ঢাকা ০২:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চাষের মাছে কাদা-কাদা গন্ধ কেন? Logo মোবাইল না দেখলে খেতে চায় না শিশু? যেভাবে বদলাবেন অভ্যাস Logo এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, গড় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ Logo মাড়ি থেকে রক্ত পড়া কি হৃদ্‌রোগের ঝুঁকির ইঙ্গিত? Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo রিয়াদে সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিহত ১৬ বাংলাদেশি Logo ৫ আগস্টের পর দীর্ঘদিন বাংলাদেশেই ছিলাম: সাদ্দাম হোসেন Logo ‘হাসিনা কার্ড’ খেললে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কীভাবে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ সমিতির ১০১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা, ১১ আগস্ট মানববন্ধন Logo এমপিদের বেতন ৫ লাখ ও মন্ত্রীদের ১০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব নুরের নিজস্ব প্রতিবেদক

মোবাইল না দেখলে খেতে চায় না শিশু? যেভাবে বদলাবেন অভ্যাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

অনেক অভিভাবকের অভিযোগ, মোবাইল ফোন না দিলে সন্তান খাবার খেতে চায় না। শিশুকে খাওয়ানোর সুবিধার জন্য শুরুতে মোবাইল বা টেলিভিশন দেখানোর অভ্যাস করালেও পরবর্তী সময়ে সেটি বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে শিশুর স্বাভাবিকভাবে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে শুরু থেকেই সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

শিশুরা মোবাইল দেখে খেতে পছন্দ করে কেন?

খাওয়ার সময় মোবাইলের প্রতি শিশুদের আকর্ষণের পেছনে রয়েছে এর উজ্জ্বল ছবি, শব্দ এবং দ্রুত পরিবর্তন হওয়া দৃশ্য। এসব শিশুর মনোযোগ খাবারের পরিবর্তে পর্দায় আটকে রাখে। ফলে শিশু বায়না না করে খাবার খেয়ে নেয়।

তবে এভাবে খাওয়ার অভ্যাস দীর্ঘদিন চলতে থাকলে শিশু কখন খাচ্ছে, কতটা খাচ্ছে কিংবা তার পেট ভরেছে কি না—এসব স্বাভাবিক সংকেত বুঝতে সমস্যায় পড়তে পারে। এর ফলে ক্ষুধা ও তৃপ্তির স্বাভাবিক বোধে প্রভাব পড়তে পারে। খাবারের প্রতি আগ্রহ কমার পাশাপাশি খাবারের সময় মোবাইলের ওপর নির্ভরশীলতাও তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া মোবাইল দেখে খাওয়ার কারণে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা কিংবা খাবারের স্বাদ, গন্ধ ও গঠন অনুভব করার মতো গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা থেকেও শিশু বঞ্চিত হতে পারে।

ভারতের পুষ্টিবিদ ঋজুতা দিবেকের পরামর্শ অনুযায়ী, শিশুর মোবাইল দেখে খাওয়ার অভ্যাস পরিবর্তনের ক্ষেত্রে হঠাৎ করে ফোন বন্ধ না করে ধীরে ধীরে স্ক্রিন টাইম কমানোর চেষ্টা করা উচিত। পাশাপাশি কয়েকটি কৌশল অনুসরণ করা যেতে পারে।

যেভাবে অভ্যাস পরিবর্তন করবেন

১. খাবারের নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন
মধ্যাহ্নভোজ ও রাতের খাবারের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দিন। নিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস শিশুর শরীরে স্বাভাবিক ক্ষুধার একটি চক্র তৈরি করতে সহায়তা করতে পারে। এতে নির্দিষ্ট সময়ে ক্ষুধা পাওয়ায় মোবাইল ছাড়াই খাওয়ার আগ্রহ তৈরি হতে পারে।

২. পরিবারের সঙ্গে বসে খাওয়ান
শিশুকে একা না খাইয়ে পরিবারের বড়দের সঙ্গে বসে খাওয়ার অভ্যাস করুন। খাবারের সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গল্প বা কথাবার্তায় ব্যস্ত থাকলে শিশুর মনোযোগ মোবাইলের পরিবর্তে খাবার ও পরিবারের দিকে থাকবে।

৩. ধীরে ধীরে খাওয়ার অভ্যাস করুন
তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে খাবার চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। মনস্তত্ত্বে যাকে ‘মাইন্ডফুল ইটিং’ বা সচেতনভাবে খাওয়া বলা হয়, এর মাধ্যমে শিশু খাবারের স্বাদ, গন্ধ ও গঠন সম্পর্কে সচেতন হতে শেখে। এতে খাবারের প্রতি মনোযোগ বাড়তে পারে এবং মোবাইলের ওপর নির্ভরতা কমতে পারে।

তবে এক দিনেই এই অভ্যাস পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। ধীরে ধীরে শিশুর স্ক্রিন টাইম কমিয়ে খাবারের সময় মোবাইলমুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। প্রতিবার শিশু মোবাইল বা টেলিভিশন ছাড়াই খাবার খেলে সেটিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখতে হবে।

অভিভাবকদের ধৈর্য ধরে ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা করতে হবে। হঠাৎ করে কঠোরভাবে ফোন বন্ধ করার পরিবর্তে ধীরে ধীরে বিকল্প অভ্যাস তৈরি করাই শিশুর জন্য বেশি স্বস্তিদায়ক হতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০২:০২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
৪৫০৫ বার পড়া হয়েছে

মোবাইল না দেখলে খেতে চায় না শিশু? যেভাবে বদলাবেন অভ্যাস

আপডেট সময় ০২:০২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

অনেক অভিভাবকের অভিযোগ, মোবাইল ফোন না দিলে সন্তান খাবার খেতে চায় না। শিশুকে খাওয়ানোর সুবিধার জন্য শুরুতে মোবাইল বা টেলিভিশন দেখানোর অভ্যাস করালেও পরবর্তী সময়ে সেটি বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে শিশুর স্বাভাবিকভাবে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে শুরু থেকেই সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

শিশুরা মোবাইল দেখে খেতে পছন্দ করে কেন?

খাওয়ার সময় মোবাইলের প্রতি শিশুদের আকর্ষণের পেছনে রয়েছে এর উজ্জ্বল ছবি, শব্দ এবং দ্রুত পরিবর্তন হওয়া দৃশ্য। এসব শিশুর মনোযোগ খাবারের পরিবর্তে পর্দায় আটকে রাখে। ফলে শিশু বায়না না করে খাবার খেয়ে নেয়।

তবে এভাবে খাওয়ার অভ্যাস দীর্ঘদিন চলতে থাকলে শিশু কখন খাচ্ছে, কতটা খাচ্ছে কিংবা তার পেট ভরেছে কি না—এসব স্বাভাবিক সংকেত বুঝতে সমস্যায় পড়তে পারে। এর ফলে ক্ষুধা ও তৃপ্তির স্বাভাবিক বোধে প্রভাব পড়তে পারে। খাবারের প্রতি আগ্রহ কমার পাশাপাশি খাবারের সময় মোবাইলের ওপর নির্ভরশীলতাও তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া মোবাইল দেখে খাওয়ার কারণে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা কিংবা খাবারের স্বাদ, গন্ধ ও গঠন অনুভব করার মতো গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা থেকেও শিশু বঞ্চিত হতে পারে।

ভারতের পুষ্টিবিদ ঋজুতা দিবেকের পরামর্শ অনুযায়ী, শিশুর মোবাইল দেখে খাওয়ার অভ্যাস পরিবর্তনের ক্ষেত্রে হঠাৎ করে ফোন বন্ধ না করে ধীরে ধীরে স্ক্রিন টাইম কমানোর চেষ্টা করা উচিত। পাশাপাশি কয়েকটি কৌশল অনুসরণ করা যেতে পারে।

যেভাবে অভ্যাস পরিবর্তন করবেন

১. খাবারের নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন
মধ্যাহ্নভোজ ও রাতের খাবারের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দিন। নিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস শিশুর শরীরে স্বাভাবিক ক্ষুধার একটি চক্র তৈরি করতে সহায়তা করতে পারে। এতে নির্দিষ্ট সময়ে ক্ষুধা পাওয়ায় মোবাইল ছাড়াই খাওয়ার আগ্রহ তৈরি হতে পারে।

২. পরিবারের সঙ্গে বসে খাওয়ান
শিশুকে একা না খাইয়ে পরিবারের বড়দের সঙ্গে বসে খাওয়ার অভ্যাস করুন। খাবারের সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গল্প বা কথাবার্তায় ব্যস্ত থাকলে শিশুর মনোযোগ মোবাইলের পরিবর্তে খাবার ও পরিবারের দিকে থাকবে।

৩. ধীরে ধীরে খাওয়ার অভ্যাস করুন
তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে খাবার চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। মনস্তত্ত্বে যাকে ‘মাইন্ডফুল ইটিং’ বা সচেতনভাবে খাওয়া বলা হয়, এর মাধ্যমে শিশু খাবারের স্বাদ, গন্ধ ও গঠন সম্পর্কে সচেতন হতে শেখে। এতে খাবারের প্রতি মনোযোগ বাড়তে পারে এবং মোবাইলের ওপর নির্ভরতা কমতে পারে।

তবে এক দিনেই এই অভ্যাস পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। ধীরে ধীরে শিশুর স্ক্রিন টাইম কমিয়ে খাবারের সময় মোবাইলমুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। প্রতিবার শিশু মোবাইল বা টেলিভিশন ছাড়াই খাবার খেলে সেটিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখতে হবে।

অভিভাবকদের ধৈর্য ধরে ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা করতে হবে। হঠাৎ করে কঠোরভাবে ফোন বন্ধ করার পরিবর্তে ধীরে ধীরে বিকল্প অভ্যাস তৈরি করাই শিশুর জন্য বেশি স্বস্তিদায়ক হতে পারে।