ঢাকা ১১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo পুরোনো ভবন ভেঙে আন্তর্জাতিক মানের বহুতল ভবন হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী Logo আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে দিল্লিতে অনুষ্ঠান বাতিল করল পুলিশ Logo লালমাই পাহাড়ে কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১ Logo এনবিআরের ৬৮ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি ও পদায়ন Logo আদালতের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে মমতার বিরুদ্ধে পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা Logo আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন হাবিবুল গনি Logo মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপদের জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট Logo ২০২৮ সালে শিক্ষাক্রমে ব্যাপক সংস্কার, ২০২৭ থেকেই যুক্ত হচ্ছে এআই ও নতুন বিষয়ঃ মাহদী আমিন Logo ডিএমপির তিন ডিসি ও পাঁচ এডিসিকে বদলি Logo রাজধানীর মূল সড়কে চলবে না ই-রিকশা: প্রতিমন্ত্রী

২০২৮ সালে শিক্ষাক্রমে ব্যাপক সংস্কার, ২০২৭ থেকেই যুক্ত হচ্ছে এআই ও নতুন বিষয়ঃ মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

জিপিএ-৫-এর কৃত্রিম বন্যা সৃষ্টি করে শিক্ষাব্যবস্থায় মিথ্যা বার্তা দেওয়ার পথ বন্ধ করে মেধা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষা খাত পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ২০২৮ সালের শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের শিক্ষাক্রমে ব্যাপক ও বিস্তৃত সংস্কার আনা হচ্ছে। এর প্রথম ধাপ হিসেবে আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও খেলাধুলাবিষয়ক নতুন বিষয় যুক্ত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের শিক্ষা কাঠামো সংক্রান্ত রূপরেখা, কারিকুলামের ব্যাপক সংস্কার, শিক্ষক মূল্যায়ন, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনর্বাসন, শিল্প-শিক্ষা সমন্বয় এবং ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালুর পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্টভাবে শিক্ষা খাতকে তার সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের বিষয়টিও সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকে যতটুকু সম্ভব পরিমার্জন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হচ্ছে। তবে ২০২৮ সালের শিক্ষাক্রমে ব্যাপক ও বিস্তৃত সংস্কার আনা হবে। এর মাধ্যমে বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি টেকসই ও যুগান্তকারী শিক্ষাক্রম তৈরি করা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে নতুন বই ও বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও শারীরিক শিক্ষাভিত্তিক ‘স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার’ বই এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘টেকনিক্যাল এডুকেশন’ পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব বিষয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের রোবটিক্স, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের গুণগত পরিবর্তন এবং মূল্যায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে মাহদী আমিন বলেন, অতীতে পরিসংখ্যান ভালো দেখানোর জন্য কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫-এর সংখ্যা বাড়ানো হতো। এমনকি পরীক্ষা না দিয়েও শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, সরকার সেই পথ থেকে সরে এসেছে। এবার কোনো গ্রেস নম্বর দেওয়া হয়নি এবং শিক্ষার্থীরা শতভাগ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের প্রকৃত ফলাফল পেয়েছে।

সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য বা শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্র বোঝা হিসেবে দেখবে না বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, এসব তরুণের জন্য বিশেষ নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। তাদের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), স্বল্পমেয়াদি কারিগরি ও ভোকেশনাল কোর্সে যুক্ত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। প্রয়োজনে তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।

বেকারত্ব দূরীকরণে সরকারের নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, কর্মসংস্থানের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের জন্য বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ বা কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় কর্মক্ষম তরুণ-তরুণীরা তাদের দক্ষতার বিবরণ দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। ফলে চাকরিদাতা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের সরাসরি নেটওয়ার্ক তৈরি হবে।

বেসরকারি খাতকে সরাসরি যুক্ত করে প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ কার্যক্রম প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে এবং পরে দেশের প্রতিটি জেলায় সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান তিনি। এতে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষার মূলধারায় সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষকতা পেশাকে আকর্ষণীয় করা এবং শিক্ষকদের ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়াতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক থেকে সব পর্যায়ের শিক্ষকদের হাতে ডিজিটাল ট্যাবলেট পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও জানান মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সম্মানজনক অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তোলা ও বিশ্বমানের র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, স্থানীয় শিল্পের সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথ গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ‘ব্রেন ড্রেন’কে ‘ব্রেন সার্কুলেশনে’ রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া গবেষণায় সরকারি বরাদ্দ বহুগুণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

গ্রামীণ ও শহরের বিদ্যালয়ের মধ্যে বৈষম্য দূর করতে দেশব্যাপী ‘প্রাইমারি স্কুল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ ও ‘ইনোভেশন অ্যান্ড স্টার্টআপ কম্পিটিশন’-এর মতো জাতীয় প্রতিযোগিতা চালু করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরাও জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

মাহদী আমিন বলেন, কেবল সনদসর্বস্ব শিক্ষা নয়; দক্ষতা, কর্মসংস্থান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন একটি প্রজন্ম তৈরির মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:১৯:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
৪৫০৭ বার পড়া হয়েছে

২০২৮ সালে শিক্ষাক্রমে ব্যাপক সংস্কার, ২০২৭ থেকেই যুক্ত হচ্ছে এআই ও নতুন বিষয়ঃ মাহদী আমিন

আপডেট সময় ০৮:১৯:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

জিপিএ-৫-এর কৃত্রিম বন্যা সৃষ্টি করে শিক্ষাব্যবস্থায় মিথ্যা বার্তা দেওয়ার পথ বন্ধ করে মেধা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষা খাত পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ২০২৮ সালের শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের শিক্ষাক্রমে ব্যাপক ও বিস্তৃত সংস্কার আনা হচ্ছে। এর প্রথম ধাপ হিসেবে আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও খেলাধুলাবিষয়ক নতুন বিষয় যুক্ত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের শিক্ষা কাঠামো সংক্রান্ত রূপরেখা, কারিকুলামের ব্যাপক সংস্কার, শিক্ষক মূল্যায়ন, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনর্বাসন, শিল্প-শিক্ষা সমন্বয় এবং ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালুর পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্টভাবে শিক্ষা খাতকে তার সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের বিষয়টিও সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকে যতটুকু সম্ভব পরিমার্জন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হচ্ছে। তবে ২০২৮ সালের শিক্ষাক্রমে ব্যাপক ও বিস্তৃত সংস্কার আনা হবে। এর মাধ্যমে বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি টেকসই ও যুগান্তকারী শিক্ষাক্রম তৈরি করা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে নতুন বই ও বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও শারীরিক শিক্ষাভিত্তিক ‘স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার’ বই এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘টেকনিক্যাল এডুকেশন’ পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব বিষয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের রোবটিক্স, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের গুণগত পরিবর্তন এবং মূল্যায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে মাহদী আমিন বলেন, অতীতে পরিসংখ্যান ভালো দেখানোর জন্য কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫-এর সংখ্যা বাড়ানো হতো। এমনকি পরীক্ষা না দিয়েও শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, সরকার সেই পথ থেকে সরে এসেছে। এবার কোনো গ্রেস নম্বর দেওয়া হয়নি এবং শিক্ষার্থীরা শতভাগ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের প্রকৃত ফলাফল পেয়েছে।

সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য বা শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্র বোঝা হিসেবে দেখবে না বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, এসব তরুণের জন্য বিশেষ নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। তাদের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), স্বল্পমেয়াদি কারিগরি ও ভোকেশনাল কোর্সে যুক্ত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। প্রয়োজনে তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।

বেকারত্ব দূরীকরণে সরকারের নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, কর্মসংস্থানের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের জন্য বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ বা কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় কর্মক্ষম তরুণ-তরুণীরা তাদের দক্ষতার বিবরণ দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। ফলে চাকরিদাতা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের সরাসরি নেটওয়ার্ক তৈরি হবে।

বেসরকারি খাতকে সরাসরি যুক্ত করে প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ কার্যক্রম প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে এবং পরে দেশের প্রতিটি জেলায় সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান তিনি। এতে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষার মূলধারায় সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষকতা পেশাকে আকর্ষণীয় করা এবং শিক্ষকদের ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়াতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক থেকে সব পর্যায়ের শিক্ষকদের হাতে ডিজিটাল ট্যাবলেট পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও জানান মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সম্মানজনক অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তোলা ও বিশ্বমানের র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, স্থানীয় শিল্পের সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথ গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ‘ব্রেন ড্রেন’কে ‘ব্রেন সার্কুলেশনে’ রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া গবেষণায় সরকারি বরাদ্দ বহুগুণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

গ্রামীণ ও শহরের বিদ্যালয়ের মধ্যে বৈষম্য দূর করতে দেশব্যাপী ‘প্রাইমারি স্কুল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ ও ‘ইনোভেশন অ্যান্ড স্টার্টআপ কম্পিটিশন’-এর মতো জাতীয় প্রতিযোগিতা চালু করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরাও জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

মাহদী আমিন বলেন, কেবল সনদসর্বস্ব শিক্ষা নয়; দক্ষতা, কর্মসংস্থান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন একটি প্রজন্ম তৈরির মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।