প্রান্তিক মানুষের আইনি সহায়তায় প্যারালিগ্যাল সেবা প্রাতিষ্ঠানিক করার তাগিদ আইনমন্ত্রীর
দেশের প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের দোরগোড়ায় আইনি সহায়তা পৌঁছে দিতে প্যারালিগ্যাল সেবাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ লক্ষ্যে প্যারালিগ্যাল সেবার নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে (এনজিও) সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জনবান্ধব বিচারব্যবস্থা বিনির্মাণে প্যারালিগ্যাল অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, প্যারালিগ্যাল সেবার নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত আগামী দিনের কার্যক্রমের জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেবে। সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি আদালত ও কারাগারের ওপর চাপ কমাতেও প্যারালিগ্যালরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন, যা ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি বলেন, প্যারালিগ্যাল সেবাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া গেলে প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের জন্য আইনি সহায়তা আরও সহজলভ্য হবে।
এ উদ্যোগে সহযোগিতার জন্য জার্মান সরকার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেডের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আইনি সেবা সহজীকরণ এবং প্যারালিগ্যাল সেবাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার এ যাত্রায় তাদের অব্যাহত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
সম্মেলনে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদলের সহযোগিতা বিভাগের প্রধান মাইকেল ক্রেজজা ও জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
সম্মেলনে প্যারালিগ্যাল সেবার ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণে নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এতে প্যারালিগ্যালদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি, সরকার ও এনজিওর যৌথ অংশীদারত্ব, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, সেবার মানদণ্ড নির্ধারণ এবং টেকসই অর্থায়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর। এতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিচার বিভাগের প্রতিনিধি, লিগ্যাল এইড সংস্থা, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এ ছাড়া মালাউই, ফিলিপাইন ও কিরগিজস্তানের বিশেষজ্ঞরা নিজ নিজ দেশের বিচারব্যবস্থায় প্যারালিগ্যাল সেবা অন্তর্ভুক্ত করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।


























