পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় যারা যারা অংশ নিচ্ছেন
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও চলমান উত্তেজনা নিরসনে আবারও আলোচনার টেবিলে বসছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে।
বাইডেন প্রশাসনের পর ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য নীতি ও বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে এই আলোচনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এই শান্তি আলোচনায় দুই দেশের পক্ষ থেকে যারা নেতৃত্ব দেবেন, তাদের তালিকা ও প্রোফাইল ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে যারা থাকছেন:
মার্কিন প্রতিনিধি দলের মূল নেতৃত্বে থাকছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এক সময় ইরান যুদ্ধের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ভ্যান্স সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান এবং ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে ইরানি প্রতিনিধিরা মার্কিন অন্যান্য কর্মকর্তাদের তুলনায় ভ্যান্সের সাথে আলোচনায় বসতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন বলে জানা গেছে।
তার সাথে থাকছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী স্টিভ উইটকফ। তিনি গাজা যুদ্ধবিরতি এবং ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে পুতিনের সাথে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়াও থাকছেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কুশনারের আরব দেশগুলোর নেতাদের সাথে অত্যন্ত গভীর ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে।
ইরানের প্রতিনিধি দলে যারা থাকছেন:
ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তাকে বর্তমান ইরান সরকারের অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রতিনিধি দলে আরও আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। পারমাণবিক চুক্তি বিষয়ক অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ‘আস্থা হারানোর’ কথা বললেও, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এছাড়াও থাকছেন কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত অভিজ্ঞ আলোচক আলি বাঘেরি কানি।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য এই আলোচনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা নিরসনে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে বিশ্ববাসী।





















