পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা: প্রধান আসামি সোহেল ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল, ১ জুন চার্জ গঠন
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারকে (৮) ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে পুলিশ।
আজ রোববার বেলা ৩টার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের জিআর শাখায় এই চার্জশিট জমা দেন। চার্জশিটে নিহতের বাবা-মাসহ ১৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
অভিযোগ ও তদন্তের বিবরণ
তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিটে উল্লেখ করেছেন, প্রধান আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সহায়তার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ১৯ মে (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দা ও পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামিরা তাকে কৌশলে ভবনের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে নিয়ে যায়। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রামিসার মা ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে শোবার ঘরে শিশুটির মাথাবিহীন দেহ এবং বালতির ভেতর বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান।
জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না জানায়, তার স্বামী সোহেল রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ ও হত্যা করে। লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ছুরি দিয়ে মাথা কেটে আলাদা করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে অর্ধ-বিচ্ছিন্ন করা হয়। ঘটনার পর স্বপ্না কক্ষেই আটকে পড়ে এবং সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ২০ মে আদালতে হাজির করা হলে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
দ্রুত বিচারের উদ্যোগ ও ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর
হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে আজ সকাল থেকেই দুই আসামিকে কারাগার থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। চার্জশিট দাখিলের পর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক তা সনাক্ত করেন। মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় সিএমএম মোস্তাফিজুর রহমান তাৎক্ষণিকভাবে এটিকে ‘শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে’ বদলি করেন।
ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মামলার নথি পাওয়ার পর আসামিদের এজলাসে হাজির করার নির্দেশ দেন। এরপর বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু চার্জশিটটি আমলে নেওয়ার আবেদন জানালে আদালত তা গ্রহণ করেন এবং আগামী ১ জুন চার্জ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করেন।
আইনজীবী বর্জন ও রাষ্ট্রীয় তৎপরতা > এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ঢাকা আইনজীবী সমিতি ঘোষণা দিয়েছে যে, আসামি পক্ষে কোনো আইনজীবী মামলা পরিচালনা করবেন না। ফলে আজ শুনানির সময় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। এর আগে মামলার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন করতে গত ২৩ মে আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (সরকারি কৌঁসুলি) নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।
১ মাসের মধ্যে বিচার শেষের আশ্বাস
নৃশংস এই ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। গত ২১ মে রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিহত শিশুর পরিবারের সাথে দেখা করেন এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেন। গত শনিবার ময়মনসিংহের ত্রিশালে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী এক মাসের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করা হবে। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, মামলার বিচারকাজ আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যেই শেষ হতে পারে।





















