সব মামলায় জামিন পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক, মুক্তিতে বাধা নেই
রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় দেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তাঁকে গ্রেফতার দেখানো সবকটি মামলায় জামিন মেলায় কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবীরা।
একই সঙ্গে উক্ত মামলায় তাঁকে কেন নিয়মিত জামিন দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেছেন আদালত।
আজ সোমবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালতে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু ও আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সায়লা শাজনীন শান্তা।
মামলার বিবরণ ও আইনজীবীদের সূত্র জানায়, গত বছরের ২৪ জুলাই সকালে ধানমন্ডির বাসা থেকে এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ওই দিন রাতেই যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে একে একে মোট নয়টি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আজ সর্বশেষ মামলাটিতে জামিন মঞ্জুর হওয়ায় তাঁর কারামুক্তির পথ পরিষ্কার হলো।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এ বি এম খায়রুল হক এবং ২০১১ সালের ১৭ মে অবসরে যান। তাঁর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়। অবসরের পর ২০১৩ সালে তাঁকে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে কয়েক দফায় তাঁর মেয়াদ বাড়ানো হয়। অবশেষে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৩ আগস্ট তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
























