ঢাকা ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo আবারও ক্যানসারে আক্রান্ত সামিয়া আফরিন, চলছে কেমোথেরাপি Logo সালমান শাহ হত্যা মামলা: খলনায়ক ডনের সাত দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ নিজস্ব প্রতিবেদক Logo বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য বাড়াতে সীমান্ত হাট ও স্থলবন্দর চালুর আলোচনা Logo মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’কে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ নিজস্ব প্রতিবেদক Logo মোহাম্মদপুর হাউজিংয়ে ফ্ল্যাট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ, দুদকে লিখিত অভিযোগ Logo প্রবাসে থেকেও দেশের টানে—বন্ধন-১২ ও আলোকিত-১১ পরিবারের মিলনমেলায় ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত পাটওয়ারী Logo অসুস্থ মিনহাজুল ইসলাম রোজানের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo মোংলা বন্দরের পাশে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, ৬০ হাজার কর্মসংস্থানের লক্ষ্য Logo ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি কে? Logo ভারত সফর হতে হবে সমতা ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে: ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য বাড়াতে সীমান্ত হাট ও স্থলবন্দর চালুর আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।

দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গতিশীল করতে বন্ধ থাকা সীমান্ত হাট পুনরায় চালু, স্থলবন্দরগুলোকে পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যকর করা এবং স্থলপথে সুতা আমদানির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা করেন দুই পক্ষ।

বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে। তবে গত দেড় বছরে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রমে গতি কমেছে। এসব বাধা চিহ্নিত করে বাণিজ্যকে আরও সহজ ও কার্যকর করার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, চীনের পর ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে স্থলবন্দরগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যকর করা, বন্ধ থাকা সীমান্ত হাট পুনরায় চালু এবং স্থলপথে সুতা আমদানির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে যৌথ টাস্কফোর্স গঠন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের প্রস্তাবও বৈঠকে উঠে এসেছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি, ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে গতি ফেরানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ভারতীয় হাইকমিশনারের উদ্যোগে আগামী দিনে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন মাত্রা পাবে।

ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে কিছু মতপার্থক্য থাকলেও উভয় দেশের সাধারণ মানুষ উন্নয়ন ও অগ্রগতি চায়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। কোনো দেশ বড় বা ছোট নয়; উভয় দেশ সমতার ভিত্তিতে কাজ করবে। সম্পর্কের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক যত শক্তিশালী হবে, অন্যান্য ক্ষেত্রেও সহযোগিতার সুযোগ তত বাড়বে।

যৌথ বিনিয়োগ ও উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বিশ্ববাজারে অত্যন্ত সফল। এ খাতে ভারত জিপার, বোতাম, মেশিনারি ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে পারে। এতে দুই দেশের শিল্পখাতের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরতা বাড়বে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা দেখে তিনি গর্ব অনুভব করেন বলেও উল্লেখ করেন। তার মতে, দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতকে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সীমান্ত বাণিজ্যের অবকাঠামো শক্তিশালী করা, ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা কমানো এবং যৌথ বিনিয়োগ ও উৎপাদনের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:১০:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
৪৫০৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য বাড়াতে সীমান্ত হাট ও স্থলবন্দর চালুর আলোচনা

আপডেট সময় ১০:১০:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।

দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গতিশীল করতে বন্ধ থাকা সীমান্ত হাট পুনরায় চালু, স্থলবন্দরগুলোকে পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যকর করা এবং স্থলপথে সুতা আমদানির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা করেন দুই পক্ষ।

বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে। তবে গত দেড় বছরে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রমে গতি কমেছে। এসব বাধা চিহ্নিত করে বাণিজ্যকে আরও সহজ ও কার্যকর করার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, চীনের পর ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে স্থলবন্দরগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যকর করা, বন্ধ থাকা সীমান্ত হাট পুনরায় চালু এবং স্থলপথে সুতা আমদানির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে যৌথ টাস্কফোর্স গঠন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের প্রস্তাবও বৈঠকে উঠে এসেছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি, ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে গতি ফেরানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ভারতীয় হাইকমিশনারের উদ্যোগে আগামী দিনে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন মাত্রা পাবে।

ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে কিছু মতপার্থক্য থাকলেও উভয় দেশের সাধারণ মানুষ উন্নয়ন ও অগ্রগতি চায়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। কোনো দেশ বড় বা ছোট নয়; উভয় দেশ সমতার ভিত্তিতে কাজ করবে। সম্পর্কের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক যত শক্তিশালী হবে, অন্যান্য ক্ষেত্রেও সহযোগিতার সুযোগ তত বাড়বে।

যৌথ বিনিয়োগ ও উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বিশ্ববাজারে অত্যন্ত সফল। এ খাতে ভারত জিপার, বোতাম, মেশিনারি ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে পারে। এতে দুই দেশের শিল্পখাতের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরতা বাড়বে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা দেখে তিনি গর্ব অনুভব করেন বলেও উল্লেখ করেন। তার মতে, দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতকে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সীমান্ত বাণিজ্যের অবকাঠামো শক্তিশালী করা, ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা কমানো এবং যৌথ বিনিয়োগ ও উৎপাদনের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান দুই দেশের প্রতিনিধিরা।