চট্টগ্রাম কিশোরকে নৃশংস হত্যা র্যাবের অভিযানে দুই জন গ্রেফতার
নিহত ভিকটিম আশফাক কবির সাজিদ (১৭) কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার দাতিনাথালীপাড়া গ্রামের আবুল হাসেম এর ছেলে এবং ভিকটিম আশফাক কবির সাজিদ বিএএফ শাহিন কলেজের একাদশ শ্রেণীর একজন ছাত্র। ভিকটিম লেখাপড়ার সুবাদে চট্টগ্রাম মহানগরীর ডিসি রোড শিশু কবরস্থানের পাশে কেএম মঞ্জিলের ৬ষ্ঠ তলায় ব্যাচেলর হিসেবে ভাড়া বাসায় থাকতো। গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখ বিকাল অনুমান ১৫৩০ ঘটিকার সময় ভিকটিমের বন্ধু ফারদিন হাসানকে মোবাইলে কল দিয়ে বাকলিয়া এক্সেস রোডের মৌসুমি আবাসিকের মোড়ে দেখা করে। সেখান থেকে বৌ বাজার যাওয়ার রাস্তার মুখে একটি টং দোকানের সামনে ভিকটিম আশফাক কবির সাজিদ ও তার বন্ধু ফারদিন হাসান বসে কথা বলছিল, এমন সময় আইমন, অনিক, রানা প্রকাশ মাইকেল রানা, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ এবং মিসকাতুল কায়েসসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন ভিকটিমকে ধারালো চাকুর ভয়ভীতি দেখিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে চায়। পরবর্তীতে অনুমান ১৬২০ ঘটিকার সময় ভিকটিম আশফাক কবির সাজিদ কৌশলে দূর্বৃত্তদের হাত থেকে প্রাণে বাঁচার জন্য দৌড়ে চকবাজার থানাধীন ডিসি রোডস্থ মৌসুমি আবাসিক এলাকার একটি নির্মানাধীন ভবনের ০৮ তলায় প্রবেশ করে প্রধান গেইট আটকে দেয়। পরক্ষণে দুর্বৃত্তরা ভিকটিম আশফাক কবির সাজিদ এর পিছনে ধাওয়া করে উক্ত ভবনের সামনে অবস্থান করে এবং উক্ত ভবনের দারোয়ানকে ভিতরে চোর প্রবেশ করেছে মর্মে অভিযোগ করলে দারোয়ান ভবনের মেইন প্রবেশ গেইট দুর্বৃত্তদের জন্য খুলে দেয়। মেইন গেইট খুলে দেওয়ার পর দূর্বৃত্তরা ভবনের উপরে উঠে ভিকটিমকে ধরে এলোপাথাড়ি মারধর করে ভবনের ৮ম তলার লিফটের খালি জায়গা দিয়ে নিচে ফেলে দেয় এবং গুরুতর রক্তাক্ত জখম অবস্থায় ভিকটিম আশফাক কবির সাজিদ ভবনের নীচতলা লিফট স্থাপনের জন্য নির্ধারিত খালি জায়গার নিচে পড়ে থাকে। পর্বতীতে স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ কল দেয় এবং চকবাজার থানা পুলিশ সংবাদ পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় ভিকটিমকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরিক্ষা নিরীক্ষা শেষে ভিকটিমকে মৃত ঘোষণা করেন। উক্ত নৃশংস এই হত্যাকান্ডের ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হলে ব্যাপক আলোচিত হয়। উক্ত হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে র্যাব গোয়েন্দা নজদারী বৃদ্ধি করে।
উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং-০৪, তারিখ-১৩ এপ্রিল ২০২৬ইং ১৮৬০ ধারা- ৩০২/৩৪, পেনালা কোড ।

র্যাব-৭, চট্টগ্রাম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, উল্লেখিত মামালার এজহারভুক্ত ০৩ নং পলাতক আসামি মোঃ রানা প্রকাশ মাইকেল রানা খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি থানা এলাকায় অবস্থান করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ইং তারিখ আনুমানিক ২১৩০ ঘটিকায় র্যাব-৭, চট্টগ্রাম এর একটি আভিযানিক দল খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি থানাধীন মহামুনি বাস স্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এজাহারনামীয় ০৩ নং আসামি মোঃ রানা প্রকাশ মাইকেল রানা
পিতা-মোঃ হাফেজ, গ্রামঃ রহমতপুর, থানা-সন্দীপ, জেলা-চট্টগ্রাম’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে অদ্য ১৯ এপ্রিল ২০২৬ইং তারিখ আনুমানিক ০২৫৫ ঘটিকায় র্যাব-৭, চট্টগ্রাম এবং র্যাব-০৬, খুলনা এর যৌথ আভিযানিক দল বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট থানাধীন বড় খাজুরার হাট পূর্বপাড়াএলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত মামলার ৪নং এজাহারনামীয় পলাতক আসামি মো: ইলিয়াস (৪৬), পিতা-মৃত নুর আলাম, সাং-দেওয়ান বাজার, থানা-চকবাজার, চট্টগ্রাম মহানগরী’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের সংক্রান্তে পরর্বতী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে তাদের সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।





















