মোঃ সাজ্জাদ আলম শুভ (৩২) কৌশলে রিফাতকে তার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়।
পরে পাহাড়তলী থানার দক্ষিণ কাট্টলী ১১ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল সূফী চৌধুরী গ্যারেজ সংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়ে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ১ নম্বর আসামি মোঃ শামীম (৩৫), ৩ নম্বর আসামি মারুফসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন সংঘবদ্ধভাবে রিফাতের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাকে মারধর করার পাশাপাশি শামীম হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে রিফাতের বাম হাঁটুর ওপর আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে স্থানীয়রা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়।
ঘটনার পর নিহতের ভাই বাদী হয়ে পাহাড়তলী থানায় ৩ জনকে এজাহারভুক্ত এবং অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর-১১/৯২, তারিখ ২৪ জুন ২০২৬; ধারা ৩০২/৩৪, পেনাল কোড-১৮৬০।
মামলার পর থেকে পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে র্যাব-৭ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকায় অবস্থান করছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ জুলাই ২০২৬ দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে র্যাব-৭ এর একটি আভিযানিক দল সীতাকুণ্ড থানার জলিল টেক্সটাইল বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ নম্বর আসামি মোঃ শামীম (৩৫) এবং ২ নম্বর আসামি মোঃ সাজ্জাদ আলম শুভ (৩২)-কে গ্রেফতার করে।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৭ এর আরও দুটি আভিযানিক দল একই দিন দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে বায়েজিদ বোস্তামী থানার বালুছড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি মারুফ (২৭)-কে আটক করে। পরে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে হালিশহর থানার মাইজপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার তদন্তে সম্পৃক্ত অভিযুক্ত সুমন (৩০)-কে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-৭ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত চার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
























