ঢাকা ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo এস এম গার্মেন্টস ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমানের অনুপ্রেরণার গল্প Logo জুলাই গণআন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে চট্টগ্রামে ৮ শহীদ পরিবারের পাশে এ্যাব Logo জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে চট্টগ্রামে এ্যাবের আলোচনা সভা ও পুনর্বাসন সহায়তা Logo ১৫ আগস্ট উপলক্ষে জবি ছাত্রলীগের ব্যানার টানানো Logo সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে নিহত ৯, নিরাপত্তা অবহেলার অভিযোগ Logo নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে যুক্ত হচ্ছে আরও ৫০০ শয্যা, উদ্বোধন শনিবার Logo বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সংসদের বিশেষ অধিবেশন চান শফিকুর রহমান Logo বাংলাদেশের বাড়তি ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ বিবেচনা করবে ভারত Logo ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধের হুমকিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল Logo খালেদা জিয়ার জন্মদিনে দেশব্যাপী দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের কর্মসূচি বিএনপির

এস এম গার্মেন্টস ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমানের অনুপ্রেরণার গল্প

অলি আহাদ, মাদারীপুর

স্বপ্ন, সাহস ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে প্রতিকূলতাকেও জয় করা সম্ভব—এ কথারই বাস্তব উদাহরণ এস এম গার্মেন্টস ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান ও তাঁর সহধর্মিণীর পথচলা। সীমিত সামর্থ্য নিয়ে শুরু করা তাঁদের ছোট্ট উদ্যোগ আজ শত শত নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন পূরণের অন্যতম সহায়ক হয়ে উঠেছে।

২০২৪ সালের আগস্ট মাসে নানা আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নকে সামনে রেখে মিজানুর রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে এস এম গার্মেন্টস ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। যাত্রার শুরুতে তাঁদের মোকাবিলা করতে হয়েছে নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ। অর্থনৈতিক সংকট, সীমিত সুযোগ-সুবিধা এবং নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে মানুষের আস্থা অর্জনের মতো বিষয়গুলো তাঁদের জন্য ছিল বড় পরীক্ষা। তবে তাঁরা হাল ছাড়েননি। কঠোর পরিশ্রম, সততা ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে এগিয়ে চলেছেন।

সময়ের সঙ্গে তাঁদের সেই পরিশ্রমের সুফল আসতে শুরু করে। বর্তমানে এস এম গার্মেন্টস ট্রেনিং সেন্টারের মাধ্যমে নিট, ডেনিম ও ওভেন গার্মেন্টসের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে শত শত নারী-পুরুষ নিজেদের দক্ষ করে তুলেছেন। প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকে দেশে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন। আবার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অনেকেই সুইং গার্মেন্টস অপারেটর হিসেবে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো স্বল্প খরচে প্রশিক্ষণের সুযোগ। মাত্র ১৫ হাজার টাকা খরচে এক মাসের প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি নারী ও পুরুষ প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য খাবার এবং পৃথক আবাসনের সুব্যবস্থাও রয়েছে। দরিদ্র ও অসহায় নারী-পুরুষদের জন্য রয়েছে বিশেষ ছাড়ের সুবিধা, যাতে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান।

নিজের সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে উদ্যোক্তা মোঃ মিজানুর রহমান আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “এমন সময়ও গেছে, কোনো কোনো দিন আমাদের না খেয়ে থাকতে হয়েছে। কিন্তু আমরা হাল ছাড়িনি। আজ আমরা নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পেরেছি। আমাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া নারী-পুরুষরাও স্বাবলম্বী হচ্ছেন—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ ও সাফল্য।”

তিনি আরও বলেন, “গার্মেন্টস সেক্টরের জন্য দক্ষ অপারেটর তৈরি করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আমরা শুধু প্রশিক্ষণ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করি না; প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় গাইডলাইন দেওয়ার চেষ্টা করি।”

বর্তমানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে দক্ষ জনবলের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। এই বাস্তবতায় এস এম গার্মেন্টস ট্রেনিং সেন্টারের মতো কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলো তরুণ-তরুণী ও কর্মপ্রত্যাশী মানুষের দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের পরিবারের নারী-পুরুষদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তোলা এবং বিদেশে বৈধ ও নিরাপদ কর্মসংস্থানের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া সময়োপযোগী উদ্যোগ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মিজানুর রহমান বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পেলে প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে। এতে আরও বেশি নারী-পুরুষকে দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং দেশের পাশাপাশি বিদেশের শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী পাঠানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।

শূন্য থেকে শুরু করে আজ অন্যের কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করা—মোঃ মিজানুর রহমান ও তাঁর সহধর্মিণীর এই পথচলা নিঃসন্দেহে একটি অনুপ্রেরণার গল্প। তাঁদের স্বপ্ন এখন শুধু নিজেদের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে আরও বেশি মানুষের জীবন বদলে দেওয়াই তাঁদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:৩১:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
৪৫০২ বার পড়া হয়েছে

এস এম গার্মেন্টস ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমানের অনুপ্রেরণার গল্প

আপডেট সময় ০১:৩১:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

স্বপ্ন, সাহস ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে প্রতিকূলতাকেও জয় করা সম্ভব—এ কথারই বাস্তব উদাহরণ এস এম গার্মেন্টস ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান ও তাঁর সহধর্মিণীর পথচলা। সীমিত সামর্থ্য নিয়ে শুরু করা তাঁদের ছোট্ট উদ্যোগ আজ শত শত নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন পূরণের অন্যতম সহায়ক হয়ে উঠেছে।

২০২৪ সালের আগস্ট মাসে নানা আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নকে সামনে রেখে মিজানুর রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে এস এম গার্মেন্টস ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। যাত্রার শুরুতে তাঁদের মোকাবিলা করতে হয়েছে নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ। অর্থনৈতিক সংকট, সীমিত সুযোগ-সুবিধা এবং নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে মানুষের আস্থা অর্জনের মতো বিষয়গুলো তাঁদের জন্য ছিল বড় পরীক্ষা। তবে তাঁরা হাল ছাড়েননি। কঠোর পরিশ্রম, সততা ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে এগিয়ে চলেছেন।

সময়ের সঙ্গে তাঁদের সেই পরিশ্রমের সুফল আসতে শুরু করে। বর্তমানে এস এম গার্মেন্টস ট্রেনিং সেন্টারের মাধ্যমে নিট, ডেনিম ও ওভেন গার্মেন্টসের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে শত শত নারী-পুরুষ নিজেদের দক্ষ করে তুলেছেন। প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকে দেশে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন। আবার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অনেকেই সুইং গার্মেন্টস অপারেটর হিসেবে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো স্বল্প খরচে প্রশিক্ষণের সুযোগ। মাত্র ১৫ হাজার টাকা খরচে এক মাসের প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি নারী ও পুরুষ প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য খাবার এবং পৃথক আবাসনের সুব্যবস্থাও রয়েছে। দরিদ্র ও অসহায় নারী-পুরুষদের জন্য রয়েছে বিশেষ ছাড়ের সুবিধা, যাতে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান।

নিজের সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে উদ্যোক্তা মোঃ মিজানুর রহমান আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “এমন সময়ও গেছে, কোনো কোনো দিন আমাদের না খেয়ে থাকতে হয়েছে। কিন্তু আমরা হাল ছাড়িনি। আজ আমরা নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পেরেছি। আমাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া নারী-পুরুষরাও স্বাবলম্বী হচ্ছেন—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ ও সাফল্য।”

তিনি আরও বলেন, “গার্মেন্টস সেক্টরের জন্য দক্ষ অপারেটর তৈরি করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আমরা শুধু প্রশিক্ষণ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করি না; প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় গাইডলাইন দেওয়ার চেষ্টা করি।”

বর্তমানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে দক্ষ জনবলের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। এই বাস্তবতায় এস এম গার্মেন্টস ট্রেনিং সেন্টারের মতো কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলো তরুণ-তরুণী ও কর্মপ্রত্যাশী মানুষের দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের পরিবারের নারী-পুরুষদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তোলা এবং বিদেশে বৈধ ও নিরাপদ কর্মসংস্থানের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া সময়োপযোগী উদ্যোগ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মিজানুর রহমান বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পেলে প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে। এতে আরও বেশি নারী-পুরুষকে দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং দেশের পাশাপাশি বিদেশের শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী পাঠানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।

শূন্য থেকে শুরু করে আজ অন্যের কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করা—মোঃ মিজানুর রহমান ও তাঁর সহধর্মিণীর এই পথচলা নিঃসন্দেহে একটি অনুপ্রেরণার গল্প। তাঁদের স্বপ্ন এখন শুধু নিজেদের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে আরও বেশি মানুষের জীবন বদলে দেওয়াই তাঁদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য।