ঢাকা ১০:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রতিদিন এক কাঁধে ব্যাগ বহন করছেন? ঘাড়-পিঠে বাড়তে পারে ব্যথা Logo ২০২৭ বিশ্বকাপ জিতে ট্রফি খরা কাটাতে চায় পাকিস্তান: ফখর জামান Logo গ্রেপ্তারের একদিন পর শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে Logo ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করা যাবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত Logo ট্রেড লাইসেন্স হবে একক অনলাইন পোর্টালে, যৌথ পরিদর্শনের পরিকল্পনা Logo প্রান্তিক মানুষের আইনি সহায়তায় প্যারালিগ্যাল সেবা প্রাতিষ্ঠানিক করার তাগিদ আইনমন্ত্রীর Logo মাদকবিরোধী অভিযানে পিস্তল হাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক, আটক ৬ Logo ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৭২ Logo সাড়ে ৪ ঘণ্টায় প্রধানমন্ত্রীর ১৩ স্থানে আকস্মিক পরিদর্শন Logo অনুমোদন ছাড়াই চলছিল ইনানীর টুপটুপ রিসোর্ট, আগেই দেওয়া হয়েছিল সতর্কবার্তা

ট্রেড লাইসেন্স হবে একক অনলাইন পোর্টালে, যৌথ পরিদর্শনের পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান, প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমোদন নবায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা ও হয়রানি কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ব্যবসায়ীদের সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ে একক অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান এবং একাধিক সংস্থার সমন্বয়ে যৌথ পরিদর্শন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ের অর্থ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ‘ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স অন ডিরেগুলেশন অ্যান্ড বিজনেস ফ্যাসিলিটেশন’-এর প্রথম সভায় এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাস, অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমোদন ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নের বিদ্যমান প্রক্রিয়া নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিদেশি নাগরিকেরা বাংলাদেশে বৈধ ও নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করতে আসেন। এসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত কর পরিশোধ করে এবং তাদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা পরিচালকেরাও দেশের বৈধ নাগরিক। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব নিয়ে আবেদন ও প্রয়োজনীয় প্রত্যয়ন দেওয়ার পরও নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নের ক্ষেত্রে অযৌক্তিক জটিলতা সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমোদন এবং নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নের প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করা প্রয়োজন।

একক অনলাইন পোর্টালে ট্রেড লাইসেন্স

ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান ব্যবস্থায় পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন পৃথক ব্যবস্থায় ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে থাকে। এ প্রক্রিয়াকে একটি সমন্বিত অনলাইন পোর্টালের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থা চালু হলে ব্যবসায়ীরা একটি নির্দিষ্ট পোর্টালে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা, আবেদন ও নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে ঘরে বসেই ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে পারবেন।

পরিকল্পনায় লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রচলিত ট্রেড লাইসেন্সকে ‘বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট’ বা সমজাতীয় নামে রূপান্তরের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে লাইসেন্স প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার পাশাপাশি সময়ক্ষেপণ ও প্রশাসনিক জটিলতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একাধিক সংস্থার যৌথ পরিদর্শন

সভায় জানানো হয়, ব্যবসা ও বিনিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন অনুমোদন, পারমিট ও লাইসেন্স প্রদানে দীর্ঘসূত্রতা এবং একাধিক সংস্থার কার্যক্রমে দ্বৈততা দূর করতে প্রাথমিকভাবে পাঁচটি অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব খাতের প্রতিবন্ধকতা পর্যালোচনা করে অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য খাতেও এ উদ্যোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমাতে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’-এর নেতৃত্বে সমন্বিত পরিদর্শন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়। এ ব্যবস্থায় ভবন নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিবেশগত বিষয়সহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্থার পরিদর্শন পৃথক সময়ে না করে একই দিনে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, পূর্বনির্ধারিত তারিখে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা ইনভেস্ট বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে পরিদর্শন করবেন। এতে একই প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সংস্থার বারবার পরিদর্শনের প্রয়োজন কমবে এবং ব্যবসায়ীদের সময়, ব্যয় ও প্রশাসনিক ভোগান্তি হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসা পরিচালনায় অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ, অনুমোদন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করার ওপর গুরুত্ব দেন। বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারি সেবা সহজ করার পাশাপাশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

এ ছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান, অর্থ বিভাগের সচিব, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি, যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের (আরজেএসসি) নিবন্ধক এবং অর্থ বিভাগের সামষ্টিক অর্থনীতি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।

সভায় ব্যবসা ও বিনিয়োগসংক্রান্ত সেবা আরও গতিশীল ও সহজলভ্য করতে প্রশাসনিক সংস্কার, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় ও সময় কমার পাশাপাশি দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আরও সুসংহত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:৪৫:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
৪৫০৭ বার পড়া হয়েছে

ট্রেড লাইসেন্স হবে একক অনলাইন পোর্টালে, যৌথ পরিদর্শনের পরিকল্পনা

আপডেট সময় ০৯:৪৫:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান, প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমোদন নবায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা ও হয়রানি কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ব্যবসায়ীদের সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ে একক অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান এবং একাধিক সংস্থার সমন্বয়ে যৌথ পরিদর্শন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ের অর্থ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ‘ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স অন ডিরেগুলেশন অ্যান্ড বিজনেস ফ্যাসিলিটেশন’-এর প্রথম সভায় এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাস, অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমোদন ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নের বিদ্যমান প্রক্রিয়া নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিদেশি নাগরিকেরা বাংলাদেশে বৈধ ও নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করতে আসেন। এসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত কর পরিশোধ করে এবং তাদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা পরিচালকেরাও দেশের বৈধ নাগরিক। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব নিয়ে আবেদন ও প্রয়োজনীয় প্রত্যয়ন দেওয়ার পরও নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নের ক্ষেত্রে অযৌক্তিক জটিলতা সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমোদন এবং নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নের প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করা প্রয়োজন।

একক অনলাইন পোর্টালে ট্রেড লাইসেন্স

ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান ব্যবস্থায় পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন পৃথক ব্যবস্থায় ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে থাকে। এ প্রক্রিয়াকে একটি সমন্বিত অনলাইন পোর্টালের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থা চালু হলে ব্যবসায়ীরা একটি নির্দিষ্ট পোর্টালে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা, আবেদন ও নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে ঘরে বসেই ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে পারবেন।

পরিকল্পনায় লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রচলিত ট্রেড লাইসেন্সকে ‘বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট’ বা সমজাতীয় নামে রূপান্তরের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে লাইসেন্স প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার পাশাপাশি সময়ক্ষেপণ ও প্রশাসনিক জটিলতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একাধিক সংস্থার যৌথ পরিদর্শন

সভায় জানানো হয়, ব্যবসা ও বিনিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন অনুমোদন, পারমিট ও লাইসেন্স প্রদানে দীর্ঘসূত্রতা এবং একাধিক সংস্থার কার্যক্রমে দ্বৈততা দূর করতে প্রাথমিকভাবে পাঁচটি অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব খাতের প্রতিবন্ধকতা পর্যালোচনা করে অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য খাতেও এ উদ্যোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমাতে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’-এর নেতৃত্বে সমন্বিত পরিদর্শন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়। এ ব্যবস্থায় ভবন নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিবেশগত বিষয়সহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্থার পরিদর্শন পৃথক সময়ে না করে একই দিনে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, পূর্বনির্ধারিত তারিখে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা ইনভেস্ট বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে পরিদর্শন করবেন। এতে একই প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সংস্থার বারবার পরিদর্শনের প্রয়োজন কমবে এবং ব্যবসায়ীদের সময়, ব্যয় ও প্রশাসনিক ভোগান্তি হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসা পরিচালনায় অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ, অনুমোদন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করার ওপর গুরুত্ব দেন। বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারি সেবা সহজ করার পাশাপাশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

এ ছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান, অর্থ বিভাগের সচিব, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি, যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের (আরজেএসসি) নিবন্ধক এবং অর্থ বিভাগের সামষ্টিক অর্থনীতি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।

সভায় ব্যবসা ও বিনিয়োগসংক্রান্ত সেবা আরও গতিশীল ও সহজলভ্য করতে প্রশাসনিক সংস্কার, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় ও সময় কমার পাশাপাশি দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আরও সুসংহত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।