নেত্রকোনায় জামায়াত এমপির গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর, ৯ জন গ্রেপ্তার
নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাছুম মোস্তফাকে অবরুদ্ধ করা এবং তার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির ১২০ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত ২০ নম্বর আসামি খাইরুল ইসলাম রয়েছেন, বাকি আটজন সন্দেহভাজন।
শুক্রবার রাত সোয়া দুইটার দিকে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী মো. আল আমিন বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় এই মামলাটি করেন। এতে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বিগত নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী আবু তাহের তালুকদারকে প্রধান আসামি করে ৬০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে একটি মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে ফেরার পথে মাছুম মোস্তফা শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের একটি ফিলিং স্টেশনে মাগরিবের নামাজ পড়তে থামেন। এসময় ১৫-২০টি মোটরসাইকেলে আসা একদল যুবক সেখানে হট্টগোল শুরু করে এবং সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত গাড়িটি ভাঙচুর করে। পরে তাঁকে ধাওয়া করে পাম্পের ভেতরেই অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
খবর পেয়ে উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল আলম তালুকদার ও অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে।
এক সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা অভিযোগ করেন, ‘আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এই পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। আমি দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-৫ আসনে জামায়াত নেতা মাছুম মোস্তফা তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবু তাহের তালুকদারকে প্রায় ৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনের পর থেকেই এলাকায় দুই দলের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
























