কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে হঠাৎ আঘাত হেনেছে একটি দুর্বল প্রকৃতির টর্নেডো। মাত্র তিন থেকে পাঁচ মিনিট স্থায়ী হওয়া এ ঘটনায় সৈকতে থাকা পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে কোনো হতাহত না হলেও পর্যটকদের ব্যবহারের জন্য রাখা অর্ধশতাধিক চেয়ার ও ছাতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাগরের দিক থেকে ঘূর্ণায়মান বাতাস ধীরে ধীরে বালুচরের দিকে এগিয়ে এসে মুহূর্তের মধ্যে সৈকতের একটি অংশে আঘাত হানে। প্রবল বাতাসে পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান জানান, টর্নেডোর আঘাতে সৈকতে পর্যটকদের জন্য রাখা ৫২টি কাঠের চেয়ার ও ৬১টি ছাতা ভেঙে গেছে। আকস্মিক এ ঘটনায় সৈকত-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদেরও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, টর্নেডোর স্থায়িত্ব অল্প সময়ের হলেও এর গতিবেগ ছিল বেশ প্রবল। বাতাসে চেয়ার, ছাতা ও অন্যান্য হালকা সামগ্রী উড়ে যেতে দেখা যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর পর্যটকেরা ধীরে ধীরে আবার সৈকতে ফিরতে শুরু করেন। ক্ষতিগ্রস্ত চেয়ার ও ছাতা সরিয়ে সৈকতের পরিবেশ স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, সমুদ্র উপকূলে দেখা দেওয়া ঘূর্ণি বাতাসটি আসলে একটি দুর্বল প্রকৃতির টর্নেডো। তিনি জানান, টর্নেডো সাধারণত অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক হতে পারে। তাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া জরুরি। তার ভাষ্য, টর্নেডোর মূল ঘূর্ণির কবলে পড়লে প্রাণহানির ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি থাকে এবং এটি মানুষ ও বস্তু অনেক উঁচুতে তুলে ছুড়ে ফেলতে সক্ষম।