ঢাকা ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo যে ডকুমেন্টারিতে শহীদ আবু সাঈদের ছবি নেই – ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ Logo পলাতক ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে জাতীয় ঐক্য আরও দৃঢ় করতে হবে: মাহদী আমিন Logo ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo ভারতের উপনির্বাচনে দুই আসনে বিজেপির ধাক্কা, প্রশান্ত কিশোরের চমক Logo অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি বিদ্যুৎ বিভাগের Logo এআই ক্যামেরার আওতায় আসছে মোটরসাইকেল, সামনেও লাগানো হবে নম্বর প্লেট Logo ‘বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন’ নামে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ Logo বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা আরও গভীর করার আহ্বান পররাষ্ট্র উপদেষ্টার Logo জীবদ্দশায় দান করা সম্পত্তি ভোগের অধিকার থাকবে, আইনের সংশোধনীতে মন্ত্রিসভার অনুমোদন Logo দক্ষিণ নেপালে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় নিহত ৩, কারফিউ জারি

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব সংবাদ :

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য উপায়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই প্রতিটি অপরাধের বিচার অপরিহার্য।

বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর অনুষ্ঠিত ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বিগত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ও গুম-খুনের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে তাদের নামে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত একটি করে শিক্ষা বা জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের নামকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সম্পর্কে তিনি বলেন, এই জাদুঘর যেন কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠার স্থান না হয়ে ওঠে। বরং এটি যেন ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণ এবং গণতন্ত্রকামী জনগণের আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, “২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের নয়; এর প্রকৃত মহানায়ক বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।”

প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যে ঐতিহাসিক গুরুত্বের তুলনা তুলে ধরে বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের জন্য, আর ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের মতোই ২০২৪ সালের শহীদদেরও জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।”

দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির বিভিন্ন অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কেউ কেউ অপ্রয়োজনীয় ইস্যু তৈরি করে অনিচ্ছাকৃতভাবে পতিত ও পলাতক স্বৈরাচারী শক্তির পুনরুত্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছেন কিনা, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারী শাসনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, এই সময়ে হাজার হাজার মানুষ গুম, অপহরণ, নির্যাতন, হামলা এবং মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। শুধু জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানেই বহু ছাত্র-জনতা, নারী ও শিশু প্রাণ হারিয়েছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গণ-অভ্যুত্থান দমনে ফ্যাসিস্ট চক্র হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে গণতন্ত্রকামী মানুষকে হত্যা করেছে, যা সভ্য বিশ্বে বিরল ও নৃশংস ঘটনা। তার ভাষায়, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম, খুন ও অপহরণকে একটি স্বাভাবিক রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ায় পরিণত করা হয়েছিল।

বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও রাজনৈতিক সহিংসতার নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:২৩:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
৪৫০১ বার পড়া হয়েছে

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট সময় ১২:২৩:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য উপায়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই প্রতিটি অপরাধের বিচার অপরিহার্য।

বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর অনুষ্ঠিত ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বিগত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ও গুম-খুনের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে তাদের নামে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত একটি করে শিক্ষা বা জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের নামকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সম্পর্কে তিনি বলেন, এই জাদুঘর যেন কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠার স্থান না হয়ে ওঠে। বরং এটি যেন ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণ এবং গণতন্ত্রকামী জনগণের আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, “২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের নয়; এর প্রকৃত মহানায়ক বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।”

প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যে ঐতিহাসিক গুরুত্বের তুলনা তুলে ধরে বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের জন্য, আর ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের মতোই ২০২৪ সালের শহীদদেরও জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।”

দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির বিভিন্ন অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কেউ কেউ অপ্রয়োজনীয় ইস্যু তৈরি করে অনিচ্ছাকৃতভাবে পতিত ও পলাতক স্বৈরাচারী শক্তির পুনরুত্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছেন কিনা, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারী শাসনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, এই সময়ে হাজার হাজার মানুষ গুম, অপহরণ, নির্যাতন, হামলা এবং মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। শুধু জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানেই বহু ছাত্র-জনতা, নারী ও শিশু প্রাণ হারিয়েছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গণ-অভ্যুত্থান দমনে ফ্যাসিস্ট চক্র হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে গণতন্ত্রকামী মানুষকে হত্যা করেছে, যা সভ্য বিশ্বে বিরল ও নৃশংস ঘটনা। তার ভাষায়, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম, খুন ও অপহরণকে একটি স্বাভাবিক রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ায় পরিণত করা হয়েছিল।

বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও রাজনৈতিক সহিংসতার নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।