নারী মরদেহের ময়নাতদন্তে নারী ডোম নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টের রুল
দেশের পোস্টমর্টেম সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালগুলোতে নারী মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য নারী ডোম নিয়োগের নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
রোববার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মনির উদ্দিন। তিনি জানান, গত ১৩ জুলাই জনস্বার্থে এ রিটটি দায়ের করা হয়।
রিট আবেদনে বলা হয়, ইসলামসহ বিভিন্ন ধর্মে নারীর মরদেহের মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত একটি আইনি প্রক্রিয়া হলেও নারী মরদেহে পুরুষের স্পর্শ বা উপস্থিতি অনেক পরিবারের কাছে সংবেদনশীল বিষয়। নারী ডোম নিয়োগ করা হলে মরদেহের গোপনীয়তা ও মর্যাদা আরও ভালোভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
আবেদনে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে কোনো নারীর মৃত্যু হলে তার পরিবার এমনিতেই শোকাহত থাকে। এ অবস্থায় নারী ডোমের মাধ্যমে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলে পরিবার মানসিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে। পাশাপাশি বর্তমানে নারীরা বিভিন্ন পেশায় দায়িত্ব পালন করছেন, তাই এ ক্ষেত্রেও নারী নিয়োগ সময়োপযোগী পদক্ষেপ হবে।
রিটে উল্লেখ করা হয়, নারী ডোম নিয়োগ ধর্মীয় সংবেদনশীলতা বিবেচনা এবং বৈষম্য দূর করতেও সহায়ক হবে। মানবাধিকার ও ব্যক্তিগত মর্যাদার নীতির আলোকে মৃত্যুর পরও একজন মানুষের মরদেহের গোপনীয়তা ও সম্মান রক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
আবেদনে অতীতে দেশে মর্গে নারী মরদেহের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে গ্রেপ্তারের কয়েকটি ঘটনার পাশাপাশি বিদেশের একটি বহুল আলোচিত ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার আলোকে দেশের সব পোস্টমর্টেম সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে নারী ডোম নিয়োগ এবং মরদেহের মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রুল জারি করে সংশ্লিষ্টদের দুই সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।





















