বাকলিয়ায় শিশু নির্যাতন: অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা, পুলিশের ওপর হামলায় গ্রেফতার ৭
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মনির হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল দিবাগত গভীর রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় এই মামলাটি করেন। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মো. কবির ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় শিশুটির বাবা ঢাকায় অবস্থান করছিলেন এবং মা গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন। মা-বাবার অনুপস্থিতিতে তাদের তিন সন্তান নানীর কাছে থাকত। এই সুযোগে সন্দেহভাজন মনির কৌশলে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা বা ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিশুটির শারীরিক অবস্থা ও মেডিকেল পরীক্ষা
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন জানিয়েছেন, বর্তমানে শিশুটি সুস্থ রয়েছে। হাসপাতালের নারী চিকিৎসকরা তাকে নিবিড়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। এছাড়া, ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য শিশুটির ডিএনএ নমুনাসহ প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এই মেডিকেল প্রতিবেদন হাতে পেতে মাসখানেক সময় লাগতে পারে বলে তিনি জানান।
গণপিটুনির চেষ্টা ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় শিশু নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। বিকেল ৪টার দিকে তারা অভিযুক্ত মনিরের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় এবং অভিযুক্তকে আটক করে। তবে পুলিশ তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং আসামিকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। একপর্যায়ে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত ৮টার দিকে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরবর্তীতে রাত ১১টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে অভিযুক্ত মনিরকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে কৌশলে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি, আহত ৩০-৩৫ কর্মী
অভিযুক্তকে সরিয়ে নেওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতার সাথে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এই সংঘর্ষে দুই সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষ এবং প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই বিষয়ে পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক আরেকটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।





















