ইসলামী ব্যাংকের আমানত নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই: গভর্নর
ঢাকা, নিজস্ব প্রতিবেদক
ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত নিয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা নিরাপদ রয়েছে এবং তারা যেকোনো সময় তাদের আমানত উত্তোলন করতে পারবেন।
শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
গভর্নর জানান, সম্মিলিত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় থাকা কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হবে।
ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রমে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো অবৈধ হস্তক্ষেপ নেই দাবি করে তিনি বলেন, “ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ কিংবা ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো অযাচিত হস্তক্ষেপ করেনি। ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে মাত্র।”
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পাঁচজন সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে একজন সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় গত ১৬ মার্চ তাকে পরিবর্তন করা হয়। এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে গভর্নর বলেন, “আমরা ইসলামী ব্যাংককে কোনো ঋণ দেওয়ার নির্দেশ দিইনি, কাউকে চাকরি দিতে বলিনি কিংবা কোনো পদোন্নতির ক্ষেত্রেও হস্তক্ষেপ করিনি। তারপরও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।”
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঈদের আগের দিন চেয়ারম্যানের পদত্যাগের পর ব্যাংকের কার্যক্রম সচল রাখতে দ্রুত নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিতে হয়েছে। কারণ এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমিক ব্যাংক এবং পরিচালনা পর্ষদে ন্যূনতম সদস্য সংখ্যা বজায় রাখা জরুরি ছিল।
ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি নিয়ে গভর্নর বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইসলামী ব্যাংকের অ্যাডভান্স-ডিপোজিট রেশিও (এডিআর) ছিল প্রায় ৯৩ শতাংশ, যা চলতি বছরের মার্চে বেড়ে প্রায় ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এডিআর কমানোর পরামর্শ দিলেও তা এখনও স্বাভাবিক সীমার ওপরে রয়েছে।
দেশের ব্যাংকিং খাতের সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, “ব্যাংকিং খাত বর্তমানে একটি কঠিন সময় অতিক্রম করছে। আমাদের ধারণা, ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আমানত বিভিন্নভাবে হারিয়ে গেছে বা অপব্যবহৃত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পুরো খাতকে স্থিতিশীল করতে সবার ধৈর্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন।”
গভর্নর আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংক ও সম্মিলিত ব্যাংকগুলো নিয়ে যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। সব ধরনের নিয়োগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করেই নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার কার্যক্রম ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রথমে খাতটিকে স্থিতিশীল করা, এরপর পুনঃমূলধনীকরণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে।