ঢাকা ০৭:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ১২ গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ Logo জামায়াত ফেরেশতাদের দল নয়, ভুল হলে সংশোধন করব: ডা. শফিকুর রহমান Logo জনগণই সরকারের ক্ষমতার মূল উৎস: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন Logo মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে আইইডি বোমা উদ্ধার, নিষ্ক্রিয় করল ডিএমপির বোমা স্কোয়াড Logo রাজধানীর সবুজবাগে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, হাত কেটে বিচ্ছিন্ন Logo পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান মমতার, ‘প্রয়োজনে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনেও যোগ দেব’ Logo মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ কংগ্রেস নেতাদের আটক। Logo উত্তরার সিরাজ মার্কেটে পারিবারিক কলহে ৭ মাসের শিশুসন্তানকে আছড়ে হত্যা, মাদকাসক্ত বাবা গ্রেপ্তার Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নতুন অযোগ্যতার প্রস্তাব ইসির, আইন সংশোধনের সুপারিশ পাঠানো হবে Logo বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গবাদিপশু জবাইয়ে কঠোর বিধিনিষেধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গবাদিপশু জবাইয়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গরু, বলদ, মহিষ ও বাছুরসহ কোনো প্রাণীই যথাযথ সনদ ছাড়া জবাই করা যাবে না।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, নতুন এই নির্দেশিকায় গবাদিপশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে বয়সসীমা, অনুমোদিত জবাই কেন্দ্র এবং আইন লঙ্ঘনের শাস্তির বিধান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বলদ, ষাঁড়, গরু, বাছুর, পুরুষ ও নারী মহিষ, মহিষের বাছুর কিংবা খোজা করা মহিষ জবাই করতে পারবেন না, যদি না সংশ্লিষ্ট প্রাণীকে জবাইয়ের উপযোগী হিসেবে ঘোষণা করে সনদ প্রদান করা হয়।

সনদে উল্লেখ থাকতে হবে যে প্রাণীটির বয়স ১৪ বছরের বেশি এবং সেটি আর কাজ বা প্রজননের উপযোগী নয়। এছাড়া বয়সজনিত দুর্বলতা, আঘাত, বিকৃতি অথবা কোনো অনিরাময়যোগ্য রোগের কারণে প্রাণীটি স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে সেটিও জবাইয়ের অনুমোদনের আওতায় আসবে।

এই সনদ যৌথভাবে ইস্যু করবেন স্থানীয় পৌরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাধিপতি এবং একজন সরকারি পশুচিকিৎসক। কেন পশু জবাই করা হচ্ছে, তার কারণও লিখিতভাবে নথিভুক্ত করতে হবে। কোনো আবেদন বাতিল হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আপিল করতে পারবেন।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনুমোদিত প্রাণীগুলো শুধুমাত্র পৌরসভা নির্ধারিত কসাইখানা অথবা স্থানীয় প্রশাসনের অনুমোদিত স্থানে জবাই করা যাবে। জনসমক্ষে খোলা জায়গায় পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, পৌর চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সভাধিপতি বা সরকারি পশুচিকিৎসকের অনুমোদিত কর্মকর্তারা কোনো স্থাপনা বা জায়গা পরিদর্শনে গেলে তাদের কাজে বাধা দেওয়া যাবে না। নিয়ম বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, এক হাজার রুপি পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এসব অপরাধকে ‘কগনিজেবল’ বা গ্রেপ্তারযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই নির্দেশিকা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট জয়লাভ করে এবং তৃণমূল কংগ্রেস বড় ধাক্কা খায়। নির্বাচনে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে পরাজিত করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:১৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
৪৫৫২ বার পড়া হয়েছে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গবাদিপশু জবাইয়ে কঠোর বিধিনিষেধ

আপডেট সময় ০৮:১৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গবাদিপশু জবাইয়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গরু, বলদ, মহিষ ও বাছুরসহ কোনো প্রাণীই যথাযথ সনদ ছাড়া জবাই করা যাবে না।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, নতুন এই নির্দেশিকায় গবাদিপশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে বয়সসীমা, অনুমোদিত জবাই কেন্দ্র এবং আইন লঙ্ঘনের শাস্তির বিধান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বলদ, ষাঁড়, গরু, বাছুর, পুরুষ ও নারী মহিষ, মহিষের বাছুর কিংবা খোজা করা মহিষ জবাই করতে পারবেন না, যদি না সংশ্লিষ্ট প্রাণীকে জবাইয়ের উপযোগী হিসেবে ঘোষণা করে সনদ প্রদান করা হয়।

সনদে উল্লেখ থাকতে হবে যে প্রাণীটির বয়স ১৪ বছরের বেশি এবং সেটি আর কাজ বা প্রজননের উপযোগী নয়। এছাড়া বয়সজনিত দুর্বলতা, আঘাত, বিকৃতি অথবা কোনো অনিরাময়যোগ্য রোগের কারণে প্রাণীটি স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে সেটিও জবাইয়ের অনুমোদনের আওতায় আসবে।

এই সনদ যৌথভাবে ইস্যু করবেন স্থানীয় পৌরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাধিপতি এবং একজন সরকারি পশুচিকিৎসক। কেন পশু জবাই করা হচ্ছে, তার কারণও লিখিতভাবে নথিভুক্ত করতে হবে। কোনো আবেদন বাতিল হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আপিল করতে পারবেন।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনুমোদিত প্রাণীগুলো শুধুমাত্র পৌরসভা নির্ধারিত কসাইখানা অথবা স্থানীয় প্রশাসনের অনুমোদিত স্থানে জবাই করা যাবে। জনসমক্ষে খোলা জায়গায় পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, পৌর চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সভাধিপতি বা সরকারি পশুচিকিৎসকের অনুমোদিত কর্মকর্তারা কোনো স্থাপনা বা জায়গা পরিদর্শনে গেলে তাদের কাজে বাধা দেওয়া যাবে না। নিয়ম বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, এক হাজার রুপি পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এসব অপরাধকে ‘কগনিজেবল’ বা গ্রেপ্তারযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই নির্দেশিকা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট জয়লাভ করে এবং তৃণমূল কংগ্রেস বড় ধাক্কা খায়। নির্বাচনে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে পরাজিত করেন।