গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় মা ও তিন মেয়েসহ পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি মো. ফোরকান মোল্লার সন্ধান এখনো মেলেনি। তবে ঘটনার পর পদ্মা সেতু থেকে এক ব্যক্তির নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার ভিডিও ফুটেজ পেয়েছে পুলিশ। ওই ব্যক্তিকে ফোরকান বলে ধারণা করা হলেও নিহতদের স্বজনেরা শতভাগ নিশ্চিত হতে পারেননি।
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে গাজীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন।
গত ৯ মে গাজীপুরের কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামে শারমিন (৩৫), তাঁর মেয়ে মিম (১৬), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শারমিনের ভাই রসুলের (২২) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শারমিনের স্বামী ফোরকান মোল্লাকে প্রধান আসামি করে কাপাসিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ফোরকানের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকায়। প্রায় ছয় মাস আগে তিনি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে রাউৎকোনা গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ১১ মে আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন মেহেরপুর সদর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে জানা যায়, একটি ট্রাকের হেলপার পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি অংশে রেলিংয়ের পাশে পড়ে থাকা মোবাইল ফোনটি কুড়িয়ে নিয়েছিলেন।
পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ দেখতে পায়, ১১ মে সকাল ৬টা ৪২ মিনিটে সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা এক ব্যক্তি একটি সাদা প্রাইভেট কার থেকে নেমে রেলিংয়ের পাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। পরে তিনি রেলিং টপকে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেন।
ভিডিও ফুটেজটি ফোরকানের স্বজনদের দেখানো হলে তাঁরা ধারণা করেন, ঝাঁপ দেওয়া ব্যক্তি ফোরকান হতে পারেন। তবে তাঁরা বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি।
পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, “লাশ উদ্ধার ও ডিএনএ পরীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ৮ মে রাতে ফোরকান তাঁর শ্যালক রসুল মোল্লাকে গার্মেন্টসে চাকরি দেওয়ার কথা বলে গোপালগঞ্জ থেকে কাপাসিয়ার বাসায় নিয়ে আসেন। এরপর রাতের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ বা অচেতনকারী পদার্থ মিশিয়ে স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালককে অচেতন করা হয়। পরে চারজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং একজনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে ধারণা করছে পুলিশ।