প্রতিদিন এক কাঁধে ব্যাগ বহন করছেন? ঘাড়-পিঠে বাড়তে পারে ব্যথা
বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় ব্যাগটা কি প্রতিদিন একই কাঁধে নেন? অফিসে যাওয়ার পথে ল্যাপটপের ব্যাগ হোক কিংবা বাজারে যাওয়ার সময় ঝোলানো থলে—অভ্যাসবশত অনেকেই শরীরের এক দিকেই ব্যাগের ভার বহন করেন। প্রথম দিকে তেমন অসুবিধা না হলেও দীর্ঘদিন এই অভ্যাস চলতে থাকলে ঘাড়, কাঁধ ও পিঠের পেশিতে চাপ পড়তে পারে। বিশেষ করে ব্যাগ ভারী হলে বা দীর্ঘক্ষণ তা বহন করতে হলে অস্বস্তির আশঙ্কা বাড়ে।
এ কারণেই ছোটবেলা থেকেই স্কুলে যাওয়ার সময় দুই কাঁধে ব্যাগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে শুধু ব্যাগের ওজন নয়, কীভাবে তা বহন করা হচ্ছে, সেটিও শরীরের ওপর চাপের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
এক কাঁধে ব্যাগ নিলে শরীরে কী হয়?
একই কাঁধে নিয়মিত ব্যাগ বহন করলে শরীরের স্বাভাবিক ভঙ্গিতে পরিবর্তন আসতে পারে। ব্যাগের ভার সামলাতে শরীরকে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য একদিকে ঝুঁকতে হতে পারে। কখনো ব্যাগের ভার সামলাতে কাঁধও উপরের দিকে উঠে যায়।
এতে মেরুদণ্ডের দুই পাশের পেশিতে চাপের ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ এভাবে থাকলে পেশিতে ক্লান্তি জমে ঘাড় ও কাঁধে ব্যথা, পিঠের ওপরের অংশে টান কিংবা পেশি শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
যাঁরা নিয়মিত ভারী ব্যাগ বহন করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এ ধরনের অস্বস্তি বাড়তে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা, শরীরের ভঙ্গি ঠিক না রাখা কিংবা আগে থেকেই ঘাড় ও কাঁধে সমস্যা থাকলে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
কীভাবে ব্যাগ বহনের অভ্যাস বদলাবেন?
১. ব্যাগের ওজন কমান
প্রতিদিন ব্যাগে কী কী জিনিস রাখছেন, তা দেখে নিন। প্রয়োজন নেই এমন জিনিস বাদ দিন। ব্যাগ যতটা সম্ভব হালকা রাখার চেষ্টা করুন।
২. দুই কাঁধ ব্যবহার করুন
পিঠে নেওয়ার ব্যাগ হলে দুই স্ট্র্যাপই কাঁধে পরুন। একটি স্ট্র্যাপ ঝুলিয়ে রাখলে শরীরের একদিকে বেশি চাপ পড়তে পারে। দুই কাঁধে ভার ভাগ করে নিলে চাপের অসমতা কমানো সম্ভব।
৩. ব্যাগ শরীরের কাছাকাছি রাখুন
পিঠে নেওয়ার ব্যাগের স্ট্র্যাপ এমনভাবে ঠিক করুন, যাতে ব্যাগটি শরীরের কাছাকাছি থাকে। ব্যাগ খুব নিচে ঝুলে থাকলে ভারসাম্য বজায় রাখতে শরীরের ভঙ্গি বদলাতে হতে পারে।
৪. প্রয়োজনে কাঁধ বদলান
হ্যান্ডব্যাগ বা এক কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ ব্যবহার করলে মাঝে মাঝে কাঁধ বদলে নিন। একই কাঁধে দীর্ঘক্ষণ ভার বহন করা এড়িয়ে চলুন। সম্ভব হলে এমন ব্যাগ ব্যবহার করুন, যাতে ভার দুই কাঁধে ভাগ করা যায়।
৫. নিয়মিত শারীরচর্চা করুন
ঘাড়, কাঁধ, পিঠ ও শরীরের মধ্যভাগের পেশি শক্তিশালী রাখতে নিয়মিত উপযোগী শারীরিক ব্যায়াম করতে পারেন। তবে ব্যথা থাকলে নিজের ইচ্ছেমতো কঠিন ব্যায়াম শুরু না করে চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ব্যাগ বহনের অভ্যাসে পরিবর্তন আনার পরও যদি ব্যথা না কমে, কিংবা হাত অবশ হয়ে আসা, ঝিনঝিন করা বা দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
























