ঢাকা ১০:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সাজেকে দুই আঞ্চলিক দলের সশস্ত্র সংঘর্ষ, আতঙ্কে পর্যটক ও স্থানীয়রা Logo খুলনায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের বহরে ককটেল নিক্ষেপ, আতঙ্কে ছুটোছুটি Logo ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে মিরপুর-আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ, ৩০ কারখানায় ছুটি Logo হেমন্তে আবহাওয়া পরিবর্তনে বাড়ছে অসুস্থতার ঝুঁকি, সুস্থ থাকতে মানতে হবে যেসব সতর্কতা Logo ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমল স্বর্ণের দাম Logo ৯ মাস পর অভিনয়ে ফিরলেন তানিয়া বৃষ্টি Logo এইচএসসির ফলাফলে দেশসেরা আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ Logo তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় দীপের চার দিনের রিমান্ড Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: শফিকুর রহমান Logo প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ফলপ্রসূ, এক লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে হত্যা: অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরে একটি বাসায় ঢুকে মা ও তিন মেয়েকে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে নিহত পরিবারের একমাত্র ছেলে জুনাইদ ইসলাম সিফাত রায়পুর থানায় মামলাটি করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীরপাড় সড়কের আমির হোসেন মাস্টারের পাঁচতলা ভবনের নিচতলার বাসায় ঢুকে শাহিনুর বেগম (৩৮), তার মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) এবং ফাতেমা আক্তার শিফা (১০)-কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

ঘটনার সময় নিহতদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশী আফরোজা বেগম রানী জানালা দিয়ে বাসার ভেতরে এক অপরিচিত ব্যক্তিকে দেখতে পান। তিনি বাইরে থেকে ভবনের গেট বন্ধ করে দিলে অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন এসে বাসায় চারজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় অভিযুক্ত ছাদ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। পরে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানান, অন্তর মজুমদার প্রায় দেড় বছর একই ভবনের পঞ্চম তলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন। প্রায় আট মাস আগে তিনি অন্যত্র চলে যান। স্বজনদের দাবি, বাড়ির ভাড়ার টাকা শাহিনুর বেগমের কাছেই জমা রাখা হতো এবং তার কাছে স্বর্ণালংকারও ছিল। এ কারণে ডাকাতির উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে তাদের ধারণা।

নিহত শাহিনুর বেগমের ছোট ভাই ছানা উল্লাহ বলেন, স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তাদের সন্দেহ। তিনি ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানান।

নিহতের ছেলে জুনাইদ ইসলাম সিফাতও বলেন, বাড়িওয়ালা অনুপস্থিত থাকলে ভাড়ার টাকা তার মায়ের কাছেই রাখা হতো। তাই টাকা বা স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, একজনের পক্ষে চারজনকে হত্যা করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান তিনি।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত শাহিনুর বেগমের ছেলে বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ঘটনার কারণ ও অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৬:১৩:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
৪৬০৪ বার পড়া হয়েছে

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে হত্যা: অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে পুলিশ

আপডেট সময় ০৬:১৩:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরে একটি বাসায় ঢুকে মা ও তিন মেয়েকে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে নিহত পরিবারের একমাত্র ছেলে জুনাইদ ইসলাম সিফাত রায়পুর থানায় মামলাটি করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীরপাড় সড়কের আমির হোসেন মাস্টারের পাঁচতলা ভবনের নিচতলার বাসায় ঢুকে শাহিনুর বেগম (৩৮), তার মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) এবং ফাতেমা আক্তার শিফা (১০)-কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

ঘটনার সময় নিহতদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশী আফরোজা বেগম রানী জানালা দিয়ে বাসার ভেতরে এক অপরিচিত ব্যক্তিকে দেখতে পান। তিনি বাইরে থেকে ভবনের গেট বন্ধ করে দিলে অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন এসে বাসায় চারজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় অভিযুক্ত ছাদ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। পরে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানান, অন্তর মজুমদার প্রায় দেড় বছর একই ভবনের পঞ্চম তলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন। প্রায় আট মাস আগে তিনি অন্যত্র চলে যান। স্বজনদের দাবি, বাড়ির ভাড়ার টাকা শাহিনুর বেগমের কাছেই জমা রাখা হতো এবং তার কাছে স্বর্ণালংকারও ছিল। এ কারণে ডাকাতির উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে তাদের ধারণা।

নিহত শাহিনুর বেগমের ছোট ভাই ছানা উল্লাহ বলেন, স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তাদের সন্দেহ। তিনি ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানান।

নিহতের ছেলে জুনাইদ ইসলাম সিফাতও বলেন, বাড়িওয়ালা অনুপস্থিত থাকলে ভাড়ার টাকা তার মায়ের কাছেই রাখা হতো। তাই টাকা বা স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, একজনের পক্ষে চারজনকে হত্যা করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান তিনি।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত শাহিনুর বেগমের ছেলে বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ঘটনার কারণ ও অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।