শিক্ষাক্রমে খেলাধুলায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে এবং সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তুলতে জাতীয় শিক্ষাক্রমে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাব অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণি থেকে শুরু করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে মাঠে অংশগ্রহণ এবং নির্ধারিত প্রশিক্ষণ সেশনে উপস্থিত থাকতে হবে।
শুক্রবার (২৬ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিং পুলে অনুষ্ঠিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাঁতার ও ওয়াটার পোলো প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে শিশুরা ঘরবন্দি হয়ে পড়ছে। তাদের মাঠে ফিরিয়ে আনতে এবং একটি সুস্থ জাতি গঠনের লক্ষ্যেই সরকার এই ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর আসক্তি ও মাদকের ঝুঁকি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এজন্য জাতীয় শিক্ষাক্রমে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
দেশব্যাপী তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-এর দ্বিতীয় মৌসুমের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে দেশের সাড়ে চার হাজারেরও বেশি ইউনিয়নে প্রতিযোগিতার মূল পর্ব শুরু হবে।
তিনি জানান, ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার, ব্যাডমিন্টন, দাবা ও মার্শাল আর্টে হাজার হাজার দল গঠন করা হবে। সরকারের বিশ্বাস, এই উদ্যোগ দেশের পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামোতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
খেলোয়াড়দের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী জুলাইয়ের পর আরও ২০০ খেলোয়াড়কে পেশাদার ক্রীড়াবিদ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর ফলে মোট প্রায় ৫০০ খেলোয়াড় নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা ও অন্যান্য সহায়তা পাবেন, যাতে তারা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাকেও দীর্ঘমেয়াদি পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাঁতার ও ওয়াটার পোলো প্রতিযোগিতায় দেশের ছয়টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ১৪টি ইভেন্টে অংশ নেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।