ঢাকা ০২:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গুপ্ত ইস্যুতে মুখ খুললেন সর্ব মিত্র চাকমা Logo নেত্রকোনায় জামায়াত এমপির গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর, ৯ জন গ্রেপ্তার Logo সৃজনশীল ও দায়িত্ববান মানবসম্পদ গড়তে চায় সরকার : প্রধানমন্ত্রী Logo অবশেষে ইসলামাবাদে পৌঁছালেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি Logo বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট উদ্বেগজনক পর্যায়ে,বাংলাদেশ অন্যতম Logo পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে, বিজেপি–তৃণমূল পাল্টাপাল্টি দাবি Logo ডিজেলচালিত বাস-মিনিবাসের ভাড়া বেড়েছে ১১ পয়সা প্রতি কিলোমিটার, প্রজ্ঞাপন জারি Logo সার ডিলার বাতিল, নতুন নিয়োগ শিগগির-চিপ হুইপ Logo বিচার বিভাগের দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে চাই: আইনমন্ত্রী Logo নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগে প্যানেল পদ্ধতির দাবি বাংলাদেশ মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ সমিতির

বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট উদ্বেগজনক পর্যায়ে,বাংলাদেশ অন্যতম

হাবিবুর রহমান রাসেল

বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট এখন উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। জাতিসংঘ (UN), ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এবং অন্যান্য অংশীদার সংস্থার এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ৪৭টি দেশে প্রায় ২৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

শুক্রবার প্রকাশিত “২০২৬ গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিসেস” শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সংখ্যা বিশ্লেষিত জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ এবং ২০১৬ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চরম খাদ্য সংকটে থাকা মানুষের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই ১০টি দেশে কেন্দ্রীভূত, যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

তবে প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে। ২০২৫ সালের শুরুতে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। কিন্তু একই সময়ে অন্য কয়েকটি দেশে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সামগ্রিক চিত্রে তেমন বড় পরিবর্তন আসেনি।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-এর মহাপরিচালক কু ডংইউ বলেন, “আজকের দিনে চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা শুধু বিস্তৃতই নয়, এটি স্থায়ী ও পুনরাবৃত্ত একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

প্রতিবেদনে খাদ্য সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি এবং তহবিলের ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, খাদ্য নিরাপত্তায় কিছু অগ্রগতি হলেও দক্ষিণ এশিয়ায় সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, যা আংশিকভাবে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমা এবং প্রবাসী আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নতুন আগমন, বন্যা এবং মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশে বিশেষ করে কয়েকটি জেলায় বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের মধ্যে খাদ্য সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে চরম খাদ্য সংকটে থাকা মানুষের সংখ্যা ১৩ লাখ কমে গেছে, যা সবচেয়ে বড় হ্রাসগুলোর একটি। তবে এখনও প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ উচ্চমাত্রার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।

প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, ২০২৬ সালেও বাংলাদেশে খাদ্য সংকট উচ্চমাত্রায় থাকতে পারে। অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে ফসল ক্ষতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করবে, যদিও মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৮.৭ শতাংশে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে প্রায় ৫০ লাখ অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষ রয়েছে, যা বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়জনিত দুর্যোগের কারণে সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের চাপও খাদ্য নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে।

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, “জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত, যা একটি দুষ্টচক্র তৈরি করছে।”

এছাড়া চলমান সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা ২০২৬ সালেও খাদ্য সংকটকে উচ্চ পর্যায়ে রাখবে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য সংকট খাদ্য মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

সহায়তা সংস্থাগুলো বলছে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে খাদ্য সংকট বিশ্বব্যাপী দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:০৮:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
৪৫০৬ বার পড়া হয়েছে

ধানের শীষে ভোট দিন

বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট উদ্বেগজনক পর্যায়ে,বাংলাদেশ অন্যতম

আপডেট সময় ১০:০৮:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট এখন উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। জাতিসংঘ (UN), ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এবং অন্যান্য অংশীদার সংস্থার এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ৪৭টি দেশে প্রায় ২৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

শুক্রবার প্রকাশিত “২০২৬ গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিসেস” শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সংখ্যা বিশ্লেষিত জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ এবং ২০১৬ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চরম খাদ্য সংকটে থাকা মানুষের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই ১০টি দেশে কেন্দ্রীভূত, যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

তবে প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে। ২০২৫ সালের শুরুতে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। কিন্তু একই সময়ে অন্য কয়েকটি দেশে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সামগ্রিক চিত্রে তেমন বড় পরিবর্তন আসেনি।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-এর মহাপরিচালক কু ডংইউ বলেন, “আজকের দিনে চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা শুধু বিস্তৃতই নয়, এটি স্থায়ী ও পুনরাবৃত্ত একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

প্রতিবেদনে খাদ্য সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি এবং তহবিলের ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, খাদ্য নিরাপত্তায় কিছু অগ্রগতি হলেও দক্ষিণ এশিয়ায় সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, যা আংশিকভাবে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমা এবং প্রবাসী আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নতুন আগমন, বন্যা এবং মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশে বিশেষ করে কয়েকটি জেলায় বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের মধ্যে খাদ্য সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে চরম খাদ্য সংকটে থাকা মানুষের সংখ্যা ১৩ লাখ কমে গেছে, যা সবচেয়ে বড় হ্রাসগুলোর একটি। তবে এখনও প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ উচ্চমাত্রার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।

প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, ২০২৬ সালেও বাংলাদেশে খাদ্য সংকট উচ্চমাত্রায় থাকতে পারে। অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে ফসল ক্ষতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করবে, যদিও মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৮.৭ শতাংশে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে প্রায় ৫০ লাখ অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষ রয়েছে, যা বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়জনিত দুর্যোগের কারণে সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের চাপও খাদ্য নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে।

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, “জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত, যা একটি দুষ্টচক্র তৈরি করছে।”

এছাড়া চলমান সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা ২০২৬ সালেও খাদ্য সংকটকে উচ্চ পর্যায়ে রাখবে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য সংকট খাদ্য মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

সহায়তা সংস্থাগুলো বলছে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে খাদ্য সংকট বিশ্বব্যাপী দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠবে।