ঢাকা ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালের রায়

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সাত আসামিই পলাতক।

রায়ে বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তি বা তাদের পরিবারের সদস্যদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ প্রমাণিত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

তিনি বলেন, প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে চারটি করে অভিযোগ ছিল। এর অধিকাংশই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত এবং ২৫ হাজার মানুষ গুরুতর আহত বা পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন। এই শহীদ ও আহতদের প্রতি ন্যায়বিচার করা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিষয়ে তিনি বলেন, রায় অনুযায়ী সরকার সংশ্লিষ্টদের সম্পদ শনাক্ত করে অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করবে। পরে তা বিক্রি করে জুলাইয়ে নিহত ও আহতদের পরিবারকে অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য ৩০ দিন সময় রয়েছে। এই সময় পার হওয়ার পর রায় বাস্তবায়নে আইনগত কোনো বাধা থাকবে না।

যে অভিযোগে সাজা

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলা, হত্যা ও নির্যাতনের সঙ্গে আসামিরা জড়িত ছিলেন। তাদের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা ও সম্পৃক্ততায় মারণাস্ত্র ব্যবহার করে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি আন্দোলনকারীকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে গুরুতর আহত করা হয়।

ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ১১ জুলাই ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে তার ফোনালাপ, ১৫ জুলাই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান এবং ১৯ জুলাই কারফিউ ও ‘শুট অ্যাট সাইট’ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য অভিযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাহাউদ্দিন নাছিমের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার নির্দেশ ও প্ররোচনা এবং মাদারীপুরে আন্দোলন দমন কার্যক্রম তদারকির অভিযোগ রয়েছে।

মোহাম্মদ আলী আরাফাতের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার পরিকল্পনা এবং মহাখালী ও গুলশানে হামলা ও হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়।

শেখ ফজলে শামস পরশের বিরুদ্ধে যুবলীগের নেতাকর্মীদের সশস্ত্র অবস্থায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মাইনুল হোসেন খান নিখিলের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা এবং মিরপুরে অস্ত্রধারী দলীয় নেতাকর্মীদের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের নিয়ে হামলায় নেতৃত্ব এবং আন্দোলনকারীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা তদারকির অভিযোগ আনা হয়।

২৯ জনের সাক্ষ্য

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর সাত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। গত ১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। পরে সোমবার রায় ঘোষণার জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সপ্তম রায়।

এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

রায় ঘোষণার পর জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের স্বজনরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। মিরপুরে শহীদ মেহেরুন্নেসার বাবা মোশাররফ হোসেন বলেন, রায় কার্যকর হলে জুলাইয়ে শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে। পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।

জুলাইযোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইমনও রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, শহীদ পরিবার, আহত ও অঙ্গহারা জুলাইযোদ্ধারা এখন আসামিদের রায় কার্যকর হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৬:০৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪৫০৯ বার পড়া হয়েছে

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ০৬:০৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালের রায়

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সাত আসামিই পলাতক।

রায়ে বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তি বা তাদের পরিবারের সদস্যদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ প্রমাণিত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

তিনি বলেন, প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে চারটি করে অভিযোগ ছিল। এর অধিকাংশই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত এবং ২৫ হাজার মানুষ গুরুতর আহত বা পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন। এই শহীদ ও আহতদের প্রতি ন্যায়বিচার করা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিষয়ে তিনি বলেন, রায় অনুযায়ী সরকার সংশ্লিষ্টদের সম্পদ শনাক্ত করে অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করবে। পরে তা বিক্রি করে জুলাইয়ে নিহত ও আহতদের পরিবারকে অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য ৩০ দিন সময় রয়েছে। এই সময় পার হওয়ার পর রায় বাস্তবায়নে আইনগত কোনো বাধা থাকবে না।

যে অভিযোগে সাজা

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলা, হত্যা ও নির্যাতনের সঙ্গে আসামিরা জড়িত ছিলেন। তাদের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা ও সম্পৃক্ততায় মারণাস্ত্র ব্যবহার করে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি আন্দোলনকারীকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে গুরুতর আহত করা হয়।

ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ১১ জুলাই ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে তার ফোনালাপ, ১৫ জুলাই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান এবং ১৯ জুলাই কারফিউ ও ‘শুট অ্যাট সাইট’ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য অভিযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাহাউদ্দিন নাছিমের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার নির্দেশ ও প্ররোচনা এবং মাদারীপুরে আন্দোলন দমন কার্যক্রম তদারকির অভিযোগ রয়েছে।

মোহাম্মদ আলী আরাফাতের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার পরিকল্পনা এবং মহাখালী ও গুলশানে হামলা ও হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়।

শেখ ফজলে শামস পরশের বিরুদ্ধে যুবলীগের নেতাকর্মীদের সশস্ত্র অবস্থায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মাইনুল হোসেন খান নিখিলের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা এবং মিরপুরে অস্ত্রধারী দলীয় নেতাকর্মীদের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের নিয়ে হামলায় নেতৃত্ব এবং আন্দোলনকারীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা তদারকির অভিযোগ আনা হয়।

২৯ জনের সাক্ষ্য

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর সাত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। গত ১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। পরে সোমবার রায় ঘোষণার জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সপ্তম রায়।

এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

রায় ঘোষণার পর জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের স্বজনরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। মিরপুরে শহীদ মেহেরুন্নেসার বাবা মোশাররফ হোসেন বলেন, রায় কার্যকর হলে জুলাইয়ে শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে। পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।

জুলাইযোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইমনও রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, শহীদ পরিবার, আহত ও অঙ্গহারা জুলাইযোদ্ধারা এখন আসামিদের রায় কার্যকর হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।