ঢাকা ১০:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আবু সাঈদ হত্যার রায়: ব্যবস্থার আয়নায় উচ্চশিক্ষার বাস্তবতা

ডঃ এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ

ডঃ এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ

জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরও ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। একটি মামলার বিচারের পরিসমাপ্তি হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর তাৎপর্য এখানেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এই রায় আমাদের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরে জমে থাকা সংকটকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

এই মামলার আসামিদের তালিকা বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়। এতে জড়িত রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষক, কর্মচারী এবং ছাত্রসংগঠনের নেতারা। অর্থাৎ, যে প্রতিষ্ঠানগুলো সমাজে ন্যায়, জ্ঞান ও শৃঙ্খলার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত, সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরেই একটি অস্বস্তিকর বাস্তবতা কাজ করছে। এই বাস্তবতায় অপরাধ কেবল সংঘটিত হয় না, অনেক ক্ষেত্রে তা টিকে থাকারও সুযোগ পায়।

রায়ে দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে- রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার আইনের ঊর্ধ্বে নয়। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেওয়া- এই রায়কে আরও বিস্তৃত পরিসরে নিয়ে গেছে। এতে একটি বার্তা আছে- দায় কেবল মাঠপর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্তরেও জবাবদিহির প্রয়োজন রয়েছে।

তবে এখানেই একটি মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসে- এই রায় কি একটি ব্যতিক্রম, নাকি একটি নতুন প্রবণতার সূচনা? আমাদের বিচারব্যবস্থার অভিজ্ঞতা বলছে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রভাব হারিয়েছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় আটকে থেকেছে। এই মামলায় ৩০ আসামির মধ্যে ২৪ জন পলাতক- এই বাস্তবতা বিচার প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতাকেও সামনে আনে। রায় হয়েছে, কিন্তু তা কি পূর্ণতা পেয়েছে?

একই মামলায় ভিন্ন ভিন্ন সাজা- মৃত্যুদণ্ড থেকে শুরু করে যাবজ্জীবন, বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড, এমনকি খালাস- আইনি প্রক্রিয়ার অংশ। প্রমাণ ও অভিযোগের ভিন্নতার কারণে এই পার্থক্য তৈরি হয়। তবে সাধারণ মানুষের কাছে এটি প্রায়ই প্রশ্ন তৈরি করে- ন্যায়বিচার কি সবার জন্য সমানভাবে দৃশ্যমান? বিচার কেবল হওয়াই যথেষ্ট নয়; তা মানুষের কাছে বোধগম্য ও গ্রহণযোগ্য হওয়াও জরুরি।

এই রায়ের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিকটি হলো- এটি আমাদের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরের সংকটকে সামনে এনেছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয় কেবল শিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি মূল্যবোধভিত্তিক পরিসর, যেখানে যুক্তিবোধ, সহনশীলতা ও নৈতিকতার চর্চা হওয়ার কথা। কিন্তু যখন সেখানে রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা প্রাধান্য পায়, তখন সেই পরিবেশ ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।

ছাত্ররাজনীতির বিষয়টি এখানে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। অতীতে ছাত্ররাজনীতি সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তা অনেক ক্ষেত্রে আদর্শচর্চার পরিবর্তে প্রভাব বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। এর ফলে সহিংসতা, দখলদারিত্ব এবং প্রতিপক্ষ দমনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ড সেই প্রেক্ষাপটেরই একটি নির্মম উদাহরণ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকাও এই ঘটনায় প্রশ্নের মুখে। একটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে এমন একটি ঘটনার সঙ্গে যদি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিরা জড়িত থাকেন, তাহলে সেটি কেবল ব্যক্তিগত দায়ের বিষয় নয়; বরং এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার প্রতিফলন। জবাবদিহির অভাব এবং রাজনৈতিক প্রভাব একটি প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিতে পারে, এই ঘটনা তারই ইঙ্গিত দেয়।

এই বাস্তবতায়, রায়টি একটি সুযোগ তৈরি করেছে- আত্মসমালোচনার। আমাদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে। কেবল শাস্তির মাধ্যমে অপরাধের দৃশ্যমান দিকটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, কিন্তু এর উৎস বন্ধ করতে হলে কাঠামোগত পরিবর্তন অপরিহার্য।

প্রথমত, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা প্রয়োজন। নিয়োগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে জবাবদিহি জোরদার করতে হবে, যাতে কোনো অপরাধই প্রভাবের কারণে আড়াল না পায়।

তৃতীয়ত, ছাত্ররাজনীতিকে সহিংসতা ও অপরাধমুক্ত একটি গঠনমূলক ধারায় ফিরিয়ে আনা জরুরি।

এ ছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন। ছোট ছোট অনিয়মকে উপেক্ষা করার প্রবণতা বড় ধরনের সংকট তৈরি করে। এই সংস্কৃতি পরিবর্তন না হলে টেকসই কোনো সংস্কার সম্ভব নয়।

সবশেষে বলা যায়, একটি রায়ের মূল্য তার ঘোষণায় নয়, বরং তার পরবর্তী প্রভাবে। যদি এই রায় আরও স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পথ খুলে দেয়, তাহলে এটি একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে। আর যদি এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়ে থাকে, তাহলে এর প্রভাবও সীমিত থাকবে।

আবু সাঈদের মৃত্যু একটি বেদনাদায়ক স্মৃতি। সেই স্মৃতিকে যদি আমরা একটি দায়বদ্ধতায় রূপান্তর করতে পারি, তবেই এই রায়ের প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করা সম্ভব হবে। অন্যথায়, সমস্যার মূল থেকে যাবে- শুধু তার প্রকাশভঙ্গি বদলাবে।

 

ডঃ এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ 

লেখক সাংবাদিক কলামিস্ট ও বিশ্লেষক

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:২৭:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
৪৫০৬ বার পড়া হয়েছে

ধানের শীষে ভোট দিন

আবু সাঈদ হত্যার রায়: ব্যবস্থার আয়নায় উচ্চশিক্ষার বাস্তবতা

আপডেট সময় ০৫:২৭:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরও ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। একটি মামলার বিচারের পরিসমাপ্তি হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর তাৎপর্য এখানেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এই রায় আমাদের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরে জমে থাকা সংকটকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

এই মামলার আসামিদের তালিকা বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়। এতে জড়িত রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষক, কর্মচারী এবং ছাত্রসংগঠনের নেতারা। অর্থাৎ, যে প্রতিষ্ঠানগুলো সমাজে ন্যায়, জ্ঞান ও শৃঙ্খলার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত, সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরেই একটি অস্বস্তিকর বাস্তবতা কাজ করছে। এই বাস্তবতায় অপরাধ কেবল সংঘটিত হয় না, অনেক ক্ষেত্রে তা টিকে থাকারও সুযোগ পায়।

রায়ে দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে- রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার আইনের ঊর্ধ্বে নয়। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেওয়া- এই রায়কে আরও বিস্তৃত পরিসরে নিয়ে গেছে। এতে একটি বার্তা আছে- দায় কেবল মাঠপর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্তরেও জবাবদিহির প্রয়োজন রয়েছে।

তবে এখানেই একটি মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসে- এই রায় কি একটি ব্যতিক্রম, নাকি একটি নতুন প্রবণতার সূচনা? আমাদের বিচারব্যবস্থার অভিজ্ঞতা বলছে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রভাব হারিয়েছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় আটকে থেকেছে। এই মামলায় ৩০ আসামির মধ্যে ২৪ জন পলাতক- এই বাস্তবতা বিচার প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতাকেও সামনে আনে। রায় হয়েছে, কিন্তু তা কি পূর্ণতা পেয়েছে?

একই মামলায় ভিন্ন ভিন্ন সাজা- মৃত্যুদণ্ড থেকে শুরু করে যাবজ্জীবন, বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড, এমনকি খালাস- আইনি প্রক্রিয়ার অংশ। প্রমাণ ও অভিযোগের ভিন্নতার কারণে এই পার্থক্য তৈরি হয়। তবে সাধারণ মানুষের কাছে এটি প্রায়ই প্রশ্ন তৈরি করে- ন্যায়বিচার কি সবার জন্য সমানভাবে দৃশ্যমান? বিচার কেবল হওয়াই যথেষ্ট নয়; তা মানুষের কাছে বোধগম্য ও গ্রহণযোগ্য হওয়াও জরুরি।

এই রায়ের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিকটি হলো- এটি আমাদের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরের সংকটকে সামনে এনেছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয় কেবল শিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি মূল্যবোধভিত্তিক পরিসর, যেখানে যুক্তিবোধ, সহনশীলতা ও নৈতিকতার চর্চা হওয়ার কথা। কিন্তু যখন সেখানে রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা প্রাধান্য পায়, তখন সেই পরিবেশ ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।

ছাত্ররাজনীতির বিষয়টি এখানে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। অতীতে ছাত্ররাজনীতি সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তা অনেক ক্ষেত্রে আদর্শচর্চার পরিবর্তে প্রভাব বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। এর ফলে সহিংসতা, দখলদারিত্ব এবং প্রতিপক্ষ দমনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ড সেই প্রেক্ষাপটেরই একটি নির্মম উদাহরণ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকাও এই ঘটনায় প্রশ্নের মুখে। একটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে এমন একটি ঘটনার সঙ্গে যদি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিরা জড়িত থাকেন, তাহলে সেটি কেবল ব্যক্তিগত দায়ের বিষয় নয়; বরং এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার প্রতিফলন। জবাবদিহির অভাব এবং রাজনৈতিক প্রভাব একটি প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিতে পারে, এই ঘটনা তারই ইঙ্গিত দেয়।

এই বাস্তবতায়, রায়টি একটি সুযোগ তৈরি করেছে- আত্মসমালোচনার। আমাদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে। কেবল শাস্তির মাধ্যমে অপরাধের দৃশ্যমান দিকটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, কিন্তু এর উৎস বন্ধ করতে হলে কাঠামোগত পরিবর্তন অপরিহার্য।

প্রথমত, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা প্রয়োজন। নিয়োগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে জবাবদিহি জোরদার করতে হবে, যাতে কোনো অপরাধই প্রভাবের কারণে আড়াল না পায়।

তৃতীয়ত, ছাত্ররাজনীতিকে সহিংসতা ও অপরাধমুক্ত একটি গঠনমূলক ধারায় ফিরিয়ে আনা জরুরি।

এ ছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন। ছোট ছোট অনিয়মকে উপেক্ষা করার প্রবণতা বড় ধরনের সংকট তৈরি করে। এই সংস্কৃতি পরিবর্তন না হলে টেকসই কোনো সংস্কার সম্ভব নয়।

সবশেষে বলা যায়, একটি রায়ের মূল্য তার ঘোষণায় নয়, বরং তার পরবর্তী প্রভাবে। যদি এই রায় আরও স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পথ খুলে দেয়, তাহলে এটি একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে। আর যদি এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়ে থাকে, তাহলে এর প্রভাবও সীমিত থাকবে।

আবু সাঈদের মৃত্যু একটি বেদনাদায়ক স্মৃতি। সেই স্মৃতিকে যদি আমরা একটি দায়বদ্ধতায় রূপান্তর করতে পারি, তবেই এই রায়ের প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করা সম্ভব হবে। অন্যথায়, সমস্যার মূল থেকে যাবে- শুধু তার প্রকাশভঙ্গি বদলাবে।

 

ডঃ এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ 

লেখক সাংবাদিক কলামিস্ট ও বিশ্লেষক