অভিনেত্রী ঝিলিকের মৃত্যুর মামলায় স্বামীর এক দিনের রিমান্ড
ঢাকা, ১৩ জুন
রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অষ্টম তলা থেকে পড়ে অভিনেত্রী আসমা আক্তার ঝিলিকের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তার স্বামী সাফি উল্লাহ ওরফে মহব্বত (৪৫)-এর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী আব্দুল মান্নান আসামির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শুক্রবার দুপুর ২টা ২২ মিনিটের দিকে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮১৩ নম্বর কেবিনের পেছনের খোলা বারান্দার জানালা দিয়ে পড়ে যান ঝিলিক। পরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শনিবার ঝিলিকের বড় ভাই মোজাম্মেল হক ধানমন্ডি মডেল থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর হাসপাতাল থেকেই সাফি উল্লাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১০ জুন ভোরে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে সাফি উল্লাহকে প্রথমে সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানোর চেষ্টা করা হলেও কেবিন না পাওয়ায় বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অষ্টম তলার ৮১৩ নম্বর কেবিনে ভর্তি করা হয়। এ সময় তার দেখাশোনার জন্য ঝিলিক হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে সাফি উল্লাহর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরে হাসপাতালের বিল পরিশোধের জন্য ঝিলিক ১৬ হাজার টাকা পাঠাতে বলেন। দুপুর সোয়া ১টার দিকে ঝিলিক তার ছোট বোন রেশমি আক্তারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর সাফি উল্লাহ ঝিলিকের বাবাকে ফোন করে জানান, ঝিলিক কেবিনের পেছনের খোলা বারান্দার জানালা দিয়ে পড়ে গিয়ে মারা গেছেন।
তবে মামলার বাদী ও ঝিলিকের ভাই মোজাম্মেল হক দাবি করেছেন, ঘটনাটি আত্মহত্যা নয় বরং হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তিনি বলেন, “এটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা হওয়ার কথা নয়, হত্যার মামলা হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু পুলিশ হত্যার মামলা নেয়নি।”
আসমা আক্তার ঝিলিক অভিনয়জগতে মিউজিক ভিডিও ও চলচ্চিত্রে কাজ করে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি রংবাজ চলচ্চিত্রে একটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। পরিবারের দাবি, পরবর্তীতে তিনি অভিনয় ছেড়ে স্বামী-সন্তানকে নিয়ে সংসারেই মনোযোগী ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।