ঢাকা ০১:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মানুষের মতোই বন্ধুত্ব গড়ে শিম্পাঞ্জি, বয়স বাড়লে ছোট হয় সামাজিক বৃত্ত Logo মানবভ্রূণের জিন সম্পাদনায় যুগান্তকারী সাফল্য, বাড়ছে নৈতিক বিতর্ক Logo রাজনীতি ও গণতন্ত্র ধ্বংসের গভীর চক্রান্ত চলছে: মির্জা ফখরুল Logo সাংবাদিকদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে না সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান Logo ডিএমপির ৫ এডিসি ও ২ এসিকে বদলি Logo গুলশানে স্পা সেন্টারে অভিযান, ২৮ জন গ্রেপ্তার Logo শাকিব খান-বুবলীর ঘরে কন্যাসন্তান, নাম রাখা হয়েছে শারলিন খান Logo তৃণমূলে খেলাধুলা ছড়িয়ে দিতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী Logo বিটিভিসহ আরও ২ চ্যানেলে সরাসরি দেখা যাবে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ Logo কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই ৯৫ দোকান; ক্ষতি প্রায় ১০ কোটি টাকা

মানবভ্রূণের জিন সম্পাদনায় যুগান্তকারী সাফল্য, বাড়ছে নৈতিক বিতর্ক

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক

মানবভ্রূণের জিনবিন্যাস প্রায় নিখুঁতভাবে পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জনের দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক প্রাথমিক পর্যায়ের মানবভ্রূণের ডিএনএ কাঠামো অত্যন্ত নির্ভুলভাবে পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

গবেষকদের মতে, এ সাফল্য ভবিষ্যতে গর্ভপাত, বন্ধ্যাত্ব, আলঝেইমার, ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের কারণ অনুসন্ধান এবং নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া জন্মগত জটিল রোগের কারণ শনাক্ত করতেও এ গবেষণা সহায়ক হতে পারে।

তবে গবেষণাটি ঘিরে দীর্ঘদিনের নৈতিক বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বা ‘ডিজাইনার শিশু’ তৈরির প্রবণতা দেখা দিতে পারে। এ কারণে ইউরোপের অনেক দেশে মানবভ্রূণের জিন সম্পাদনা সংক্রান্ত গবেষণার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে।

গবেষণা দলের প্রধান ডিটার এগলি জানান, ‘বেস এডিটিং’ নামে একটি নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা ডিএনএর নির্দিষ্ট অংশ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছেন। এর আগে ব্যবহৃত ‘ক্রিসপার’ প্রযুক্তিতে ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি ছিল। নতুন পদ্ধতিতে সেই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হয়েছে বলে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে।

তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, প্রযুক্তিটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং এর সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া বাকি। ডিটার এগলি বলেন, এই প্রযুক্তি আগামীকালই চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহার শুরু হবে— এমন দাবি তারা করছেন না।

গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু তৈরির সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সামাজিক, নৈতিক ও আইনগত দিক নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে জিন সম্পাদনার জন্য ‘ক্রিসপার’ প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হয়। পরবর্তীতে সিকল সেল অ্যানিমিয়ার চিকিৎসায় এ প্রযুক্তিভিত্তিক চিকিৎসা অনুমোদন পায়। নতুন ‘বেস এডিটিং’ প্রযুক্তিও চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহারের আগে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:২৭:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
৪৫০৩ বার পড়া হয়েছে

মানবভ্রূণের জিন সম্পাদনায় যুগান্তকারী সাফল্য, বাড়ছে নৈতিক বিতর্ক

আপডেট সময় ০৭:২৭:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

মানবভ্রূণের জিনবিন্যাস প্রায় নিখুঁতভাবে পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জনের দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক প্রাথমিক পর্যায়ের মানবভ্রূণের ডিএনএ কাঠামো অত্যন্ত নির্ভুলভাবে পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

গবেষকদের মতে, এ সাফল্য ভবিষ্যতে গর্ভপাত, বন্ধ্যাত্ব, আলঝেইমার, ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের কারণ অনুসন্ধান এবং নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া জন্মগত জটিল রোগের কারণ শনাক্ত করতেও এ গবেষণা সহায়ক হতে পারে।

তবে গবেষণাটি ঘিরে দীর্ঘদিনের নৈতিক বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বা ‘ডিজাইনার শিশু’ তৈরির প্রবণতা দেখা দিতে পারে। এ কারণে ইউরোপের অনেক দেশে মানবভ্রূণের জিন সম্পাদনা সংক্রান্ত গবেষণার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে।

গবেষণা দলের প্রধান ডিটার এগলি জানান, ‘বেস এডিটিং’ নামে একটি নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা ডিএনএর নির্দিষ্ট অংশ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছেন। এর আগে ব্যবহৃত ‘ক্রিসপার’ প্রযুক্তিতে ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি ছিল। নতুন পদ্ধতিতে সেই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হয়েছে বলে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে।

তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, প্রযুক্তিটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং এর সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া বাকি। ডিটার এগলি বলেন, এই প্রযুক্তি আগামীকালই চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহার শুরু হবে— এমন দাবি তারা করছেন না।

গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু তৈরির সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সামাজিক, নৈতিক ও আইনগত দিক নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে জিন সম্পাদনার জন্য ‘ক্রিসপার’ প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হয়। পরবর্তীতে সিকল সেল অ্যানিমিয়ার চিকিৎসায় এ প্রযুক্তিভিত্তিক চিকিৎসা অনুমোদন পায়। নতুন ‘বেস এডিটিং’ প্রযুক্তিও চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহারের আগে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।