ঢাকা ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মিরপুরে বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৪২ জন গ্রেফতার Logo মেহেরপুর সীমান্তে রাস্তা নির্মাণে বিএসএফের বাধার অভিযোগ, পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ বিজিবির Logo পুলিশের শীর্ষ পদে বড় রদবদল, সিআইডি ও হাইওয়ে পুলিশের নতুন প্রধান নিয়োগ Logo সৃজনশীল শিক্ষা ও সবুজায়নের নতুন যাত্রা শুরু সোমবার, ২৯ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo সৌদি আরামকোর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ১৪ Logo আইফোন ১৮ সিরিজে এআই, ক্যামেরা ও ব্যাটারিতে বড় পরিবর্তনের আভাস, আসতে পারে প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন Logo ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িক বাতিলের প্রস্তাব বিএনপি এমপি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের Logo অক্টোবর লক্ষ্য ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি, বলছে ইসি Logo বাংলাদেশে এসে এমপি জাহানদার আলী মিয়া ও রাজৈর থানার ওসির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন ইতালি যুবদল নেতা সুজন মাতুব্বর Logo একাধিক ছাত্র হত্যা মামলার আসামি ইমন মাদবর আটক, কারাগারে প্রেরণ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে হত্যা: অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরে একটি বাসায় ঢুকে মা ও তিন মেয়েকে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে নিহত পরিবারের একমাত্র ছেলে জুনাইদ ইসলাম সিফাত রায়পুর থানায় মামলাটি করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীরপাড় সড়কের আমির হোসেন মাস্টারের পাঁচতলা ভবনের নিচতলার বাসায় ঢুকে শাহিনুর বেগম (৩৮), তার মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) এবং ফাতেমা আক্তার শিফা (১০)-কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

ঘটনার সময় নিহতদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশী আফরোজা বেগম রানী জানালা দিয়ে বাসার ভেতরে এক অপরিচিত ব্যক্তিকে দেখতে পান। তিনি বাইরে থেকে ভবনের গেট বন্ধ করে দিলে অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন এসে বাসায় চারজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় অভিযুক্ত ছাদ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। পরে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানান, অন্তর মজুমদার প্রায় দেড় বছর একই ভবনের পঞ্চম তলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন। প্রায় আট মাস আগে তিনি অন্যত্র চলে যান। স্বজনদের দাবি, বাড়ির ভাড়ার টাকা শাহিনুর বেগমের কাছেই জমা রাখা হতো এবং তার কাছে স্বর্ণালংকারও ছিল। এ কারণে ডাকাতির উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে তাদের ধারণা।

নিহত শাহিনুর বেগমের ছোট ভাই ছানা উল্লাহ বলেন, স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তাদের সন্দেহ। তিনি ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানান।

নিহতের ছেলে জুনাইদ ইসলাম সিফাতও বলেন, বাড়িওয়ালা অনুপস্থিত থাকলে ভাড়ার টাকা তার মায়ের কাছেই রাখা হতো। তাই টাকা বা স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, একজনের পক্ষে চারজনকে হত্যা করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান তিনি।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত শাহিনুর বেগমের ছেলে বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ঘটনার কারণ ও অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৬:১৩:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
৪৫১২ বার পড়া হয়েছে

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে হত্যা: অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে পুলিশ

আপডেট সময় ০৬:১৩:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরে একটি বাসায় ঢুকে মা ও তিন মেয়েকে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে নিহত পরিবারের একমাত্র ছেলে জুনাইদ ইসলাম সিফাত রায়পুর থানায় মামলাটি করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীরপাড় সড়কের আমির হোসেন মাস্টারের পাঁচতলা ভবনের নিচতলার বাসায় ঢুকে শাহিনুর বেগম (৩৮), তার মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) এবং ফাতেমা আক্তার শিফা (১০)-কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

ঘটনার সময় নিহতদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশী আফরোজা বেগম রানী জানালা দিয়ে বাসার ভেতরে এক অপরিচিত ব্যক্তিকে দেখতে পান। তিনি বাইরে থেকে ভবনের গেট বন্ধ করে দিলে অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন এসে বাসায় চারজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় অভিযুক্ত ছাদ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। পরে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানান, অন্তর মজুমদার প্রায় দেড় বছর একই ভবনের পঞ্চম তলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন। প্রায় আট মাস আগে তিনি অন্যত্র চলে যান। স্বজনদের দাবি, বাড়ির ভাড়ার টাকা শাহিনুর বেগমের কাছেই জমা রাখা হতো এবং তার কাছে স্বর্ণালংকারও ছিল। এ কারণে ডাকাতির উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে তাদের ধারণা।

নিহত শাহিনুর বেগমের ছোট ভাই ছানা উল্লাহ বলেন, স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তাদের সন্দেহ। তিনি ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানান।

নিহতের ছেলে জুনাইদ ইসলাম সিফাতও বলেন, বাড়িওয়ালা অনুপস্থিত থাকলে ভাড়ার টাকা তার মায়ের কাছেই রাখা হতো। তাই টাকা বা স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, একজনের পক্ষে চারজনকে হত্যা করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান তিনি।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত শাহিনুর বেগমের ছেলে বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ঘটনার কারণ ও অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।