মিঠামইনে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলমকে কুপিয়ে হত্যা, সন্দেহে আটক ৩
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর আলমকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ হামলায় তার সঙ্গী হাদিস গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের ঢাকা থেকে ভাড়া করে আনা হয়েছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মিঠামইন সদর বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনের সামনে জাহাঙ্গীর আলম ও তার সঙ্গী হাদিসের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। চাপাতির আঘাতে গুরুতর আহত দুজনকে প্রথমে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে জাহাঙ্গীর আলম মারা যান।
ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমানসহ জেলা ও মিঠামইন উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন।
পরে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিরা একটি ভাড়াটে অপরাধী চক্রের সদস্য। তারা হলেন বরগুনার বামনা উপজেলার চালিতাবুনিয়া এলাকার মো. সোহেল, লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার দুধরাজপুর এলাকার মো. মহিন উদ্দিন (৩২) এবং একই উপজেলার মধ্যপাড়া নাগমুদ বাজার এলাকার মো. শাকিল হোসেন ওরফে শাহীন (২৫)। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি জব্দ করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের থানা হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “অপরাধী যেই হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা উদ্ঘাটনে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং পুরো এলাকায় জেলা পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

























